দুই যুগ আগে কিশোরগঞ্জে দোকানে ডাকাতির সময় দুই ব্যক্তিকে হত্যার মামলায় মৃত্যুদণ্ড থেকে সাজা কমে ১০ বছর হওয়া নুর মোহাম্মদ অবশেষে আদালতে আত্মসমর্পণ করেছেন। তার বয়স ১০৪ বছর বলে দাবি করেছেন আইনজীবী। আত্মসমর্পণের পর আপিলের শর্তে জামিন চাইলেও তা নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-৪-এর বিচারক ফারজানা ইয়াসমিনের আদালতে আইনজীবীর মাধ্যমে আত্মসমর্পণ করেন নুর মোহাম্মদ। তার পক্ষে জামিনের আবেদন করেন আইনজীবী ফয়সাল আহমেদ। শুনানি শেষে আদালত জামিন আবেদন নাকচ করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
আদালতে নুর মোহাম্মদের আইনজীবী বলেন, তার বয়স ১০৪ বছর। তিনি স্বাভাবিকভাবে হাঁটাচলা করতে পারেন না এবং বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্ত। নিয়মিত চিকিৎসা ও ওষুধ সেবন করতে হয় তাকে। স্বেচ্ছায় আদালতে আত্মসমর্পণ করায় আপিলের শর্তে জামিন চাওয়া হয়।
অসুস্থতার কথা বিবেচনা করে নিজ খরচে পরিবহনের মাধ্যমে কারাগারে যাওয়ার অনুমতিও চেয়েছিলেন নুর মোহাম্মদ। তবে আদালত সেই আবেদনও নামঞ্জুর করেন।
যেভাবে ঘটেছিল হত্যাকাণ্ড
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০০০ সালের ৩০ ডিসেম্বর রাতে কিশোরগঞ্জের বড় বাজার এলাকায় দোকান মালিক মো. ফেরদৌসের দোকানে ডাকাতি হয়। এ সময় মোশাররফ হোসেন ও আবদুল কবির নামে দুজনকে হত্যা করা হয়। ডাকাতরা দোকানের সিন্দুক থেকে প্রায় সাড়ে ১২ লাখ টাকা ও ১১০ ভরি স্বর্ণ লুট করে নিয়ে যায়।
ঘটনার পর দোকান মালিক ফেরদৌস কিশোরগঞ্জ থানায় মামলা করেন। তদন্ত শেষে ২০০২ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি ১৪ জনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় পুলিশ।
বিচার শেষে ২০০৩ সালের ১৬ নভেম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-৪ নুর মোহাম্মদসহ আট আসামিকে মৃত্যুদণ্ড এবং পাঁচজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। মামলার বিচার চলাকালে এক আসামির মৃত্যু হয়।
মৃত্যুদণ্ড কমে হয় ১০ বছর
পরবর্তী সময়ে মামলার ডেথ রেফারেন্স ও আসামিদের আপিলের শুনানি হয় উচ্চ আদালতে। ২০০৭ সালের ১৯ আগস্ট উচ্চ আদালত আলমের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন। অন্য আসামিদের সাজা বিভিন্ন মেয়াদে কমানো হয়। ওই প্রক্রিয়ায় নুর মোহাম্মদের মৃত্যুদণ্ড কমিয়ে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
মামলার নথি অনুযায়ী, নুর মোহাম্মদ হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছিলেন। পরে আদালত থেকে জামিন নিয়ে তিনি পলাতক হন। এমনকি রায় ঘোষণার সময়ও তিনি আদালতে উপস্থিত ছিলেন না। দীর্ঘ সময় পলাতক থাকার পর মঙ্গলবার আদালতে আত্মসমর্পণ করেন তিনি।
১০ বছরের সাজা নিয়ে আদালতে আত্মসমর্পণের পর ১০৪ বছর বয়সে নুর মোহাম্মদকে কারাগারে পাঠানোর এ ঘটনা এখন আলোচনায় এসেছে।
আরু|



