সদর্শন আচার্য্য,মদন নেত্রকোনা প্রতিনিধিঃ
নেত্রকোনার মদন উপজেলায় তাপদাহে জনজীবন বিপরজস্ত এরই সাথে শুরু হয়েছে, পানির সংকট ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় বেশিরভাগ নলকূপের পানি না ওঠায় বিভিন্ন এলাকার সাধারণ মানুষ সুপেয় পানির ভোগান্তিতে পড়েছেন।
গ্রীস্মের শুরুর পূূর্ব থেকে এলাকার বেশিরভাগ নলকূপে প্রয়োজনীয় খাবার পানি মিলছে না। প্রয়োজনীয় পানি না ওঠায় বর্তমানে পানি সংগ্রহে গ্রামের লোকজন চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।
অনেকেই সুপেয় পানির সংকট মোকাবিলায় বাড়ির নলকূপ উঠিয়ে নিচু জায়গায় স্থানান্তর করছেন। গ্রামের অনেকই সুপেয় পানি সংগ্রহে দূর দূরান্ত থেকে সকাল, বিকাল কলসি ও বালতি নিয়ে পানি সংগ্রহ করছেন।
উপজেলার চাঁনগাও ইউনিয়নের রত্নপুর গ্রামের বাসিন্দা দুধ নিয়া বলেন নলকূপ থেকে পানি বের করতে জীবন প্রায় শেষ হয়ে যায়। জীবন বাঁচানোর জন্য দূর দুরান্ত থেকে পানি সংগ্রহ করতে হচ্ছে।
মদন ইউনিয়নের ফেকনি গ্রামের বাসিন্দা রবিউল ইসলাম বলেন “এই গরমে ঠান্ডা পানি খাওনের লাইগা জীবন অস্থির হয়ে যায় তারপরও কি করাম অন্যের বাড়ি থাইকা পানি আইনা খাইতাছি,,। পরস কিলা গ্রামের গৃহবধূ ফাতেমা বলেন বাড়ির নলকূপে ঠিক মতো পানি উঠছে না। এক বালতি পানি বের করতে নলকূপ চাপতে চাপতে হয়রান হতে হয়। তাই বাড়ির নলকূপটি উঠিয়ে নিচু জায়গায় বসিয়েছি। কিন্তু তাতেও তেমন কাজ হচ্ছে না।
একই গ্রামের কৃষক সবুজ মিয়া জানান, প্রায় এক মাস যাবৎ আমাদের বাড়ির নলকূপে পানি কম উঠছে। পরিবারের পানির চাহিদা পূরণে কষ্ট হওয়ায় নলকূপটি উঠিয়ে বাড়ির নিচু জায়গায় স্থানান্তর করেছি।কিন্তু তাতেও তেমন কাজ হচ্ছে না
উপজলোর কাটাল ইউনিয়নের বাসিন্দা শিক্ষক পরিমল, কৃষক বকুল মিয়া জানান,শুধু খাবার পানিই নয় গৃহস্থলীর কাজেও বিশুদ্ধ পানির সংকট রয়েছে এলাকায়। বিভিন্ন এলাকায় শত শত পুকুর থাকলেও বেশিরভাগ পুকুর ভরাট করে বাড়ি ঘর নির্মান করেছে । আবার অনেকেই পুকুরে মাছ চাষ করায় তাতে নামতেও দিচ্ছে না। ফলে সংকট আরও বাড়ছে।
জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপসহকারী প্রকৌশলী রুমানআরা বলেন, একেক জায়গার পানির স্তর একেক রকম। তাছাড়া ও বেশির ভাগ এলাকায় ও পৌরসভায় অনেক পুকুর কুয়া খাল, বিল, নদী, নালা ছিল অনেকে ভরাট করে ফেলেছে,, গ্রীষ্মকালে পানির ব্যাপক ব্যবহারসহ নানা কারণে পানির স্তর দিন দিন নিচে নেমে যাচ্ছে এ কারণে নলকূপ ও গভীর-অগভীর সেচযন্ত্র গুলোতে পর্যাপ্ত পানি ওঠে না। তাই বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দেয় তবে এ অবস্থা সাময়িক। প্রয়াত সাংসদ জনাব রেবেকা মমিন সেনিটেশন প্রকল্পের আওতায় পল্লী এলাকায় নিরাপদ পানির সংকট মোকাবেলায়(১৪৪) গভীর নলকূপ বরাদ্দ দিয়েছেন ইতি মধ্যে (১৩৬) বসানো হয়েছে বাকি ৮ টি নলকূপ বসানো প্রক্রিয়ায় রয়েছে। এগুলো বসানো শেষ হলে সাধারণ মানুষের সুপ্রেয় পানির সংকট কিছুটা হলেও কমবে। তবে বৈশাখ-জ্যেষ্ঠ মাসে বৃষ্টি শুরু হলেই আপনা-আপনি পানির সমস্যা সমাধান হয়ে যাবে।


