মোহাঃ নাছির উদ্দীন,চট্টগ্রাম প্রতিনিধিঃ
১। র্যাব-১৫, কক্সবাজার দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় অপরাধ নির্মূলে প্রতিনিয়ত অবদান রেখে চলেছে। দায়িত্বাধীন এলাকা কক্সবাজার ও বান্দরবান জেলায় হত্যা, ধর্ষণ, জঙ্গী, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, জলদস্যু, ডাকাত, চুরি-ছিনতাই, সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ, অপহরণ এবং মাদকের ভয়াল থাবা থেকে দেশের যুব সমাজকে রক্ষা ও দেশব্যাপী মাদকদ্রব্যের বিস্তাররোধে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
২। এরই ধারাবাহিকতায় র্যাব-১৫, আভিযানিক দলের গোয়েন্দা তৎপরতা ও নজরদারীর প্রেক্ষিতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে, কতিপয় মাদক ব্যবসায়ী কক্সবাজার জেলার টেকনাফ থানাধীন টেকনাফ সদর ইউনিয়নস্থ ০৯নং ওয়ার্ডের বরইতলী এলাকার জনৈক সালামত উল্লাহর পৈত্রিক পাকা বসতঘরের ভিতর মাদকদ্রব্য ক্রয়-বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে অবস্থান করছে। প্রাপ্ত সংবাদের ভিত্তিতে গত ২৯ জুন ২০২৪ তারিখ অনুমান ০৭.৩০ ঘটিকায় র্যাব-১৫, সিপিসি-১ টেকনাফ ক্যাম্পের একটি চৌকস আভিযানিক দল বর্ণিত স্থানে মাদক বিরোধী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে।
র্যাবের অভিযানিক দল উক্ত এলাকার জনৈক সালামত উল্লাহর পৈত্রিক পাকা বসতঘরের সামনে উপস্থিত হলে র্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে কতিপয় ব্যক্তি ঘর থেকে বের হয়ে কৌশলে পালানোর চেষ্টাকালে ০৩জন মাদক কারবারীকে আটক করতে সক্ষম হয় এবং তাদের অপর এক সহযোগী কৌশলে পালিয়ে যায়। আটককৃত ব্যক্তিদেরকে জিজ্ঞাসাবাদে তাদের নাম-ঠিকানাসহ পলাতক ব্যক্তির নাম ঠিকানাও প্রকাশ করে এবং ২নং ও ৩নং ব্যক্তি জানায় যে, তারা উভয়েই মায়ানমারের নাগরিক।
আটককৃত ১নং আসামীর দেহ তল্লাশীকালে সে জানায়, ধৃত ২নং ও ৩নং আসামীদ্বয় পার্শ্ববর্তী দেশ হতে ইয়াবা ট্যাবলেট বহন করে নিয়ে এসে তার নিকট বুঝিয়ে দেয়। যা ১নং আসামীর পৈত্রিক বসতঘরের শয়ন কক্ষের খাটের নিচে একটি সাদা রংয়ের প্লাস্টিকের বস্তার ভিতরে মজুদ করে রাখে বলে স্বীকার করে।
পরবর্তীতে উপস্থিত সাক্ষীদের সম্মুখে গ্রেফতাকৃত আসামীদের হেফাজতে থাকা সাদা রংয়ের প্লাস্টিকের বস্তা তল্লাশী করে *সর্বমোট ১,৬০,০০০ (এক লক্ষ ষাট হাজার) পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।
৩। গ্রেফতারকৃত মাদক কারবারীদের বিস্তারিত পরিচয়ঃ
(১) সালামত উল্লাহ(২৪), পিতা-নুর আলম, মাতা-জুহুরা বেগম, সাং-বরইতলী, ০৯নং ওয়ার্ড, ০৩নং টেকনাফ সদর ইউনিয়ন, থানা-টেকনাফ, জেলা-কক্সবাজার।
(২) হারুন আমিন(১৯) (এফডিএমএন ), পিতা-সব্বির আহম্মদ, মাতা-নুর খাতুন, সাং-আশিক্কা পাড়া, থানা-মংডু, জেলা-বুচিদং, দেশ-মায়ানমার।
(৩) আসমত উল্লাহ(১৮) (এফডিএমএন ), পিতা-আলী আকবর, মাতা-দিলদার বেগম, সাং-ফেরাংপ্রু, থানা-মংডু, জেলা-বুচিদং, দেশ-মায়ানমার।
৪। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, গ্রেফতারকৃত ও পলাতক মাদক কারবারীরা দীর্ঘদিন ধরে ইয়াবা ব্যবসায়ের সাথে জড়িত। ধৃত ১নং আসামীকে মাদকদ্রব্যের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদে জানায়, সে ও পলাতক ৪নং আসামী পরস্পর যোগসাজসে ২নং ও ৩নং আসামীদ্বয়ের সহায়তায় দীর্ঘদিন যাবৎ মাদকদ্রব্য ইয়াবা ট্যাবলেট অবধৈভাবে পার্শ্ববর্তী দেশ হতে সংগ্রহ করে কক্সবাজার জেলাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্রয় করে আসছে বলে স্বীকার করে।
৫। উদ্ধারকৃত আলামতসহ গ্রেফতারকৃত ও পলাতক মাদক কারবারীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণার্থে কক্সবাজার জেলার টেকনাফ মডেল থানায় লিখিত এজাহার দাখিল করা হয়েছে।



