নূর মোহাম্মদ শেখ,প্রতিনিধিঃ
প্রবাস ফেরত আমান নামের খুরুস্কুল ছফোলন্ডি এলাকায় এক যুবক কে দিন দুপুরে ক্রিস দিয়ে কুপিয়ে হাত আলাদা করেছে ছৈয়দ হোসেন নামের এক নারী লোভী।
গত ১০ জুলাই ছফোলন্ডি মাঝের পাড়া বাজার এলাকায় আমানের বড় ভাইয়ের বউয়ের সাথে ছৈয়দ হোসেনের অবৈধ সম্পর্কের প্রতিবাদ করতে গেলে হঠাৎ আগে থেকে প্রস্তুত রাখা ক্রিস দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হাত থেকে হাতের কব্জি সহ পাঁচ আঙুল বিচ্ছিন্ন করে দেয় এই ছৈয়দ হোসেন।
সরেজমিনে এলাকায় গিয়ে দেখা যায় অত্যন্ত গরিব পরিবারের সন্তান আমান, জমি বন্ধক রেখে তিন সন্তানের জনক আমান পরিবারের একটু শান্তির জন্য পাড়ি জমিয়েছিলেন লিবিয়াতে।কিন্তু সেখানে ও ভালো মালিকের হাতে পড়েননি তিনি,সেখানেও অশান্তিতে দিন কাটছিল তার,যার কারণে কিছুদিন ছুটি নিয়ে পরিবারের সাথে দেখা করতে দেশে এসেছিলেন আমান।
কিন্তু দেশে ফিরে সম্মুখীন হয় ভয়াবহ এক বিপদের, দীর্ঘদিন ধরে সৈয়দ হোসেন নামের আওয়ামীলীগের এক নেতা তার বড় ভাইয়ের বউয়ের সাথে পরকীয়ার সম্পর্কে জড়িয়ে আছে, চেয়ারম্যান এবং মেম্বারের কাছে ধাপে ধাপে বিচার হলেও সে বিচার মানেনি অভিযুক্ত ছৈয়দ হোসেন।
ছৈয়দ হোসেন তার প্রভাব দেখিয়ে আমানের বড় ভাই শফিউল আলমের নিজ বাসাই ই শফিউল আলমের স্ত্রীর ওখানে প্রতিরাতে যাওয়া আসা করত,শফিউল আলম মূলত একজন জেলে,সে বেশীরভাগ সময় বোট নিয়ে মৎস্য আহরনে যায় সমুদ্রে।এবং এই সুযোগ এর সদ্ব্যবহার করেছে অভিযুক্ত ছৈয়দ হোসেন।
বুট থেকে ফিরে এসে এসব জানলে ও কিছু করার ছিলনা শফিউল আলমের,কারন অভিযুক্ত ছৈয়দ আলম প্রভাবশালী,অপারগ হয়ে ছফোলন্ডি মাঝের পাড়া বাজার এলাকায় এক চনামুড়ির দোকানে অভিযুক্ত সৈয়দ হোসেনের পা ধরে অনুরোধ করে শফিউল আলম,যাতে তার স্ত্রীর সাথে অবৈধ সম্পর্ক ত্যাগ করে।
কিন্তু এতে ঘটেছে হিতে বিপরীত, মারধর শুরু করে শফিউল আলম কে,এক পর্যায়ে শফিউল আলমের ভাই আমানকে মোবাইল করা হয় তার বড় ভাইকে দোকানে পেটানো হচ্ছে,এই খবর শুনে আমান এবং তার আরেক ভাই ছুটে আসে দোকানে।
এই ছুটে আসা যেন কাল হয়ে দাড়াল আমানের, গাড়ি থেকে নামা মাত্রই ছৈয়দ হোসেন এবং তার সাংগ পাংগরা লম্বা ক্রিস দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপাতে তাকে আমান এবং তার ভাইকে, শফিউল আলমের ভাই ইউনুস কোন ভাবে গা সরিয়ে নিলেও চেয়ার দিয়ে শরীর আগলে রাখতে চেয়েছিল আমান কিন্তু শেষ রক্ষা হলনা তার,কুপের ছোটে কখন যে হাত মাটিতে পড়ে গেল টের ও পেলনা আমান।
এলাকা বাসী বলছে আমান প্রবাস ফেরত তাকে আঘাত করে ভূল করেছে তার কোন অপরাধ ছিলনা,তাকে অহেতুক কুপিয়ে তার হাত কেটে ফেলা হয়েছে,এটির বিচার হওয়া উচিৎ।
