আজ বুধবার, ১২ আগস্ট, বিরল এক মহাজাগতিক ঘটনার সাক্ষী হতে যাচ্ছে পৃথিবী। আকাশে একই সরলরেখায় অবস্থান করবে সূর্য, চাঁদ ও পৃথিবী। ফলে চাঁদ সূর্যকে পুরোপুরি ঢেকে দিলে সৃষ্টি হবে পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ।
নাসার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের এই পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণের পথ শুরু হবে উত্তর রাশিয়া থেকে। এরপর চাঁদের ছায়া অতিক্রম করবে গ্রিনল্যান্ড, আইসল্যান্ড ও উত্তর আটলান্টিক মহাসাগর হয়ে স্পেনের উত্তরাঞ্চল এবং পর্তুগালের উত্তর-পূর্বের একটি ছোট অংশে। ইউরোপের অধিকাংশ এলাকায় অবশ্য পূর্ণগ্রাস নয়, আংশিক সূর্যগ্রহণ দেখা যাবে।
বিশেষ আকর্ষণ হলো, স্পেন ও আইসল্যান্ডের কিছু এলাকায় সূর্যাস্তের ঠিক আগে পূর্ণগ্রাস গ্রহণ দেখা যাবে। উত্তর স্পেনের বিভিন্ন এলাকায় স্থানীয় সময় রাত ৮টা ২৭ মিনিটের দিকে পূর্ণগ্রাস শুরু হবে। আর আইসল্যান্ডের পশ্চিমাঞ্চলে বিকেল ৫টা ৪৪ মিনিটের দিকে শুরু হবে পূর্ণগ্রাস পর্ব।
এই গ্রহণের সর্বোচ্চ পূর্ণগ্রাস পর্যায় স্থায়ী হবে প্রায় ২ মিনিট ১৮ সেকেন্ড। তবে সব স্থান থেকে এত দীর্ঘ সময় পূর্ণগ্রাস দেখা যাবে না। আইসল্যান্ডের বসতিপূর্ণ এলাকাগুলোতে পূর্ণগ্রাসের স্থায়িত্ব স্থানভেদে প্রায় ৩০ সেকেন্ড থেকে ১ মিনিট ৪০ সেকেন্ড।
পূর্ণগ্রাসের সময় চাঁদ সূর্যের উজ্জ্বল অংশ পুরোপুরি ঢেকে ফেলায় দিনের আকাশ হঠাৎ অন্ধকার হয়ে আসে। তখন সূর্যের বাইরের আবহমণ্ডল বা করোনা খালি চোখে দেখা সম্ভব হয়। তবে পূর্ণগ্রাসের আগে ও পরে আংশিক গ্রহণ দেখার সময় অবশ্যই অনুমোদিত সোলার ফিল্টার বা এক্লিপ্স গ্লাস ব্যবহার করতে হবে।
বাংলাদেশের জন্য অবশ্য এই মহাজাগতিক দৃশ্য দেখার সুযোগ নেই। ১২ আগস্টের পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণের দৃশ্যমান অঞ্চল মূলত উত্তর গোলার্ধের নির্দিষ্ট অংশে সীমাবদ্ধ থাকবে। তাই বাংলাদেশে বসে সরাসরি এই গ্রহণ দেখা যাবে না।
২০২৪ সালের ৮ এপ্রিল উত্তর আমেরিকায় পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণের পর দুই বছরের ব্যবধানে এবার আবারও পৃথিবীর নির্দিষ্ট অঞ্চলে এমন বিরল দৃশ্য দেখা যাচ্ছে। তবে ইউরোপের মূল ভূখণ্ড থেকে পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ দৃশ্যমান হওয়ার দিক থেকে ২০২৬ সালের ঘটনাটি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ১৯৯৯ সালের পর এটাই প্রথম এমন সুযোগ।
আরু|খব



