খুলনার কয়রা উপজেলায় কোরবানির ঈদ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিলের অর্থ বণ্টন ও উপকারভোগীর তালিকা প্রণয়ন নিয়ে নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। তালিকায় সংসদ সদস্যের ব্যক্তিগত সহকারী (এপিএস), আত্মীয়স্বজন এবং দলীয় নেতাকর্মীদের নাম অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও খুলনা-৬ (কয়রা-পাইকগাছা) আসনের সংসদ সদস্য আবুল কালাম আজাদ–এর ব্যক্তিগত সহকারী (এপিএস) আবু ওবাইদার নাম উপকারভোগীর তালিকার তিন নম্বরে রয়েছে। এছাড়া সংসদ সদস্যের ভাগনে আহসান হাবিব, উপজেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি আসমাতুল্লাহ এবং কয়রা সদর ইউনিয়ন ছাত্রশিবিরের সভাপতি মাজহারুল ইসলামের নামও তালিকায় রয়েছে বলে জানা গেছে।
কয়রা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আব্দুল্লাহ আল বাকী বলেন, নিয়ম অনুযায়ী ত্রাণ তহবিলের অর্থ হতদরিদ্র ও দুস্থ মানুষের মধ্যে বিতরণ হওয়ার কথা। তবে বিশেষ উৎসব উপলক্ষে বরাদ্দের তালিকা অনেক সময় সংসদ সদস্যদের পক্ষ থেকেই প্রস্তুত করা হয়ে থাকে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও সংবাদকর্মী ইউনুস আলীর দাবি, তালিকাভুক্ত কয়েকজন ব্যক্তি অর্থনৈতিকভাবে সচ্ছল এবং তাদের মধ্যে অনেকে দলীয় রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত।
তিনি বলেন, আবু ওবাইদার পরিবার এলাকায় সম্পদশালী হিসেবে পরিচিত এবং তার স্ত্রী একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা।
অভিযোগ রয়েছে, সংসদ সদস্যের আত্মীয়স্বজন ও দলীয় নেতাকর্মীদের চার হাজার টাকা করে দেওয়া হলেও সাধারণ উপকারভোগীদের দুই হাজার টাকা করে দেওয়া হয়েছে।
তালিকাভুক্ত কয়েকজন নারী উপকারভোগী জানান, ঈদের আগে উপজেলা পরিষদে ডেকে তাদের দুই হাজার টাকা দেওয়া হয় এবং এটি সংসদ সদস্যের পক্ষ থেকে ঈদ উপহার বলে জানানো হয়।
কয়রা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, কোরবানির ঈদ উপলক্ষে সংসদ সদস্যের অনুকূলে ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিল থেকে ১০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। এর মধ্যে কয়রা উপজেলায় ২০১ জনের মধ্যে চার লাখ ১৫ হাজার টাকা বিতরণ দেখানো হয়েছে। বাকি অর্থ পাইকগাছা উপজেলায় বিতরণের কথা রয়েছে।
এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে সংসদ সদস্যের এপিএস আবু ওবাইদা বলেন, “এই তালিকা আপনাদের কাছে থাকার কথা নয়। এটি গোপন থাকার কথা ছিল।” তবে অর্থ বণ্টনের অভিযোগ সম্পর্কে তিনি বিস্তারিত মন্তব্য করতে রাজি হননি।
সংসদ সদস্য আবুল কালাম আজাদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে কয়রা উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মিজানুর রহমান দাবি করেন, তালিকাভুক্ত অধিকাংশই দরিদ্র ও অসহায় মানুষ। কিছু দলীয় কর্মীর নাম থাকতে পারে, তবে তারাও আর্থিকভাবে অসচ্ছল বলে তিনি উল্লেখ করেন। এপিএসের নাম তালিকায় কীভাবে এসেছে, সে বিষয়ে তিনি অবগত নন বলে জানান।
কয়রা উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক নুরুল আমিন বাবুল অভিযোগ করেন, প্রকৃত দরিদ্রদের বঞ্চিত করে দলীয় নেতাকর্মী ও আত্মীয়স্বজনকে ত্রাণ তহবিলের অর্থ দেওয়া হয়েছে। তিনি বিষয়টি অনৈতিক বলে মন্তব্য করেন।
এদিকে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) খুলনা জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক কুদরত-ই-খুদা বলেন, ত্রাণ তহবিলের অর্থ যদি প্রকৃত সুবিধাভোগীদের পরিবর্তে সচ্ছল ব্যক্তি বা রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালীদের মধ্যে বিতরণ করা হয়, তবে তা অন্যায়। সুশাসন নিশ্চিত করতে রাজনৈতিক প্রভাব ও স্বজনপ্রীতির ঊর্ধ্বে উঠে রাষ্ট্রীয় সম্পদের সুষ্ঠু বণ্টন নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।
আরু/



