ভারতের রাজধানী দিল্লিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ঘিরে উত্তেজনা থামছেই না। সোমবারের সংঘর্ষের পর মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সকালেও আন্দোলনকারীরা আবার যন্তর মন্তরে জড়ো হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেখানে বিপুলসংখ্যক পুলিশ ও র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স (আরএএফ) মোতায়েন করা হয়েছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দু, এনডিটিভিসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার ‘সংসদ চলো’ কর্মসূচিতে হাজারো শিক্ষার্থী দিল্লির রাস্তায় নেমে আসেন। কয়েক স্তরের ব্যারিকেড, প্রায় তিন হাজার নিরাপত্তাকর্মী এবং কিছু এলাকায় ইন্টারনেট সেবা সীমিত রাখার পরও বিক্ষোভকারীদের একটি বড় অংশ সংসদ ভবনের খুব কাছাকাছি পৌঁছে যায়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ ও লাঠিচার্জ করে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, যন্তর মন্তর থেকে রাইসিনা মার্গ হয়ে সংসদের দিকে অগ্রসর হওয়া বিক্ষোভকারীদের প্রথমে খুব বেশি বাধা দেওয়া হয়নি। পরে সংসদ ভবন থেকে প্রায় ১০০ মিটার দূরে বাস আড়াআড়িভাবে রেখে তাদের থামানোর চেষ্টা করা হয়। তবে আন্দোলনকারীদের একটি অংশ ব্যারিকেড ভেঙে সামনে এগিয়ে যায়।
প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদ থেকে আন্দোলনের বিস্তার
এই আন্দোলনের সূচনা হয় নিট (NEET) পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগকে কেন্দ্র করে। আন্দোলনকারীরা কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ, প্রশ্নপত্র ফাঁসের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরীক্ষার্থীদের জন্য ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়ে সংসদ ভবন ঘেরাওয়ের ডাক দেয়।
দিল্লি পুলিশের দাবি, সোমবারের সংঘর্ষে শতাধিক পুলিশ সদস্য এবং ৬০ জনের বেশি বিক্ষোভকারী আহত হয়েছেন। প্রায় ৭০ জনকে আটক করা হয়েছে এবং সহিংসতা ও ভাঙচুরের অভিযোগে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।
অন্যদিকে আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করেছে পুলিশ। তারা লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহারের সমালোচনা করে।
সরকারের সঙ্গে বৈঠক, তবুও আন্দোলন চলবে
উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেই সোমবার আন্দোলনকারীদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেপি নাড্ডা। বৈঠকে তিনটি প্রধান দাবি তুলে ধরা হয়—
- সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুকের ওপর আরোপিত সব বিধিনিষেধ প্রত্যাহার,
- শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ,
- নিট-২০২৬ প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় আত্মহত্যা করা পরীক্ষার্থীদের পরিবারকে এক কোটি রুপি করে ক্ষতিপূরণ।
বৈঠক শেষে আন্দোলনের প্রতিনিধিরা জানান, সরকার দাবিগুলো বিবেচনার আশ্বাস দিলেও কোনো সুনির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি দেয়নি। ফলে দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
আন্দোলনে নতুন মাত্রা যোগ করেছেন সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক। ১৮ জুলাই যন্তর মন্তর থেকে সরিয়ে নেওয়ার পর তিনি দিল্লির একটি হাসপাতালে অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন।
তাঁর ঘোষণা, আন্দোলনকারীদের সংসদ সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ না দেওয়া পর্যন্ত কিংবা সংসদ সদস্যরা হাসপাতালে এসে তাঁর সঙ্গে দেখা না করা পর্যন্ত তিনি অনশন ভাঙবেন না।
সোমবারের সংঘর্ষের পর পুলিশ যন্তর মন্তরের আন্দোলনের মঞ্চ ও তাঁবু সরিয়ে দিলেও মঙ্গলবার ভোর থেকেই আবার সেখানে জড়ো হতে শুরু করেন আন্দোলনকারীরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, আলোচনার উদ্যোগ শুরু হলেও দাবিগুলো পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত থাকলে দিল্লির রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হতে পারে।
আরু/


