kbctgbd
১৯ নভেম্বর ২০২৪ ৯:৩৩ পূর্বাহ্ণ
ফয়সাল হোসাইন সনি, বগুড়া প্রতিনিধিঃ
ভাই মারা যাবার পড় আপন ভাই বউ ও ভাতিজীকে অস্বীকার করছেন আপনা চাচা। শুধু তাই নয় ভাই বউ ও ভাতিজীর বিরুদ্ধে একাধিক মামলাও করেছেন আপন চাচা বাদল শেখ। এমন এক ঘটনা ঘটেছে বগুড়া সদর উপজেলার এরুলিয়া ইউনিয়নের পূর্ব গোদার পাড়া এলাকায়। মৃত জাহাঙ্গীর হোসেন, তিনি বগুড়া সদর থানাধীন এরুলিয়া ইউনিয়নের পূর্ব গোদার পাড়া এলাকার ১৫ নং ওয়ার্ডের সমশের আলী শেখের ছেলে। জাহাঙ্গীর হোসেন ২০১৮ সালের ৩রা মার্চে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ঢাকা ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। দৈনিক আজকের বসুন্ধরার অনুসন্ধানে জানা যায় জাতীয় পরিচয়পত্র তথ্য মতে মৃত জাহাঙ্গীর হোসেনের জাতীয় পরিচয় পত্র নং-২৮৪৪২১৬৯০৯ সেখানে থাকা পুরাতন পরিচয় পত্র নং দেয়া রয়েছে-১৯৭৫১০২২০১৫১৪৩৬০৫।
জাতীয় পরিচয় পত্র নং ২ টি থেকে সঠিক ভাবে বোঝা যায় যে আগের এবং পড়ের জাতীয় পরিচয় পত্র নং দুটিই সঠিক। তাই জালিয়াতি করবার কোনই সুযোগ নেই। মৃত জাহাঙ্গীর হোসেনের জাতীয় পরিচয় পত্র থেকে আরো তথ্য পাওয়া গিয়েছে তা হলো তিনি জন্ম গ্রহন করেন ৪ অক্টোবর ১৯৭৫ সালে। পিতার নাম হিসাবে পাওয়া যায় সমশের আলী শেখের নাম, মাতার নাম হিসাবে পাওয়া যায় জহুরা আলী শেখের নাম ও স্ত্রীর পরিচয় হিসাবে পাওয়া যায় মরিয়ম আকতার নামে এক মহিলার নাম।
জাতীয় পরিচয় পত্রের বিষয়টি নিয়ে বগুড়া জেলা নির্বাচন অফিসের সিনিয়র জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মাহমুদ হাসান আজকের বসুন্ধরাকে বলেন, যে কেউ মারা যাবার পড় তার কোন তথ্য ভুল থাকলে তা সংশোধন করতে পারবে। তবে আগের যে তথ্য গুলো ছিলো তা আমাদের কাছে থাকবে। কেউ যদি জালিয়াতি করে আমরা তাকে ধরে ফেলতে পারবো। তাই এই রকম হবার কোন সুযোগ নেই বললেই চলে। ১৯৭৪ সালের মুসলিম বিবাহ ও তালাক (রেজিষ্ট্রেশন) আইনের ১ ধারা অনুযায়ী প্রতিলিপি, যার ভলিয়ম নাম্বার এম.আর. ৯৯/০০ পাতা নং ৩৬ এর তথ্য মতে। মরিয়ম আকতারের সাথে জাহাঙ্গীর হোসেন ৫ই জুন ১৯৯৯ সালে বিবাহর কথা ঠিকঠাক করেন। পড়ে পহেলা মার্চ ২০০১ সালে ৩০ হাজার টাকা দেন মোহর উল্লেখ করে দুইশ টাকা পরিশোধ করে ২৯ হাজার ৮শ টাকা বাকি রেখে মরিয়ম ও জাহাঙ্গীর হোসেনের বিবাহ সম্পূর্ণ হয় বলে জানা গিয়েছে। বিবাহ রেজিস্ট্রার ভলিয়মের তথ্য অনুসারে আরও জানা যায়।
