চট্টগ্রাম নগরীর খুলশীর একটি আবাসিক বাড়ি থেকে চীন, পাকিস্তান, লাওস, নেপাল ও ভিয়েতনামের ৬৩ নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পুলিশের দাবি, ওই বাড়িতে বসে বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ও ওয়েবসাইট ব্যবহার করে প্রতারণাসহ নানা ধরনের অনলাইন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালানো হচ্ছিল।
শুক্রবার নগরীর দামপাড়া পুলিশ লাইনসে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান নগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (অপরাধ ও অভিযান) ফয়সাল আহম্মদ।
পুলিশ জানায়, খুলশী থানার কৃষ্ণচূড়া আবাসিক এলাকার ৪ নম্বর সড়কের একটি বাড়িতে অভিযান চালায় সিএমপির কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট ও খুলশী থানা পুলিশ। অভিযানে ওই বাড়ি থেকে ৬৩ বিদেশি নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ১৩৪টি মোবাইল ফোন ও ৫৭টি ল্যাপটপ। এছাড়া একটি অ্যাপল ট্যাব, সিপিইউ, স্যামসাং মনিটর, কিবোর্ড, মাউস, প্রিন্টার, পাঁচটি পেনড্রাইভ ও চারটি সিমকার্ড উদ্ধার করা হয়েছে। পাশাপাশি পাকিস্তানের তিনটি জাতীয় পরিচয়পত্র এবং কম্বোডিয়ার একটি কর্মসংস্থান কার্ডও পাওয়া গেছে।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, বাড়িটির মালিক একজন দুবাইপ্রবাসী। প্রায় দেড় মাস আগে বাড়িটি ভাড়া নিয়ে সেখানে অবস্থান শুরু করেন এসব বিদেশি নাগরিক। এত বিপুলসংখ্যক মানুষের জন্য একসঙ্গে এতগুলো ডিজিটাল ডিভাইসের ব্যবহার থাকায় বাড়িটিতে সংঘবদ্ধভাবে অনলাইন কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছিল বলে ধারণা করছে পুলিশ।
দেশি-বিদেশি সহযোগীদের তথ্য
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা দেশি ও বিদেশি কয়েকজন সহযোগীর বিষয়ে তথ্য দিয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। তাদের কয়েকজন চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে।
বাড়ি ভাড়া নেওয়া, বিদেশি নাগরিকদের যাতায়াত, প্রযুক্তিগত সরঞ্জাম সংগ্রহ কিংবা অর্থ লেনদেনে এসব সহযোগীর কোনো ভূমিকা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
কী ধরনের অনলাইন অপরাধ?
পুলিশ বলছে, উদ্ধার হওয়া মোবাইল ফোন ও ল্যাপটপগুলো পরীক্ষা করে ওই বাড়ি থেকে পরিচালিত অনলাইন কার্যক্রমের ধরন জানার চেষ্টা করা হবে। এসব ডিভাইসের ফরেনসিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে অনলাইন যোগাযোগ, ব্যবহৃত ওয়েবসাইট ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, অর্থ লেনদেন এবং সম্ভাব্য ভুক্তভোগীদের বিষয়ে তথ্য পাওয়ার আশা করছে তদন্তকারীরা।
এত বিপুলসংখ্যক বিদেশি নাগরিক কীভাবে একটি আবাসিক বাড়ি ভাড়া নিলেন এবং দেড় মাস ধরে সেখানে অবস্থান করলেন এ বিষয়টিও তদন্তের আওতায় রয়েছে। একই সঙ্গে তাদের বাংলাদেশে প্রবেশ, ভিসা, ভাড়া চুক্তি এবং স্থানীয় যোগাযোগের বিষয়গুলোও খতিয়ে দেখা হবে।
বড় নেটওয়ার্কের সন্ধান মিলবে কি?
একটি বাড়ি থেকে ৬৩ বিদেশি নাগরিককে গ্রেপ্তার এবং বিপুলসংখ্যক মোবাইল-ল্যাপটপ উদ্ধারের ঘটনায় ঘটনাটি এখন পুলিশের তদন্তে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। প্রাথমিকভাবে দেশি-বিদেশি সহযোগীদের তথ্য পাওয়ায় এর পেছনে আরও বড় কোনো নেটওয়ার্ক রয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুর রহিম জানান, এ ঘটনায় খুলশী থানায় মামলা হচ্ছে। তদন্ত এগিয়ে গেলে ওই বাড়ি থেকে পরিচালিত অনলাইন কর্মকাণ্ড এবং এর সঙ্গে জড়িতদের বিষয়ে আরও তথ্য বেরিয়ে আসবে বলে আশা করছে পুলিশ।
আরু|



