ভারতের পাকিস্তান ও বাংলাদেশ সীমান্তসংলগ্ন অঞ্চল, প্রধান মহানগরী এবং শিল্পাঞ্চলগুলোর জনসংখ্যাগত পরিবর্তন পর্যবেক্ষণের জন্য একটি উচ্চ-পর্যায়ের বিশেষ কমিটি গঠন করেছে দেশটির কেন্দ্রীয় সরকার। বিচারপতি প্রকাশ প্রভাকর নাওলেকরের নেতৃত্বাধীন এই কমিটি অভিবাসন প্রবণতা, জাতীয় নিরাপত্তার প্রভাব এবং জনসংখ্যার সামগ্রিক পরিবর্তন গভীরভাবে বিশ্লেষণ করবে।
সরকারি সূত্র অনুযায়ী, ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ২০২৬ সালের মে মাসে এই কমিটি গঠন করে। কমিটিকে এক বছরের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এই উদ্যোগটি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ২০২৫ সালের ১৫ আগস্ট লাল কেল্লার ভাষণের পরিপ্রেক্ষিতে নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। ওই ভাষণে তিনি কিছু অঞ্চলে “অস্বাভাবিক জনসংখ্যাগত পরিবর্তন” নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন।
ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র ও সমবায় মন্ত্রী অমিত শাহ সম্প্রতি এই কমিটির কার্যক্রম নিয়ে উচ্চপর্যায়ের পর্যালোচনা বৈঠক করেছেন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, কমিটি ইতিমধ্যে প্রথম বৈঠক সম্পন্ন করেছে এবং কর্মপরিকল্পনা চূড়ান্ত করেছে।
আগামী মাসগুলোতে কমিটির সদস্যরা সীমান্তবর্তী রাজ্যসহ বিভিন্ন সংবেদনশীল এলাকায় সরেজমিনে পরিদর্শন করবেন। পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসন, নিরাপত্তা বাহিনী, জনপ্রতিনিধি ও বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন।
কমিটির প্রধান মনোযোগ থাকবে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান সীমান্তসংলগ্ন ভারতীয় রাজ্যগুলো—বিশেষ করে আসাম, পশ্চিমবঙ্গ এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চল।
একই সঙ্গে দিল্লি, মুম্বাই, বেঙ্গালুরু, হায়দরাবাদ, গুরুগ্রাম, নয়ডা, আহমেদাবাদ ও পুনের মতো বড় শহরগুলোর জনসংখ্যা বৃদ্ধি এবং অভিবাসন পরিস্থিতিও পর্যালোচনা করা হবে।
সরকারি ভাষ্যমতে, জন্মহার, মৃত্যুহার, অভ্যন্তরীণ স্থানান্তর এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে স্বাভাবিক জনসংখ্যা পরিবর্তন ঘটে। তবে কমিটির প্রধান লক্ষ্য হবে অবৈধ অনুপ্রবেশ, অনিয়ন্ত্রিত অভিবাসন এবং পরিচয়পত্র জালিয়াতির মতো বিষয়গুলো বিশ্লেষণ করা।
সরকার মনে করছে, জনসংখ্যার অস্বাভাবিক পরিবর্তন সামাজিক কাঠামো, আইনশৃঙ্খলা, সরকারি সেবা এবং স্থানীয় সম্পদের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই কমিটির প্রতিবেদন অনুযায়ী ভবিষ্যতে সীমান্ত ব্যবস্থাপনা আরও কঠোর করা, পরিচয় যাচাই ব্যবস্থা শক্তিশালী করা এবং অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে নতুন নীতি গ্রহণ করা হতে পারে।
ভারত সরকার জনসংখ্যাগত পরিবর্তনকে এখন শুধু পরিসংখ্যানগত বিষয় হিসেবে না দেখে জাতীয় নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচনা করছে। কমিটির চূড়ান্ত প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে ভবিষ্যতে বড় নীতিগত সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে
আরু/