সেই বিবাহতে সাক্ষী হিসাবে ছিলেন বগুড়া সদর উপজেলার উত্তর গোদার পাড়া এলাকার মৃত কাশেম উদ্দিন প্রাং এর ছেলে মাহফুজার রহমান ও পালশা এলাকার মৃত আজিজার রহমানের ছেলে দুলাল শেখ। বিবাহের রেজিস্ট্রারকৃত পাতায় জাহাঙ্গীর হোসেনের নাম দেয়া মোঃ সুইট ইসলাম শেখ ওরফে জাহাঙ্গীর হোসেন ও মরিয়মের নাম দেয়া হয় রোকসানা খাতুন। জাহাঙ্গীর আলম বগুড়া সদরের মালগ্রাম এলাকার মৃত সমশেরের ছেলে এবং বিবাহের সময় জাহাঙ্গীরের বয়স ছিলো ২৮ বছর। রোকসানা খাতুন বগুড়া সদরের বাদুরতলা এলাকার মৃত আবু বক্কর সিদ্দিকের মেয়ে বিবাহের সময় তার বয়স ছিলো ২৫ বছর। রোকসানা খাতুন এর আগে অন্য আরেকটি সংসারে সংসার করেছে বলেও জানা যায়।
বিবাহের বিষয়টি নিয়ে বিবাহতে নিযুক্ত কাজী অফিস বগুড়া সদরের গোদার পাড়া কাজী অফিসের কাজী আবুল বাশার মোঃ আইয়ুব বলেন,সুইট ইসলাম শেখ ও রোকসানার বিবাহের সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি আজকের বসুন্ধরাকে বলেন, বিবাহ রেজিস্ট্রারে কখনোই জালিয়াতি করার সুযোগ নেই। সুইট শেখ ও রোকসানা’র বিবাহতে কোন জালিয়াতি করা হয়নি। ছেলে পক্ষ আমাদের থেকে নকল তুলেছেন মেয়ে পক্ষও আমাদের থেকে নকল তুলেছেন। তারা খুব ভালো ভাবেই জানেন এই বিবাহতে কোন ভাবেই জালিয়াতি করা হয়নি। বিবাহের পড় সংসার জীবনে ১ পহেলা জানুয়ারী ২০০২ সালে জাহাঙ্গীর ও মরিয়ম দম্পতির ঘড়কে আলোকিত করে একটি কন্যা সন্তান জন্ম গ্রহন করেন। যার নাম সুইটি আক্তার।
পূর্ব গোদার পাড়া এলাকায় বসবাসরত নাম প্রকাশ করতে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয় ব্যক্তি সূত্রে জানা যায় জাহাঙ্গীর হোসেন ও মরিয়মের মধ্যে দীর্ঘ দিনের প্রেমের সম্পর্ক ছিলো। একটা সময় জানা জানি হলে এলাকাবাসী তাদের সম্পর্কের বিষয়ে তাদেরকে বললে তারা নিজ ইচ্ছায় বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। মৃত জাহাঙ্গীর হোসেনের স্ত্রী মরিয়মের জাহাঙ্গীরের সাথে ২য় বার বিবাহ হয় আর এই মরিয়মের আগের পক্ষের ২ সন্তান রয়েছেন। মরিয়মের আগের স্বামী হিসাবে ছিলেন বগুড়া সদর উপজেলার মালগ্রাম এলাকার মৃত তসলিম কসাইয়ের ছেলে জয়লাল কসাই৷ মরিয়ম ও জয়লালের সংসার জীবনে ২ টি সন্তান ছিলেন তারা হলেন উজ্জ্বল ও নাসরিন আক্তার। ছেলে উজ্জ্বল বিবাহ করে তার শশুর বাড়ি বগুড়া জেলার গাবতলী উপজেলার নারুয়ামালা ইউনিয়নের প্রথমার ছেও এলাকায় বসবাস করেন।
মেয়ে নাসরিন আক্তার বগুড়া সদর উপজেলার এরুলিয়া ইউনিয়নের আম বাড়িয়া এলাকার শহিদুল ইসলাম এর সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। মৃত জাহাঙ্গীর হোসেনের সাথে মরিয়মের বিবাহ হওয়ার পর থেকেই মরিয়ম বেগমের সন্তান উজ্জ্বল ও নাসরিন ২ জনই তাদের বাবা জয়লালের কাছেই লালন পালন হন। এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায় উজ্জ্বল ও নাসরিন মাঝে মধ্যেই মরিয়মের ২য় স্বামী মৃত জাহাঙ্গীর হোসেনের বাড়িতে যাতায়াত করতেন। পড়ে উজ্জ্বল ও নাসরিনের বিবাহ হবার পড় তারা সম্পূর্ণ আলাদাভাবে তাদের সংসার করে যাচ্ছেন। মৃত জাহাঙ্গীর হোসেনের জাতীয় পরিচয় পত্র থেকে আরও জানা যায়। তিনি পেশায় একজন ব্যবসায়ী ছিলেন। তবে মৃত জাহাঙ্গীর হোসেন ব্যবসার পাশাপাশি পশ্চিম বগুড়া বেবী ট্যাক্সি/সিএনজি মালিক সমিতির অন্যতম সদস্যও ছিলেন।
