kbctgbd
১০ জানুয়ারি ২০২৫ ৮:১৯ পূর্বাহ্ণ
জহির সিকদার,ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রতিনিধিঃ
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় জমি ও ব্যবসায়িক বিরোধকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ নেতাসহ জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) উপ-পরিদর্শকের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দিয়ে এক পরিবারের সদস্যদের হয়রানি করার অভিযোগ উঠেছে।
বৃহস্পতিবার (৯ জানুয়ারি) দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জেলার সরাইল উপজেলার শাহবাজপুর ইউনিয়নের মাছুরপাড়ার বাসিন্দা মোস্তাফিজুর রহমান হয়রানিমূলক মিথ্যা মামলার অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা। দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাবে জেলার সরাইল উপজেলার শাহবাজপুর ইউনিয়নের মাছুরপাড়ার বাসিন্দা তিনি শিক্ষানবীশ আইনজীবী।
সংবাদ সম্মলনের সময় তার বাবা সিরাজ মিয়া (৭১), বোন চিকিৎসক মাহমুদা বেগম, ভগ্নিপতি চিকিৎসক ফয়সাল আহমেদ, চাচাতো ভাই ফয়জুর রহমান, উপজেলার শাহবাজপুর ইউনিয়ন কৃষকদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ইয়ার হোসেন, উপজেলা কৃষক দলের আহ্বায়ক মশিউর রহমান উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মোস্তাফিজুর রহমান। লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, শাহবাজপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম ওরফে কালন, তার ছেলে জেলা ছাত্রলীগের প্রচার সম্পাদক শহিদুল ইসলাম রুবেল, একই এলাকার আওয়ামী লীগ নেতা শাহ আলমের সাথে দীর্ঘদিন ধরে তার পরিবারের ব্যবসায়িক ও জায়গা-জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে। বিরোধজনিত কারণে জেলা গোয়েন্দা শাখা পুলিশের (ডিবি) উপ-পরিদর্শক (এসআই) আবু বক্কর ছিদ্দিক আওয়ামী লীগ নেতা নুরুল ইসলামের কথামতো গত ১১ নভেম্বর সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে মোস্তাফিজুর রহমানকে আটক করে। পরে তাকে ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হয়।
১২ ডিসেম্বর সরাইল থানায় গত ৪ আগস্টে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের কুট্টাপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনের রাস্তার উপরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শিক্ষার্থীদের সাথে তৎকালীন ক্ষমতাসীন দলের নেতা-কর্মীদের সংঘর্ষের ঘটনা দেখিয়ে ২৪ জনকে আসামি করে বিস্ফোরক আইনে একটি মামলা দায়ের করেন ডিবির এসআই আবু বক্কর ছিদ্দিক। মামলায় মোস্তাফিজুরকে প্রধান আসামি করা হয়। মামলায় তাকে ১২ নভেম্বর দুপুরে শাহবাজপুর থেকে গ্রেফতার দেখানো হয়।
তিনি আরও বলেন, ১ থেকে ৭ আগস্ট পর্যন্ত অসুস্থতাজনিত কারণে ঢাকার ইবনেসিনা হাসপাতালে ভর্তি ছিলাম। ওই বিস্ফোরক মামলায় গত ২৪ নভেম্বর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা ও দায়রা জজ তার জামিন আবেদন মঞ্জুর করেন। জামিনের কাগজপত্র জেলা কারাগারে পৌঁছানোর পর একই কুচক্রী মহল দ্বারা প্রভাবিত হয়ে সরাইল থানা থেকে গত ১১ নভেম্বর একটি হত্যা মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে কারাগারে কাগজপত্র পাঠানো হয়। পরে ২৩ ডিসেম্বর উচ্চ আদালত থেকে আমি জামিন নিয়ে কারাগার থেকে বের হই।
তিনি জানান, তার পরিবারের লোকজন রাজনৈতিক দল বা সংগঠনের সাথে জড়িত না। আওয়ামী লীগ নেতা নূরুল ইসলাম কালন ও ডিবির এসআই বিভিন্নভাবে আমার পরিবারকে অত্যাচার ও হয়রান করছে। তারা ঢাকার উত্তরা পশ্চিম থানায় ৪ আগস্টের ঘটনায় গত ৪ জানুয়ারি দায়ের হওয়া একটি হত্যা মামলায় মোস্তাফিজুরের ৭১ বছর বয়সী বাবা সিরাজুলকে ৭১ নম্বর, কৃষকদলের নেতা ইয়ার হোসেনকে ৭২ নম্বর ও মোস্তাফিজুরকে ৭৩ নম্বর আসামি করেছে।
তিনি বলেন, গ্রেফতারের পর আমাকে ছাত্রলীগ নেতা বানানো হয়। কিন্তু আমি রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত নই, আমি ও আমার পরিবার তাদের ভয়ে আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছি।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত মোস্তাফিজুরের বাবা সিরাজ মিয়া তার কষ্টের কথা মনে করে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। তিনি বলেন, আমি হৃদরোগে আক্রান্ত। আমার ওপেন হার্ট সার্জারি করা হয়েছে। আমি উত্তরায় কখনো যাঢনী এবং আমি ঐ এলাকা চিনিও না। কিন্তু আমাকেও দায়েরকৃত মামলায় আসামি করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত থাকা ইউনিয়ন কৃষকদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ইয়ার হোসেন বলেন, মোস্তাফিজুরকে ছাড়ার জন্য এসআই আবু বক্কর ছিদ্দিক আমার কাছে পাঁচ লাখ টাকা উৎকোচ চেয়েছিল। কিন্তু আমরা কোনো টাকা দেইনি।
এ ব্যাপারে সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল হাসান বলেন, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ওই হত্যা মমালার ঘটনার সাথে মোস্তাফিজুরের সম্পৃক্ততা পেয়েছে। বিষয়টি সম্পর্কে আওয়ামী লীগ নেতা নুরুল ইসলাম কালনের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা চালিয়ে ও তার সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে ডিবির এসআই আবু বক্কর ছিদ্দিক বলেন, এসব রাষ্ট্রীয় বিষয়, আমি কিছু বলতে পারব না। রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনে আমি এজাহার জমা দিয়েছি। টাকার অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। আমি শুধু রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালন করেছি।
পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল খবরবাংলা২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন info@khaborbangla24.com ঠিকানায়।