নির্বাচনী হলফনামায় মিথ্যা তথ্য দেওয়ার অভিযোগে হাতিয়ার সংসদ সদস্য (এমপি) হান্নান মাসউদের পদ বাতিলের দাবি জানিয়েছেন বিএনপি নেতা রাশেদ খান।
বিষয়টি নিয়ে আজ সোমবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টে কড়া সমালোচনা করেন তিনি।
রাশেদ খান দাবি করেন, সম্প্রতি একটি টেলিভিশন টকশোতে অংশ নিয়ে হান্নান মাসউদ স্বীকার করেছেন যে, তিনি তার আইনজীবীর পরামর্শে হলফনামায় অসত্য তথ্য দিয়েছেন। ভবিষ্যতে ব্যবসা-বাণিজ্য ও আয়কর রিটার্ন দাখিলের ক্ষেত্রে বাড়তি সুবিধার জন্যই এই কাজ করেছেন বলে টকশোতে উল্লেখ করেন তিনি।
ফেসবুক পোস্টে রাশেদ খান বলেন, ‘হলফনামায় মিথ্যা তথ্য দেওয়ার অপরাধে কি বাতিল হচ্ছে হান্নান মাসউদের এমপি পদ? তিনি তার হলফনামায় দাবি করেছেন, তার কোনো স্থাবর সম্পদ নেই। অথচ বাস্তব চিত্র ভিন্ন। তার দেওয়া তথ্যগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা।’
হান্নান মাসউদের আর্থিক স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে রাশেদ খান বলেন, ‘কিছুদিন আগেই হান্নান মাসউদ দাবি করেছিলেন, তিনি তার সহধর্মিণীর সেমিস্টার ফি পরিশোধ করেছেন অন্যের কাছ থেকে ধার করে। নতুন বাড়ি করার জন্য ইট কিনেও ৩ লাখ টাকা শোধ করতে পারছেন না। একজন এমপি এতো গরিব আর এতো সৎ! তাহলে হলফনামায় এই সততা কেন ফুটিয়ে তুললেন না তিনি?’
হলফনামায় মিথ্যা তথ্যের পরিণতির বিষয়ে রাশেদ খান নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহর একটি বক্তব্য উল্লেখ করেন। ২০২৫ সালের ১১ আগস্ট দেওয়া সেই বক্তব্যে কমিশনার বলেছিলেন, ‘কোনো প্রার্থী হলফনামায় মিথ্যা তথ্য দিলে ভোটের পরেও নির্বাচন কমিশন (ইসি) তা তদন্ত করবে। এক্ষেত্রে সত্যতা মিললে প্রার্থিতা বাতিল হবে এবং সংসদ সদস্য (এমপি) পদ চলে যাবে। এটি সুনির্দিষ্টভাবে আরপিওতে সন্নিবেশ করা হয়েছে।’
রাশেদ খান মনে করেন, হান্নান মাসউদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো গুরুতর এবং আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি রাখে। তবে এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্যের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বিষয়টি এখন স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
আরু/