জাহাঙ্গীর হোসেন মারা যাবার পড় তার স্ত্রীর হাতে নগদ ৫০ হাজার টাকা তুলে দিয়েছিলেন সমিতিটির সাধারণ সম্পাদক এরশাদ শেখ। সেই টাকা দেয়ার সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন সমিতির সহ সাধারণ সম্পাদক বাবর আলী মোল্লা ও সাংগঠনিক সম্পাদক সাজেদুল আলম রিপনসহ আরও বিভিন্ন নেতাকর্মী। এমন একটি নিউজ প্রকাশ করা হয়েছিলো স্থানীয় একটি পত্রিকাতেও। জাহাঙ্গীর হোসেন ব্যবসায়ী হওয়ায় বিভিন্ন ব্যাংকে একাউন্ট করেছিলেন। আর সেই একাউন্টে রয়েছে অগন্তি টাকা। আর এই টাকা নিয়েই শুরু হয়েছে সম্পর্ক অস্বীকার করার মত ঘটনা। তথ্য মতে জানা যায় জাহাঙ্গীর হোসেন জিবীত থাকাকালীন তার স্ত্রীর নামে বিশাল মোটা অংকের টাকা বিভিন্ন জায়গায় ইনসুরেন্স করে গিয়েছিলেন।
এর মধ্যে তার স্ত্রী মরিয়ময়ের নামে মিট লাইফ এলিকো নামের একটি ইনসুরেন্সে ২০১২ সালের মে মাসের ২৩ তারিখে ১২ বছর মিয়াদী ডিপিএস করেন। মিট লাইফ এলিকো নামের ওই ইনসুরেন্স হতে ২৩ মে ২০২৪ ইং তারিখে ১ লক্ষ ৩৫ হাজার ৫শ ৪ টাকা উত্তলোন করেন তার স্ত্রী মরিয়ম। যার পলেছি নং- ২০৭৩০৭১। এবং কন্যা সন্তান সুইটি আক্তারের নামে প্রায় প্রত্যেকটি ব্যাংকে নমিনি করে রেখেছিলেন জাহাঙ্গীর হোসেন। তবে সুইটি আক্তারের চাচা জাহাঙ্গীর হোসেনের বড় ভাই বাদল শেখ আদালতে মামলা করায় সব কয়েকটি ব্যাংক গুলোই টাকা দিতে অস্বীকার করছেন নমিনি সুইটি আক্তারকে।
ব্যাংক কর্মকর্তারা বলছেন মামলার রায়ের কপি নিয়ে গেলেই দিয়ে দেবেন নমিনির নামে টাকা। এমনটাই বলছেন মৃত জাহাঙ্গীর হোসেনের স্ত্রী ও কন্যা সন্তান সুইটি। এর মধ্য জাহাঙ্গীর হোসেনের কন্যা সন্তান সুইটির নামে নমিনি হিসাবে রয়েছে পূবালী ব্যাংক বগুড়া শাখার কাজী নজরুল ইসলাম রোড বড়গোলা বগুড়া সদর বগুড়ায় সঞ্চয়ী হিসাব নং- ০২০২১০১১০৪৫৬২, উত্তরা বাংক লিমিটেড বগুড়া শাখার কাজী নজরুল ইসলাম রোড বগুড়া সদর বগুড়ায় সঞ্চয়ী হিসাব নং- ৩৩৬৮১১১০১১০৬৯৬২, জনতা ব্যাংক লিমিটেড সপ্তপদী মার্কেট শাখা বগুড়া সদর বগুড়ায় সঞ্চয়ী হিসাব নং- ১২০৬০ ও জনতা ব্যাংক লিমিটেড সপ্তপদী মার্কেট শাখা বগুড়া সদর বগুড়ায় চলতি গচ্ছিত টাকা সমূহের হিসাব নং- ০১০০০৪৩২৩৭০০৯। এছাড়াও বগুড়ার বেশ কয়েকটি জায়গাতে রয়েছে জাহাঙ্গীর হোসেনের নির্মাণকৃত ৩ টি বাড়ি।
