আর মাত্র কয়েকটি দিন। ১১ জুন মেক্সিকোর এস্টাদিও আজতেকায় কিকঅফের মধ্য দিয়ে শুরু হতে চলেছে ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ — ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বিশ্বকাপ। আর এই মহোৎসবকে ঘিরে বাংলাদেশজুড়ে যে উন্মাদনা তৈরি হয়েছে, তা আর্জেন্টিনা-ব্রাজিলের মতো দলের সমর্থকদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই — এবার উত্তেজনার নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে একটি বাংলাদেশি নামের বিশ্বমঞ্চে আবির্ভাবে।
এবারের বিশ্বকাপে বাংলাদেশের পতাকা শুধু গ্যালারিতে নয়, উদ্বোধনী মঞ্চেও উড়বে। ঢাকায় জন্ম নেওয়া বাংলাদেশি-আমেরিকান ডিজে ও প্রযোজক সঞ্জয় (Sanjoy Deb) টরন্টোতে কানাডার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পারফর্ম করবেন — যেখানে তাঁর সঙ্গে থাকবেন মাইকেল বুবলে, আলানিস মরিসেত এবং নোরা ফাতেহির মতো বিশ্বখ্যাত শিল্পীরা।
বাংলাদেশি-আমেরিকান ডিজে ও প্রযোজক সঞ্জয় দেব বলেন , “বেডরুমে বিট বানানো থেকে আজ বিশ্বের সবচেয়ে বড় মঞ্চে পারফর্ম করতে যাচ্ছি — এই অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করা যায় না।”
এই খবর বাংলাদেশে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় সঞ্জয়কে নিয়ে গর্বের প্লাবন বয়ে যাচ্ছে। মাঠে না থাকলেও সংগীতের সুরে বাংলাদেশের নাম ছড়িয়ে পড়বে বিশ্বের কোটি দর্শকের কানে — এটিই এখন দেশবাসীর কাছে সবচেয়ে বড় উত্তেজনার কারণ হয়ে উঠেছে।
চা-স্টলে, পাড়ার মোড়ে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যান্টিনে — সর্বত্র একটাই আলোচনা: এবার কে জিতবে? বাংলাদেশে ফুটবলপ্রেম দক্ষিণ এশিয়ার যেকোনো দেশের তুলনায় সবচেয়ে তীব্র। নিজেরা বিশ্বকাপে না খেলেও বাংলাদেশিরা মেসির আর্জেন্টিনা ও নেইমারের ব্রাজিলের জার্সিতে দেশ রাঙিয়ে তোলেন প্রতিবার।
২০২২ সালে কাতারে আর্জেন্টিনার শিরোপা জয়ের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিতে লাখো মানুষের উৎসবের ছবি ফিফার ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছিল। এবার সেই উন্মাদনা আরও বড় হওয়ার প্রত্যাশায় থাকছেন সকলে।
বিশ্বকাপ শুরুর দিন গোনা হলেও বাংলাদেশে এখনো নিশ্চিত হয়নি কোথায় দেখা যাবে ম্যাচগুলো। রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারকারী বাংলাদেশ টেলিভিশন (BTV) এখনো সম্প্রচার স্বত্ব কিনতে পারেনি। কোনো বেসরকারি চ্যানেলও এখন পর্যন্ত চুক্তি করেনি। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনকে নিয়ে আলোচনা শুরু করেছে, তবে ফিফার দাবি করা মূল্য অত্যন্ত বেশি বলে জানা যাচ্ছে।
উল্লেখ্য, চীন এবং ভারতও একই সমস্যায় পড়েছে। ফিফা বলেছে, এই তিনটি দেশের সঙ্গে আলোচনা এখনো চলমান রয়েছে।
বাংলাদেশ সময় (BST) অনুযায়ী ম্যাচগুলো রাত ১০টা থেকে ভোর পর্যন্ত চলবে। এটি দর্শকদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হলেও ঘুমের বলি দেওয়ার জন্য তাঁরা সদা প্রস্তুত — এটিই বাংলাদেশি ফুটবলপ্রেমের সবচেয়ে বড় পরিচয়।
মাঠে না থাকলেও এবার সংগীতের সুরে বিশ্বকাপের উদ্বোধনী মঞ্চে উড়বে বাংলাদেশের নাম। আর সেই সঙ্গে কোটি ভক্তের হৃদয়ে বেজে উঠবে একটাই সুর—বিশ্বকাপ মানেই উৎসব, আর সেই উৎসবে এবার বাংলাদেশও আছে এক অনন্য ভূমিকায়।


