আজ ১২ জুন – আন্তর্জাতিক শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবস। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও দিবসটি নানা কর্মসূচি ও আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে পালিত হচ্ছে।
এ বছর দিবসটির বৈশ্বিক প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে – ‘শিশুশ্রমকে লাল কার্ড: শিশুদের জন্য ন্যায্যতা, প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য মর্যাদাপূর্ণ কাজ।’ আর বাংলাদেশে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের এ বছরের প্রতিপাদ্য — ‘শিশুশ্রমকে না বলি, শোভন কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করি।’
আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) ৮ জুন প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বজুড়ে বর্তমানে প্রায় ১৩ কোটি ৮০ লাখ শিশু শ্রমে নিয়োজিত রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৫ কোটি ৪০ লাখ শিশু ঝুঁকিপূর্ণ ও স্বাস্থ্যহানিকর কাজে যুক্ত, যা তাদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের জন্য মারাত্মক হুমকি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
শিশুশ্রম শুধু একটি মানবাধিকার লঙ্ঘনই নয়, এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সম্ভাবনাকেও বাধাগ্রস্ত করে। তাই এ সমস্যা মোকাবিলায় সরকার, আন্তর্জাতিক সংস্থা ও নাগরিক সমাজের সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করছেন সংশ্লিষ্টরা।
আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) ১৯৯২ সালে প্রথম শিশুশ্রমের জন্য প্রতিরোধ দিবস পালনের সিদ্ধান্ত নেয়। সেই মোতাবেক ২০০২ সালের ১২ জুন থেকে আইএলও বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে প্রতিবছর দিবসটি ‘শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবস’ হিসেবে পালন করে আসছে।
এই দিনটি সরকার, স্থানীয় কর্তৃপক্ষ, সুশীল সমাজ এবং আন্তর্জাতিক, শ্রমিক ও নিয়োগকারী সংস্থাগুলিকে একত্রিত করে শিশুশ্রমের সমস্যা চিহ্নিত করে এবং শিশুশ্রমিকদের সাহায্য করার জন্য নির্দেশিকা নির্ধারণ করে।
দিবসটি উপলক্ষে আইএলও, ইউনিসেফসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক এবং দেশীয় বেসরকারি সংস্থা বেশ কিছু কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। কর্মসূচি পালনে এসব সংস্থার সঙ্গে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সমন্বয় করছে।
জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অনুযায়ী ২০২৫ সালের মধ্যে সকল ধরনের শিশুশ্রম নির্মূলের কথা থাকলেও বিশ্বজুড়ে এখনও কোটি কোটি শিশু শ্রমের শিকার হচ্ছে — যা এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে মারাত্মক ব্যর্থতার চিত্র তুলে ধরে।
শিশুশ্রম একটি জাতীয় সমস্যা। উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে হলে শিশুর সার্বিক কল্যাণ নিশ্চিত করে তাদের সুযোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার কোনো বিকল্প নেই। আর সেজন্যই শিশুশ্রম নির্মূল করে বাধ্যতামূলক শিক্ষার মাধ্যমে শিশুর যথাযথ বিকাশ নিশ্চিত করতে হবে।
আরু/



