মো. কামাল উদ্দিন:
আমরা অকৃতজ্ঞ বাঙালি, আমরা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দীর্ঘ বছর আন্দোলন সংগ্রাম করে একটি স্বাধীন বাংলাদেশ উপহার দিয়েছে, আমরা সেই মহাকালের মহানায়ক জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে বিগত ১৯৭৫ সালের এই দিনে ১৫ আগস্টে সপরিবারে হত্যাকরেছি, স্বাধীনতার সাড়ে তিন বছরের মধ্যেই আমরা বেমালুম ভুলে গিয়ে অকৃতজ্ঞ বাঙালি হিসেবে প্রমান করেছিলাম, এখন আবারও পুনরায় বঙ্গবন্ধু কন্যার সাথে অকৃতজ্ঞতার পটভুমি সৃষ্টি করেছি।তাতে আমার ইচ্ছে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে পদত্যাগ কেন করবে বা করতে বাধ্য করা হচ্ছে তার কিছু প্রশ্ন তুলে ধরছি- চলুন আমার অভিমানী প্রশ্নগুলো নিয়ে শেখ হাসিনার মুখোমুখি হয়–
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আপনার কার্যক্রমের উদ্দেশ্য কী?
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, আপনি যে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেছেন, তার প্রতিফলন কী আমরা সঠিকভাবে মূল্যায়ন করতে পারি? আমি কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন আপনাকে করতে চাই:
আপনি কি ব্যর্থ হয়েছেন? আপনার দুঃসময়ে ১৪ লাখ ভূমিহীন মানুষের জন্য জমি ও পাকা ঘর তৈরি করা প্রয়োজন ছিল কি? দারিদ্র্য কমানোর উদ্যোগের সফলতা কি ছিল? ২৫% মানুষকে দারিদ্র্য সীমার নিচ থেকে বের করার পরিকল্পনা কতটা সফল হয়েছে?
খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করা কি খুব বেশি গুরুত্বপূর্ণ ছিল?
স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উন্নয়নশীল দেশে উন্নতি করা কি প্রয়োজন ছিল? ৬০ বিলিয়ন ডলারের জিডিপি থেকে ৪৬০ বিলিয়ন ডলারের জিডিপির দেশ তৈরি করে আপনি কি পেয়েছেন?
ভারতের সাথে ছিটমহল সমস্যার সমাধান করা কি প্রয়োজন ছিল? দেশের সমুদ্রসীমা বাড়ানোর প্রয়োজন ছিল কি মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ফিরিয়ে আনা কি গুরুত্বপূর্ণ ছিল?
রাজাকারের বিচার ও বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার করা কি প্রয়োজন ছিল? বিদ্যুৎ উৎপাদন তিন হাজার মেগাওয়াট থেকে আঠারো হাজার মেগাওয়াটে উন্নতি করার প্রয়োজন ছিল কি? মাথাপিছু আয় ৬০০ ডলার থেকে ২৮০০ ডলারে উন্নতি করে কি অর্জন করা হয়েছে
বিনামূল্যে ৩৫ কোটি বই বিতরণও শিক্ষিত করা নিয়ে আমাদের কী অর্জন হয়েছে? পদ্মা সেতু নির্মাণ ও বঙ্গবন্ধু টানেল তৈরির প্রয়োজন ছিল কি মেট্রোরেল, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, নতুন রেলপথ ওএক্সপ্রেস ওয়ে নির্মাণের প্রয়োজন ছিল কি? ঢাকা শহরে ব্রডগেজ রেল পৌঁছানোর ব্যবস্থা করা, ২০০ লোকো মোটিভ ক্রয়, ৫০০ নতুন রেল কোচ কেনার প্রয়োজন ছিল কি?নতুন নতুন সমুদ্র বন্দর ও এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণের প্রয়োজন ছিল কি? নতুন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজ, ছাত্র-ছাত্রী হল তৈরি করা কি প্রয়োজন ছিল? বিধবা ভাতা, বয়স্ক ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতাও প্রবীণ শিক্ষাবৃত্তি প্রদান করা কি প্রয়োজন ছিল?
যেসব নতুন টিভি চ্যানেল ও ডিজিটাল সুযোগ সুবিধা আপনি প্রদান করেছেন, তার ফলে দেশের মানুষ কী লাভ করেছে?
আমরা কি অকৃতজ্ঞ জাতি? আমাদের অতীতের অন্ধকার যুগ ফিরিয়ে দিতে চান? ২০০১-২০০৬ সালের দুর্নীতি, বোমা হামলা ও অন্ধকারের দিনগুলো ফিরে আসুক এমনটা কি আমরা চাই?