ব্যাংকের নমিনির বিষয়টি নিয়ে উত্তরা ব্যাংক, পূবালী ব্যাংক, ও জনতা ব্যাংকের কর্মকর্তাদের সাথে কথা বললে জনতা ব্যাংক লিমিটেড সপ্তপদী মার্কেট শাখা বগুড়া সদর বগুড়ার ব্রাঞ্চ ম্যানেজার দীপন কুমার নন্দী আজকের বসুন্ধরাকে বলেন, আদালত যার পক্ষেই রায় দেবে আমরা তাকেই টাকা দিয়ে দিবো। ব্যাংক হোল্ডার মারা যাবার পড় কেহ নমিনি হতে পারবে কীনা প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, কোন ব্যক্তি মারা যাবার পড় তার একাউন্টের নমিনি হবার কোনই সুযোগ নেই। জীবিত অবস্থায় যার নামে নমিনি করে যাবে সেই টাকার মালিক। তবে আদালতে মামলা চলছে সে ক্ষেত্রে আমরা আদালতের মাধ্যমে আদালতের রায় যাকে দেবে আমরা তাকেই টাকা বুঝিয়ে দেবো।
বিষয়টি নিয়ে পূবালী ব্যাংক বগুড়া শাখার কাজী নজরুল ইসলাম রোড বড়গোলা বগুড়া সদর বগুড়ার ব্রাঞ্চ ম্যানেজার তহুরা খাতুন জানান, কোন ব্যক্তি মারা যাবার পড় তার একাউন্টের নমিনি কেহ হতে পারে না। বাদী বা বিবাদী পক্ষ যে কারোর পক্ষে আদালত থেকে রায় আসলে আমরা তার হাতেই টাকা দিয়ে দেবো। উত্তরা বাংক লিমিটেড বগুড়া শাখার কাজী নজরুল ইসলাম রোড বগুড়া সদর বগুড়ার ব্রাঞ্চ ম্যানেজার মামুনুর রহমান বলেন, উত্তরা ব্যাংকের বিরুদ্ধে বাদী পক্ষ যে অভিযোগ করেছেন এই অভিযোগ কোন ভাবেই সঠিক নয়। অভিযোগ যে কেউ যে কারোর নামে অভিযোগ করতে পারে।
আমরা অবগত হয়েছি আদালত আমাদেরকে তলব করলে আমরা যথাযথ প্রমান নিয়ে হাজির হবো। উত্তরা বাংক লিমিটেড এর বিরুদ্ধে বাদী পক্ষ অভিযোগ করেছেন ব্যাংক কর্মকর্তাদের যোগ সাজশে ব্যাংক হোল্ডার জাহাঙ্গীর হোসেন মারা যাবার পড় সুইটিকে নমিনি করেছেন এ বিষয়ে জানতে চাইলে উত্তরা ব্যাংক ব্রাঞ্চ ম্যানেজার মামুনুর রহমান আরও বলেন, আমরা কোন ভাবেই কোন ব্যাংক হোল্ডার মারা যাবার পড় তার একাউন্টের নমিনি অন্য কাউকে দিতে পারিনা, যেটা কোন ভাবেই সম্ভব না। বাদী পক্ষ আমাদের পক্ষে মিথ্যা অভিযোগ করছেন। যেহেতু আদালতে মামলা চলমান রয়েছে সেই জন্য মামলার রায় না আসা পর্যন্ত আমরা নমিনিকে কোন ভাবেই টাকা দিতে পারি না। সাক্ষ্য প্রমানের ভিত্তিতে আদালতের রায় যার পক্ষে আসবে আমরা তাকেই টাকা দেবো।
বগুড়া পৌরসভার তৎকালীন প্যানেল মেয়র-৩ নিলুফা কুদ্দুসের সাক্ষরকৃত ও বগুড়া পৌরসভার ১৩,১৪ ও ১৫ নং ওয়ার্ডের সংরক্ষিত কাউন্সিলর শিরীন আক্তারের সাক্ষরকৃত বগুড়া পৌরসভা কর্তৃক ওয়ারিশান সনদ পত্র হিসাবে মৃত জাহাঙ্গীর হোসেনের স্ত্রী মরিয়ম ও সন্তান হিসাবে নাম পাওয়া যায় সুইটি আক্তারের। বগুড়া পৌরসভার তৎকালীন মেয়র অ্যাডভোকেট এ কে মাহবুবুর রহমানের স্বাক্ষরিত জাহাঙ্গীর হোসেনের মৃত্যু সনদে পাওয়া যায় জাহাঙ্গীর হোসেন হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গিয়েছিলেন। তার পিতার নাম পাওয়া যায় সমশের আলী শেখ মাতার নাম পাওয়া যায় জহুরা আলী শেখ ও স্ত্রীর নাম হিসাবে পাওয়া যায় মরিয়ম বেগমের নাম। যার মৃত নিবন্ধন নং – ২০১৮১০২২০১৫০০৫৯০ ৩নিবন্ধন করা হয় ২০১৮ সালের মার্চ মাসের ৬ তারিখে।
