২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপকে সামনে রেখে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে আয়োজক দেশগুলোর অন্যতম মেক্সিকো। বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় ক্রীড়া আসরকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা, যানবাহন ব্যবস্থাপনা ও দর্শনার্থীদের সুবিধা নিশ্চিত করতে দেশটির সরকার একাধিক বিশেষ সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যার মধ্যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার নির্দেশ অন্যতম।
সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, বিশ্বকাপ উদ্বোধনের সময় প্রাক-প্রাথমিক থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায় পর্যন্ত সব ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটি থাকবে। একই সঙ্গে সরকারি দপ্তরগুলোর বেশিরভাগ কর্মচারীকে বাসা থেকে দায়িত্ব পালনের (ওয়ার্ক ফ্রম হোম) নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সরকারি সূত্র জানিয়েছে, ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ উপলক্ষে বিপুল সংখ্যক বিদেশি দর্শক ও পর্যটক মেক্সিকোতে আসবেন। এতে রাজধানী মেক্সিকো সিটিসহ প্রধান শহরগুলোতে যানজট ও জনসমাগম উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে।
এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় সড়কে চাপ কমানো, নিরাপত্তা জোরদার এবং বিদেশি দর্শকদের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতেই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
প্রশাসনের ধারণা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ও দূরবর্তী কর্মব্যবস্থা শহরের সার্বিক চাপ কমাতে সহায়ক হবে।
মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লদিয়া শিনবাউম সরকারি কর্মীদের প্রয়োজন অনুযায়ী বাসা থেকে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন। বিশেষ করে রাজধানী ও বিশ্বকাপ সংশ্লিষ্ট এলাকায় এই নির্দেশনা কঠোরভাবে কার্যকর করা হবে।
তবে জরুরি সেবার সঙ্গে যুক্ত বিভাগগুলো- যেমন স্বাস্থ্যসেবা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও জননিরাপত্তা এই নির্দেশনার বাইরে থাকবে এবং তারা স্বাভাবিক নিয়মে দায়িত্ব পালন করবে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সরকারি ও বেসরকারি উভয় পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকলেও অনলাইন ক্লাস চালুর বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। পরিস্থিতি বিবেচনায় পরবর্তী সময়ে শিক্ষা কার্যক্রমের রূপরেখা নির্ধারণ করা হবে।
বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে ঐতিহাসিক অ্যাজটেকা স্টেডিয়াম-এ, যা ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভেন্যু হিসেবে পরিচিত।
দীর্ঘ সময় পর আবারও বিশ্বকাপ আয়োজনের সুযোগ পাওয়ায় মেক্সিকোজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। সরকার ও আয়োজক কমিটি ইতোমধ্যে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ও ম্যাচকে ঘিরে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।
উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে যৌথভাবে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই বিশ্বকাপকে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় আসর হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে, যেখানে প্রথমবারের মতো ৪৮টি দেশ অংশ নেবে।
আরু/



