kbctgbd
১ জানুয়ারি ২০২৫ ৮:৪৬ পূর্বাহ্ণ
সুমন চন্দ্র দে, মহেশখালী (কক্সবাজার) প্রতিনিধিঃ
কক্সবাজারের দ্বীপ উপজেলা মহেশখালীর পাহাড় ও বনাঞ্চলসহ বন্যপ্রাণী পাঁচার প্রতিরোধের দাবীতে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা করেছে স্থানীয় সেচ্ছাসেবী ও পরিবেশবাদী সংগঠন।
মহেশখালীর শাপলাপুর বাজারে ৩১ ডিসেম্বর (মঙ্গলবার) বিকাল ৩টার সময় মহেশখালী জন-সুরক্ষা মঞ্চ এবং উপকূল সুরক্ষা ফাউন্ডেশনের আয়োজনে মহেশখালীর পাহাড়, বনাঞ্চল ও বন্যপ্রাণী পাঁচার প্রতিরোধে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। সম্প্রতি কয়েক মাস ধরে মহেশখালীর পাহাড় থেকে বন্যপ্রাণী হনুমান পাঁচার করা হচ্ছে দেশ এবং দেশের বাইরে। কিছু দূষ্কৃতকারী লোক পাহাড়ে বিভিন্ন ফাঁদ তৈরি করে বনের হনুমান ধরে তা খাঁচায় ভরে দেশের বাইরে পাঁচার করা হচ্ছে। বিভিন্ন সময় বন্যপ্রাণী গুলো স্থানীয় বন কর্মীরা উদ্ধার করলেও এখনো প্রকৃত পাঁচারকারীদের আটক করতে পারেনি।
এভাবে একের পর এক ধারাবাহীকভাবে বন্যপ্রাণী পাঁচার করার খবরে ক্ষুব্ধ হয় বিভিন্ন পরিবেশকর্মী সহ সাংবাদিক এবং মহেশখালীর সর্ব স্তরের মানুষ। একইভাবে মহেশখালীতে নির্বিচারে কাটা হচ্ছে পাহাড় এবং বনের গাছ। এভাবে চলতে থাকলে অচিরেই ধ্বংস হবে মহেশখালীর পাহাড় ও বনাঞ্চল। ফলে হারিয়ে যাবে দেশের ঐতিহ্য সাগর ঘেরা একমাত্র দ্বীপ উপজেলা মহেশখালী। তাই এই মহেশখালী দ্বীপ এবং দ্বীপের ঐতিহ্য রক্ষা করতে আন্দোলন অব্যাহত রেখেছে সেচ্ছাসেবী ও পরিবেশবাদী সংগঠন গুলো। তারই ধারাবাহীকতায় মহেশখালীর পাহাড়, বনাঞ্চল ও বন্যপ্রাণী পাঁচার প্রতিরোধে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মহেশখালী জন-সুরক্ষা মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মোঃ মহসিন এর সভাপতিত্বে জন-সুরক্ষা মঞ্চের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক ও উপকূল সুরক্ষা ফাউন্ডেশনের সদস্য সচিব এবং বাপা মহেশখালী শাখার সম্পাদক আবু বক্কর ছিদ্দিক এর সঞ্চালনায় উক্ত মানববন্ধনে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন, শাপলাপুর ইউনিয়ন বিএনপি’র সভাপতি বজল আহমদ। মানববন্ধনে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, শাপলাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোহাম্মদ আলী, শাপলাপুর আলিম মাদ্রাসার ইংরেজি প্রভাষক বদিউল আলম, উপকূল সুরক্ষা ফাউন্ডেশনের সদস্য ও বাপা চকরিয়া উপজেলার সম্পাদক আলাউদ্দিন আলো, সাংবাদিক ও পরিবেশকর্মী রকিয়ত উল্লাহ, শাপলাপুর ফরেস্ট বিট কর্মকর্তা আব্দু ছবুর মাসুম প্রমূখ।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন- মহেশখালীতে দিন দিন পাহাড় কাটা এবং বনাঞ্চল উজাড়কারী বেড়েই চলছে, তাতে মহেশখালীর পাহাড় ধ্বংস হতে খুব বেশী সময় লাগবে না। পাহাড় খেকো এবং বনাঞ্চল উজাড়কারীদের লাগাম টানতে হবে, তাদের চিহ্নিত করে শাস্তির আওতায় আনতে হবে। মহেশখালীতে কারা পাহাড় কাটছে এবং কারা বন উজাড় করছে তা কারো অজানা নয়, এব্যাপারে বন বিভাগকে আরো দায়িত্বশীল হতে হবে। বক্তারা বলেন- বন বিভাগ সততা ও নিষ্ঠার সাথে কাজ করলে কারো বাপের সাধ্য নাই পাহাড় ধ্বংস করা।
একদিকে যেমন পাহাড় কাটা ও বন উজাড় করা চলছে সমান তালে, এখন শুরু হয়েছে বন্যপ্রাণী পাঁচার করা। বন কর্মীদের হাতে অনেকবার বন্যপ্রাণী উদ্ধার হলেও অদৃশ্য কারনে ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছে প্রকৃত পাঁচার কারীরা। পাঁচার কারীদের গ্রেপ্তার করে কঠোর শাস্তি দিতে না পারলে তারা ভবিষ্যতে আরো বেপরোয়া হয়ে মহেশখালীকে গিলে খাবে বলেও মন্তব্য করেন বক্তারা।
তাই অবিলম্বে পাহাড় কর্তনকারী, বন উজাড়কারী এবং বন্যপ্রাণী পাঁচারকারীদের চিহ্নিত করে দ্রুত শাস্তির আওতায় আনার দাবী জানানো হয়। মানববন্ধনে স্থানীয় বিট কর্মকর্তা আব্দু ছবুর মাসুম জানান, এলাকার কিছু অসৎব্যাক্তি তারা রাতের অন্ধকারে গোপনে বন্যপ্রাণী হনুমান বাহিরে পাঁচারের চেষ্টা করছে।
আমরা গোপন সংবাদের ভিত্তিতে হনুমান গুলো উদ্ধার করে তা বনে অবমুক্ত করি। বিট কর্মকর্তা জানান, আমাদের অভিযানের টের পেয়ে পাঁচারকারীরা পালিয়ে যায়। মহেশখালীতে কোন পাহাড় খেকো, বন উজাড়কারী এবং বন্যপ্রাণী পাঁচারকারীদের ছাড় দেওয়া হবে না। মহেশখালীতে বন কর্মীরা এব্যাপারে সবসময় সোচ্চার রয়েছে। যারা বন ধ্বংস এবং বন্যপ্রাণী পাঁচারের চেষ্টা করবে তাদেরকে সংশ্লিষ্ট আইনে কঠোর শাস্তির আওতায় আনা হবে বলেও জানান তিনি।
মহেশখালীর পাহাড় এবং বন্যপ্রাণী রক্ষায় সবাইকে এগিয়ে আসার আহবান জানানো হয় মানববন্ধনে। এতে অন্যান্যদের মাঝে উপস্থিত ছিলেন, স্থানীয় পরিবেশকর্মী আবু বক্কর, সংবাদকর্মী হোছাইন মোঃ আকতার মিয়া, শাপলাপুর নারী উন্নয়ন সঙ্গের সভাপতি বশির আহমদ আজাদ, নুরুল ইসলাম, মোকারম উদ্দিন, সাইদুর রহমান, মোঃ হারুন, হেলাল উদ্দিন প্রমূখ।
পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল খবরবাংলা২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন info@khaborbangla24.com ঠিকানায়।