আমানের মা ও বোন বলছেন তারা সঠিক বিচার চাই এই বর্বরতার।তার ছেলে তার বড় ভাইকে ঝগড়া থেকে আনতে গিয়েছিল কিন্তু সে হাত রেখেই চলে আসে।
কথা বলতেই কান্নায় ভেংগে পড়ছেন আমানের আরেক ভাই ইউনুস,তার দাবী হাত কেটে শান্ত হয়নি ছৈয়দ হোসেন,উল্টো করেছেন ডাকাতির মামলা,অবিলম্বে এই মামলা প্রত্যাহার চান তিনি নাহলে ছাত্র সমাজ নিয়ে এই অবিচারের আন্দোলনে নামবেন।
আমানের বউ বলছে মানুষের ইনকামের প্রধান হাত হচ্ছে ডান হাত সে হাত ই কেটে নিল আমার স্বামীর,ছোট ছোট তিন সন্তান নিয়ে কি হবে এখন আমার,সঠিক বিচার না পেলে আমি আত্মহত্যা করব।
একি কথা বলছেন আহত আমান ও,ন্যায় বিচার না পেলে সবাইকে নিয়ে করবে আত্মহত্যা।তার দাবী নতুন করে দেশ স্বাধীন হলেও এখনো খামছে আছে আগের সকুনরা।আমানের ছোট ছোট তিন বাচ্চারা ও ভাংগা গলায় চেয়েছেন তাদের বাবার হাত কাটার বিচার।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে চফুলন্ডি ইউনিয়নের ৪,৫ ও ৬ নং ওয়ার্ডের মহিলা মেম্বার গুলজার বেগম বলেন: অপরাধীর শাস্তি হওয়া উচিৎ,আমরা আছি কিন্তু সে আমাদের না জানিয়ে কিভাবে আইন হাতে নিয়ে একজনের হাত কাটতে পারে।
ইউপি মেম্বার শাহজাহান বলেন:ছৈয়দ হোসেন একজন বেয়াদব তাকে বার বার নিষেধ করার পর ও সে শফিউল আলমের বউ এর সাথে অবৈধ সম্পর্ক ত্যাগ করেনি,যার ফলে আজ এত বড় দুর্ঘটনা ঘটল,ছৈয়দ হোসেন এখন এলাকায় নেই,তাকে পেলে আমরা আইনের হাতে সোপর্দ করব।এবং যে মামলাটি এখন ভুক্তভোগী পরিবারের জন্য ছৈয়দ হোসেন করেছে সেটি সম্পূর্ণ মিথ্যা মামলা,ছৈয়দ হোসেন এর দোকানে কোন ধরনের ঢাকাতির ঘটনাই ঘটেনি।
ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে চিকিৎসা করতে গেলেও কোন ভাবেই প্রবাস ফেরত আমানের হাত জোড়া লাগাতে পারেনি আর।পরিশেষে ভূক্তভোগী পরিবার আশ্রয় নেই আইনের,এ বিষয়ে জানতে চাইলে কক্সবাজার সদর থানার ওসি রাকিবুজ্জামান বলেন:- আমাদের থানার গাড়ি এবং অন্যান্য সব কিছু ঠিক হতে একটু সময় লেগেছে,যার কারনে তাকে খুঁজতে সময় লেগেছে,তবে এখন থেকে আমাদের সব কিছু সচল হওয়াতে আমরা বিষয় টি গুরুত্বসহকারে নিব অবশ্যই এবং আমরা ভূক্তভোগী আমানের মামলাটি গ্রহন করেছি।
এদিকে আর লিভিয়া ফেরত যাওয়া হবেনা ছুটি নিয়ে আসা আমানের,সেই সাথে কমে গেল দেশের এক রেমিটেন্স যোদ্ধা।কিন্তু কিভাবে চলবে তার ৩ বাচ্ছা নিয়ে আমানের এক হাতে ইনকামের এই সংসার।যে হাতে পরিশ্রম করে ইনকাম করত সেই হাত ই কেটে নিল সন্ত্রাসী ছৈয়দ হোসেন। এখন দেখার বিষয় প্রবাস ফেরত এই রেমিটেন্স যোদ্ধা আমান তার সঠিক বিচার কতটুকু পাচ্ছে।


