বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) বাংলাদেশে হামের দ্রুত বিস্তার নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সংস্থাটির সর্বশেষ নজরদারি প্রতিবেদনে দেখা গেছে, গত ছয় মাসে বিশ্বে সর্বোচ্চ সংখ্যক হামের সংক্রমণ রেকর্ড হয়েছে বাংলাদেশে। ফলে পরিস্থিতি মোকাবিলায় জরুরি ভিত্তিতে টিকাদান কর্মসূচি জোরদারের আহ্বান জানিয়েছে ডব্লিউএইচও।
ডব্লিউএইচওর জুলাই ২০২৬ সালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নভেম্বর ২০২৫ থেকে এপ্রিল ২০২৬ পর্যন্ত ভারতে সর্বাধিক রোগী শনাক্ত হলেও পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশে সংক্রমণ আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। সর্বশেষ পরিসংখ্যানে বাংলাদেশ বিশ্বে হামে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত দেশের তালিকায় উঠে এসেছে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের বিভিন্ন জেলায় শিশুদের মধ্যে টিকাদানের ঘাটতি এবং নিয়মিত এমআর (হাম-রুবেলা) টিকাদান কর্মসূচিতে বিঘ্ন ঘটায় সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের এক গবেষণায় দেখা গেছে, হামে আক্রান্ত শিশুদের প্রায় ৮০ শতাংশই টিকা নেয়নি। এছাড়া হামে মারা যাওয়া শিশুদের ৫২ শতাংশের বয়স ছিল ৯ মাসেরও কম।
ডব্লিউএইচও জানিয়েছে, বর্তমানে বাংলাদেশের ৬৪ জেলার মধ্যে ৫৮ জেলায় হামের প্রাদুর্ভাব ছড়িয়ে পড়েছে। আক্রান্তদের অধিকাংশই পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু।
সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, দ্রুত টিকাদান বাড়ানো না গেলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে এবং প্রতিবেশী দেশগুলোতেও সংক্রমণ ছড়ানোর ঝুঁকি রয়েছে।
এদিকে বৈশ্বিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোভিড-১৯ মহামারির পর অনেক দেশে নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি ব্যাহত হওয়ায় বিশ্বজুড়েই হামের সংক্রমণ আবার বাড়ছে। ডব্লিউএইচও ও আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য সংস্থাগুলো শিশুদের নির্ধারিত সময়ে হাম-রুবেলার দুই ডোজ টিকা নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে।
আরু/


