সাম্প্রতিক বন্যায় চট্টগ্রাম বিভাগের প্রাণিসম্পদ খাতে প্রায় ৭৭ কোটি ১৫ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এতে গবাদিপশু, হাঁস-মুরগি, খামার, পশুখাদ্য ও চারণভূমির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে বলে বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ দপ্তরের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানের ৪৫টি উপজেলার ১৯১টি ইউনিয়ন বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এ সময় ১ লাখ ৬১ হাজার ৩৯৪টি গবাদিপশু, হাঁস ও মুরগি মারা গেছে। পাশাপাশি ৩৩ লাখ ৩৩ হাজার ৬৪২টি গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগি এবং ১০ হাজার ৯৯১টি খামার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ক্ষয়ক্ষতির মধ্যে রয়েছে- গবাদিপশুর ৪ হাজার ৭৫৬টি খামারে প্রায় ১৭ কোটি ৫৫ লাখ টাকা, হাঁস-মুরগির ৬ হাজার ২৩৫টি খামারে প্রায় ১৯ কোটি ৭৩ লাখ টাকা, ৯১০ টন দানাদার পশুখাদ্যে ৫ কোটি ১৮ লাখ টাকা, ১৪ হাজার ২৬৫ টন খড়ে ২১ কোটি ৫৭ লাখ টাকা, ৯ হাজার ১২৯ টন ঘাসে ৮ কোটি ২৬ লাখ টাকা এবং মৃত গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগির কারণে প্রায় ৪ কোটি ৮৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।
এ ছাড়া বন্যায় বিভাগের পাঁচ জেলায় ১০ হাজার ৪৮০ একর চারণভূমি প্লাবিত হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কক্সবাজারের চারণভূমি।
প্রাণিসম্পদ দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, মোট আর্থিক ক্ষতির প্রায় ৭৮ শতাংশই চট্টগ্রাম জেলায় হয়েছে। প্রাণিহানির বড় অংশই পোলট্রি খাতে হওয়ায় এবং পশুখাদ্য, খড় ও ঘাসের ব্যাপক ক্ষতির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত খামারিদের উৎপাদন স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
আরু/


