দীর্ঘদিনের উত্তেজনা ও সংঘাতের পর অবশেষে যুদ্ধ বন্ধে একটি সমঝোতায় পৌঁছেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। শান্তি আলোচনায় মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ সোমবার (১৫ জুন) ভোররাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ তথ্য জানিয়েছেন।
তিনি জানান, চুক্তি অনুযায়ী আগামী শুক্রবার (১৯ জুন) থেকে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য পুনরায় খুলে দেওয়া হবে হরমুজ প্রণালি। একই সঙ্গে উভয় পক্ষ সব ধরনের সামরিক অভিযান অবিলম্বে ও স্থায়ীভাবে বন্ধ করতে সম্মত হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় শেহবাজ শরিফ বলেন, সমঝোতা স্মারকে সম্মতি হওয়ার পর মধ্যস্থতাকারীরা এ সপ্তাহে একাধিক প্রাক-বাস্তবায়ন বৈঠকের আয়োজন করবেন। এসব বৈঠকে চুক্তি বাস্তবায়নের কারিগরি ও প্রশাসনিক বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে।
তিনি আরও জানান, আগামী শুক্রবার (১৯ জুন) সুইজারল্যান্ডে চুক্তি স্বাক্ষরের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হবে। আলোচনায় সহায়তার জন্য কাতারকেও ধন্যবাদ জানান পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী।
তবে চুক্তির বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি দেয়নি ইরান সরকার। যদিও দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে এ সংক্রান্ত খবর প্রচার করা হয়েছে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর বিবৃতির বরাত দিয়ে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর তথ্য প্রকাশ করেছে।
এদিকে তাসনিম সংবাদ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গরিবাবাদি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র চুক্তির আওতায় তার প্রতিশ্রুতিগুলো—যার মধ্যে শত্রুতা বন্ধ, অবরোধ প্রত্যাহার এবং সম্পদ হস্তান্তরের বিষয় রয়েছে—বাস্তবায়ন করেছে কি না, তা যাচাই করার পর ৬০ দিনব্যাপী চূড়ান্ত চুক্তির আলোচনা চলবে।
গরিবাবাদি বলেন, নির্ধারিত দিনে দুই দেশের প্রতিনিধিদল বৈঠকে বসবে এবং ভবিষ্যৎ আলোচনার কাঠামো নির্ধারণ করবে। আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষর প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর চুক্তির পূর্ণাঙ্গ বিবরণ প্রকাশ করা হবে।
তিনি আরও বলেন, “এই সমঝোতা স্মারকের অর্থ শত্রুকে বিশ্বাস করা নয়। যুক্তরাষ্ট্র তার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করছে কি না, সে বিষয়ে আমরা সতর্ক নজরদারি অব্যাহত রাখব।”
আরু/