বগুড়া পৌরসভার ১৫ নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর আমিনুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক সনদ পত্রে পাওয়া যায় যে জাহাঙ্গীর হোসেন ও মরিয়ম বেগম ২ জন স্বামী স্ত্রী। এবং তাদের কন্যা সন্তান সুইটি আক্তার। মৃত জাহাঙ্গীর হোসেন তিনি এক এক জায়গায় এক এক ধরনের নাম ব্যবহার করতেন কোথাও ব্যবহার করতেন জাহাঙ্গীর হোসেন কোথাও ব্যবহার করতেন জাহাঙ্গীর আলম আবার কোথাও ব্যবহার করতেন জাহাঙ্গীর ইসলাম। আবার তাকে অনেকেই চিনতো সুইট নামে।
বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্নভাবে নামের পাশে ইসলাম,হোসেন আলম লাগানোর এই সুযোগ হাতিয়ে নেয় মৃত জাহাঙ্গীর হোসেনের বড় ভাই বাদল শেখ। আর এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে মৃত জাহাঙ্গীর হোসেনের সমস্ত সম্পদ হাতিয়ে নিচ্ছেন বলে অভিযোগ করছেন জাহাঙ্গীর হোসেনের স্ত্রী মরিয়ম ও সন্তান সুইটি। তবে বাদল শেখ জাহাঙ্গীর হোসেনের স্ত্রীর নামে আদালতে মামলাও করেছেন যে মামলায় রায়ও পেয়েছেন মৃত জাহাঙ্গীর হোসেনের স্ত্রী ও সন্তান। বিষয়টি নিয়ে রোকসানার ওরফে মরিয়মের আগের স্বামী জয়নাল কসাই জয়নাল কসাইয়ের ছেলে উজ্জ্বল ও তার মেয়ে নাসরিন আক্তারের সাথে কথা বলে জানা যায়, সুইটি জয়নালের মেয়ে না সুইটি জাহাঙ্গীর হোসেন ওরফে সুইট এর মেয়ে। এ ব্যাপারে উজ্জ্বল ও নাসরিন বলেন সুইটি তাদের মায়ের অন্য স্বামীর সন্তান।
এ বিষয়টি নিয়ে জাহাঙ্গীর হোসেন সুইটের বড় ভাই বাদল শেখের সাথে কথা বললে তিনি আজকের বসুন্ধরাকে জানায়, আদালতে মামলা চলছে আদালত প্রমাণ করবে রোকসানা ওরফে মরিয়ম তার ভাই জাহাঙ্গীর হোসেন সুইটের বউ কিনা ও সুইটি জাহাঙ্গীর হোসেন সুইটের মেয়ে কিনা। তবে এ বিষয়ে জাহাঙ্গীর হোসেন সুইটের বোন সুইটির ফুফু সামছুন নাহারের সাথে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেও যোগাযোগ করা যায়নি। বিষয়টি নিয়ে বিবাদী পক্ষের আইনজীবী আঃ রহমান জানান, রোকসানা ওরফে মরিয়ম ও তার মেয়ে সুইটি ও তাদের ব্যাংকের নমিনির নামে একাধিক মামলা করেছে। তবে একটি মামলায় সাক্ষ্য গ্রহণ চলছে খুব শিগগিরই তথ্য প্রমাণ ও সাক্ষ্যর ভিত্তিতে মাননীয় আদালত সঠিক রায় ঘোষণা করবেন।
এদিকে মৃত জাহাঙ্গীর হোসেন সুইট শেখের স্ত্রী ভুক্তভোগী রোকসানা ওরফে মরিয়ম ও তার মেয়ে সুইটি আক্তার বলছেন। আমরা দীর্ঘদিন ধরে অসহায়ত্ব ভাবে জীবন যাপন করছি আমার চাচা আমাদের ওপরে মিথ্যা অভিযোগ করছেন ও মিথ্যা মামলা করছেন। সরকারের কাছে দাবী জানাই খুব দ্রুত এই মামলায় রায় দিলে আমার বাবার গচ্ছিত টাকা পয়সা দিয়ে আমি ও আমার মা সুন্দরভাবে জীবন যাপন করতে পারব।
পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল খবরবাংলা২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন info@khaborbangla24.com ঠিকানায়।