মোঃ সোহেল, কক্সবাজার জেলা প্রতিনিধিঃ
দীর্ঘ ১০ বছর পর নিজ জন্মভূমি কক্সবাজারে পৌঁছে বিমানবন্দর থেকে বাড়ি ফেরার পথে লাখো মানুষের ভালোবাসায় সিক্ত হলেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ।
বুধবার (২৮ আগস্ট) সালাউদ্দিনের আগমন উপলক্ষ্যে কক্সবাজার বিমানবন্দর থেকে টার্মিনাল পর্যন্ত ১৮ কিলোমিটার রাস্তার দুই পাশে হাজার হাজার জনতার ঢল নামে। এদিন সকাল ৯টা থেকে বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত অপেক্ষার পর তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান সব শ্রেণীপেশার অনেক মানুষ। লাখো মানুষকে সঙ্গে নিয়ে বিমানবন্দর থেকে তিনি নিজ গ্রামের বাড়ির দিকে রওনা হন।
এর আগে বেলা ১১টা ৪২ মিনিটের দিকে বেসরকারি উড়োজাহাজ ইউএস বাংলার একটি ফ্লাইটে সালাহউদ্দিন আহমেদ কক্সবাজার বিমানবন্দরে অবতরণ করেন। এ সময় সঙ্গে তার সহধর্মিনী ও কক্সবাজার-১ (চকরিয়া-পেকুয়া) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট হাসিনা আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।
কক্সবাজার জেলা বিএনপির সভাপতি শাহজাহান চৌধুরী বলেন, আমাদের প্রিয় নেতা সালাউদ্দিন আহমেদ কক্সবাজার বিমানবন্দর থেকে তার গ্রামের বাড়ি পেকুয়ার দিকে রওনা হয়েছেন।এ সময় রামু, ঈদগাঁও, চকরিয়া ও পেকুয়ার পথে মানুষের সঙ্গে দেখা করেন তিনি। মানুষের উপস্থিতি বেশি হাওয়ায় পুরো শহর অচল হয়ে গেছে। আমাদের স্বেচ্ছাসেবকরা যানজট নিরসনে কাজ করছেন।
বিএনপির কেন্দ্রীয় মৎস্যজীবী বিষয়ক সম্পাদক ও কক্সবাজার-৩ (সদর-রামু-ঈদগাঁও) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজল বলেন, দীর্ঘ ১০ বছর পর নিজ জন্মভূমি কক্সবাজারে এসেছেন আমাদের প্রিয় নেতা। তিনি কক্সবাজারে আসায় নেতাকর্মীদের মধ্যে উৎসব বিরাজ করছে।
সূত্র মতে, কক্সবাজারে পৌঁছে বিমানবন্দর থেকে তিনি জেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের আয়োজিত সংবর্ধনায় যোগ দেন সালাহউদ্দিন আহমেদ। সেখান থেকে ২টার দিকে তিনি চকরিয়া পৌর বাস টার্মিনাল মাঠে বিএনপির সংবর্ধনা সভায় যোগ দেবেন। পরে বিকেল ৪টায় চৌমুহনী চত্বরে যোগ দেবেন পেকুয়া বিএনপি আয়োজিত অপর একটি অনুষ্ঠানে। পরদিন বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় শহিদ ছাত্রদল নেতা ওয়াসিম আকরামের কবর জিয়ারত ও স্বজনদের সঙ্গে তিনি সাক্ষাৎ করবেন।
সূত্র বলছে, এবারের সফরে সালাহউদ্দিন আহমেদ সপ্তাহখানেক কক্সবাজারে অবস্থান করবেন। এই সময় তিনি ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও কবর জিয়ারত ছাড়াও বিগত ১৬ বছরে স্বৈরাচারি সরকারের নির্যাতন-নিপীড়নের শিকার নেতা-কর্মীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন।
এদিকে, দীর্ঘ ১০ বছর পর নিজ এলাকায় আগমনকে ঘিরে জেলা শহর ছাড়াও চকরিয়া-পেকুয়ায় নির্মাণ করা হয়েছে অন্তত দুই শতাধিক শুভেচ্ছা তোরণ। নেতাকর্মীদের রঙিন ব্যানার, পোস্টার, ফেস্টুনে ছেয়ে গেছে কক্সবাজারসহ চকরিয়া-পেকুয়া। তার আগমনী বার্তায় দলীয় নেতাকর্মীদের মাঝে আনন্দের কমতি নেই। পাড়া-মহল্লায় চায়ের দোকানেও সালাহউদ্দিনের আগমন নিয়ে তুমুল আলোচনা চলছে। তার সমর্থকদের ধারণা, চকরিয়া ও পেকুয়ায় পৃথক সংবর্ধনায় ব্যাপক মানুষের সমাগম হবে।
সালাহউদ্দিন আহমেদ চকরিয়া-পেকুয়া আসনের দুইবারের এমপি ও সাবেক যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী ছিলেন। পরে তার স্ত্রী অ্যাডভোকেট হাসিনা আহমদও এমপি নির্বাচিত হন।
সরকার বিরোধী আন্দোলন চলাকালে বিএনপির মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর ২০১৫ সালের ১০ মে রাজধানীর উত্তরা একটি ভবন থেকে সাদা পোশাকধারী আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে গুম হন সালাউদ্দিন আহমেদ। এর প্রায় দুই মাস পর ভারতের মেঘালয় রাজ্যের শিলং শহরের গলফ কোর্স ময়দানে ঘোরাঘুরির সময় ভারতের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে তিনি আটক হন।
কক্সবাজার জেলা ছাত্র দলের নেতা মোহাম্মদ সাঈদ আনোয়ার বলেন, আমাদের নেতা সালাহউদ্দিন আহমদকে বরণ করতে দলীয় নেতাকর্মী ও সর্বসাধারণ প্রস্তুত রয়েছে। প্রতিটি সংবর্ধনা সভায় ব্যাপক জনসমাগম হবে। সংবর্ধনা সভা সফল করতে কক্সবাজার জেলা বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।