এইসব প্রশ্নের উত্তরের মাধ্যমে আমরা আমাদের বর্তমান অবস্থার সঠিক মূল্যায়ন করতে পারব।
কোটা আন্দোলনের নামে দেশে অরাজকতা সৃষ্টি করে কোনো কারণ ছাড়া মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে পদত্যাগ করার জন্য যারা রাস্তায় নেমেছে, তাদের কাছে আমার প্রশ্ন—শেখ হাসিনার দোষ কি? তিনি কি অপরাধ করেছেন? সাধারণ মানুষকে ভুল তথ্য দিয়ে একটি নির্বাচিত সরকারকে অহেতুকভাবে পদত্যাগ করার জন্য বাধ্য করা হচ্ছে। শেখ হাসিনাকে ক্ষমতা থেকে সরানোর জন্য আন্দোলনের নামে অরাজকতা সৃষ্টি করে সাধারণ মানুষের জীবনকে হুমকির মুখে ফেলা হচ্ছে।
তথাকথিত কোটা আন্দোলনকারীরা, যাদের দাবি অযৌক্তিক হলেও সরকার আদালতের মাধ্যমে সমাধান করেছে, এখন সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে। তাদের মূল দাবি ছিলো কোটা বাতিল, কিন্তু এখন তারা শেখ হাসিনার পদত্যাগ দাবি করছে। এর মাধ্যমে স্পষ্ট হচ্ছে যে, তাদের উদ্দেশ্য সরকার পতন।
সরকার সকল দাবি মেনে নিয়েছে, কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ঘরে ফিরে যাওয়ার আহবান জানিয়েছে। এরপরও তারা সরকার বিরোধী আন্দোলনে লিপ্ত, যা থেকে প্রমাণিত হয় তাদের আসল উদ্দেশ্য। আমি আজ নিউ মার্কেট মোড়, সদরঘাটসহ বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে তাদের নাশকতা দেখেছি। আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গসংগঠনের পক্ষ থেকে আমরা প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং প্রশ্ন তুলছি, কেন শেখ হাসিনাকে পদত্যাগ করতে বলা হচ্ছে?
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিভিন্ন দাবি মেনে নিয়েছেন এবং আরো কথা থাকলে বৈঠকে বসার আহবান জানিয়েছেন। কিন্তু, তাদের উদ্দেশ্য হলো জামায়াত-শিবির ও বিএনপির পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা। এই ভুল সিদ্ধান্তের কারণে অনেক নিরীহ মানুষ প্রাণ হারিয়েছে।
মানুষের প্রাণ অমূল্য, যা ফিরে আসবে না। আজকাল প্রতিদিনই মানুষের প্রাণ যাচ্ছে, মা-বাবার বুক খালি হচ্ছে। দেশ এখন বিশ্ববাসীর কাছে প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে। আমি মনে করি, রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের পরিবর্তে সরাসরি বৈঠকে বসে সমস্যার সমাধান করা উচিত।
আজকের অসহযোগ আন্দোলন প্রতিহত করার জন্য চট্টগ্রাম মহানগরের আওয়ামি লীগের উদ্যোগে সাবেক মেয়র আওয়ামী লীগের মহানগর সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দীন এর নেতৃত্বে আমরা বঙ্গবন্ধু সৈনিক লীগ চট্টগ্রাম মহানগর আহ্বায়ক কমিটির পক্ষ থেকে অংশ নিয়ে শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করার জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহবান জানিয়েছি। আমরা জাতির জনকের আদর্শের সৈনিক হিসেবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা মোতাবেক রাজপথে থাকার অঙ্গীকার করছি।
তথাকথিত কোটা বাতিল আন্দোলনের নামে অরাজকতা এবং নাশকতার বিরুদ্ধে সচেতনতা
বাংলাদেশে কোটা বাতিল আন্দোলনের নামে যে অরাজকতা ও নাশকতা চলছে, তা দেশ ও জাতির জন্য বড় ধরনের হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। আন্দোলনের নামে কিছু ব্যক্তি ও গোষ্ঠী ছাত্রদেরকে ভুল পথে পরিচালিত করে, রাজপথে নেমে অশান্তি সৃষ্টি করছে। এদের কর্মকাণ্ডের ফলে অকালে প্রাণ হারাচ্ছে বহু নিরীহ মানুষ, যা কখনোই গ্রহণযোগ্য নয়।
সত্যিকার উদ্দেশ্যহীন আন্দোলনের নামে যে অরাজকতা সৃষ্টি করা হচ্ছে, তার পেছনে যারা উস্কানীমূলক পরামর্শ দিয়ে দেশের সর্বনাশের পথে ঠেলে দিচ্ছে, তারা মানবতা ও বিবেকের কোন নৈতিকতা অনুসরণ করছে না। এসব উস্কানিমূলক কর্মকাণ্ড শুধু ছাত্রদের জীবনকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলছে না, বরং দেশের শান্তি ও উন্নয়নকেও বাধাগ্রস্ত করছে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কোটা বাতিলের বিষয়ে আইনি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন এবং সাধারণ মানুষের দাবি মেনে নিয়েছেন। তথাপি, কিছু পক্ষের উদ্দেশ্য যে কেবল আন্দোলনের নামে নাশকতা সৃষ্টির মাধ্যমে সরকারকে অস্থিরতায় ফেলা, তা স্পষ্ট। এদের মূল লক্ষ্য হলো জাতিকে বিভক্ত করা এবং সরকারের উন্নয়নমুখী কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত করা।
আমরা বিশ্বাস করি, রাজনৈতিক ও সামাজিক সমস্যার সমাধান শান্তিপূর্ণ এবং আলোচনার মাধ্যমে হতে পারে। আন্দোলনের নামে সহিংসতা ও নাশকতা কখনোই সঠিক পথে পরিচালিত হতে পারে না। জনগণের জীবন, দেশের শান্তি ও নিরাপত্তা সবকিছুই আজ সংকটের মুখোমুখি। আমাদের সকলকে মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে এবং এই নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান নিতে হবে।
আসুন, আমরা সবাই মিলে সচেতন হই এবং দেশের উন্নয়ন ও শান্তি রক্ষায় অবদান রাখি। সহিংসতা ও অরাজকতার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলি এবং আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করি। আমাদের ভবিষ্যৎ নিরাপদ ও সুস্থ রাখতে, আন্দোলনের নামে নাশকতা ও অরাজকতা থেকে দূরে থাকাই আমাদের কর্তব্য।
লেখকঃ সাংবাদিক গবেষক টেলিভিশন উপস্থাপক ও
আহ্বায়ক – বঙ্গবন্ধু সৈনিক লীগ চট্টগ্রাম মহানগর।



