আগামী বছরের পবিত্র হজ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য দ্বিতীয় পর্যায়ে শর্তসাপেক্ষে আরও ১২৩টি বেসরকারি হজ এজেন্সিকে অনুমতি দিয়েছে ধর্ম মন্ত্রণালয়।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
এর আগে গত ১৯ জুলাই প্রথম ধাপে ৩৫৭টি হজ এজেন্সিকে অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। ফলে দুই ধাপে মোট ৪৮০টি বেসরকারি হজ এজেন্সি ২০২৭ সালের হজ মৌসুমে হজযাত্রী নিবন্ধন ও ব্যবস্থাপনায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পেল।
ধর্ম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, অনুমোদনপ্রাপ্ত প্রতিটি এজেন্সিকে নির্ধারিত শর্ত মেনে কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। কোনো এজেন্সি যৌক্তিক কারণ ছাড়া ২০২৭ সালের হজ মৌসুমে হজযাত্রীদের চূড়ান্ত নিবন্ধন না করলে তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, হজযাত্রী নিবন্ধনের আগে তালিকাভুক্ত এজেন্সিগুলোকে পারস্পরিক সমন্বয়ের মাধ্যমে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে গ্রুপ গঠন করতে হবে। সৌদি আরব সরকারের নির্ধারিত ন্যূনতম কোটা পূরণ করতে পারলেই কোনো এজেন্সি এককভাবে অথবা সমন্বয়ের মাধ্যমে হজযাত্রী পাঠাতে পারবে।
এজেন্সিগুলোকে ই-হজ সিস্টেমে সরকার ঘোষিত প্যাকেজ অনুযায়ী হজযাত্রী নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হবে। এই প্যাকেজই হজযাত্রী ও এজেন্সির মধ্যে আনুষ্ঠানিক চুক্তিপত্র হিসেবে বিবেচিত হবে। প্যাকেজে সৌদি আরবে প্রদেয় সেবা, অবস্থানকাল, হোটেলের দূরত্ব এবং প্যাকেজের মূল্য বাধ্যতামূলকভাবে উল্লেখ করতে হবে।
মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রতিটি এজেন্সিকে ন্যূনতম ৪৪ জন হজযাত্রী নিবন্ধন করতে হবে। এই সংখ্যার ভিত্তিতে একজন হজ গাইড নিয়োগের সুযোগ থাকবে। কোনো এজেন্সি এই সংখ্যা পূরণ করতে না পারলে তাদের নিবন্ধিত হজযাত্রীদের লিড এজেন্সির অধীন অন্য এজেন্সিতে স্থানান্তরের মাধ্যমে হজ পালনের ব্যবস্থা করতে হবে।
এ ছাড়া প্রতি ৪৪ জন হজযাত্রীর জন্য আরবি ভাষায় দক্ষ, তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ে পারদর্শী এবং হজ ব্যবস্থাপনায় অভিজ্ঞ একজন গাইড নিয়োগ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ই-হজ সিস্টেমে গাইড যুক্ত করার সময় তার পাসপোর্ট ও পূর্ব অভিজ্ঞতার তথ্যও সংযুক্ত করতে হবে।
ধর্ম মন্ত্রণালয় কঠোরভাবে জানিয়েছে, অনিবন্ধিত কোনো ব্যক্তিকে হজযাত্রী হিসেবে সৌদি আরবে পাঠানোর চেষ্টা করলে সংশ্লিষ্ট এজেন্সির লাইসেন্স বাতিলসহ প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে যেসব এজেন্সি এখনো অনুমোদন পায়নি, তারা প্রয়োজনীয় হালনাগাদ কাগজপত্রসহ আবেদন করলে যাচাই-বাছাই শেষে পরবর্তী যোগ্য তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ার সুযোগ পাবে। তবে যোগ্য তালিকায় অন্তর্ভুক্ত কোনো এজেন্সির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে কারণ দর্শানোর সুযোগ ছাড়াই তাদের নাম বাতিল করা হবে।
ধর্ম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত লাইসেন্স নবায়নের শর্তে এজেন্সিগুলোকে যোগ্য তালিকায় রাখা হয়েছে। যেসব এজেন্সির লাইসেন্স আগামী বছরের জুনের মধ্যে শেষ হবে, তাদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নবায়ন করতে হবে।
এ ছাড়া প্রতিটি এজেন্সিকে হালনাগাদ হজ লাইসেন্স, ট্রাভেল লাইসেন্স, ট্রেড লাইসেন্স ও আয়কর সনদ জমা দিয়ে ঢাকা হজ অফিসের পরিচালকের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর করতে হবে। যোগ্য তালিকাভুক্ত নয় এমন এজেন্সিগুলোর প্রাক-নিবন্ধন কার্যক্রম আপাতত বন্ধ থাকবে। পরবর্তীতে যোগ্য তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হলে তাদের প্রাক-নিবন্ধন কার্যক্রম চালুর সুযোগ দেওয়া হবে।
আরু/


