চট্টগ্রাম বন্দরে ব্যবহৃত গাড়ির যন্ত্রাংশের ঘোষণা দিয়ে আনা একটি চালানে মিলেছে বিএমডব্লিউ স্পোর্টস বা রেসিং কারসহ আরও কয়েকটি গাড়ির অংশ। কাস্টমস নথির সঙ্গে কনটেইনারে পাওয়া পণ্যের ব্যাপক অসঙ্গতি ধরা পড়েছে কায়িক পরীক্ষায়। কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের (সিআইআইডি) গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে মঙ্গলবার চালানটির কায়িক পরীক্ষা করা হয়।
বুধবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
জানা যায়, চট্টগ্রামের হালিশহরের আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান এম/এস আয়াজ অটো ইন্টারন্যাশনাল সংযুক্ত আরব আমিরাতের আরব জাপান ইউজড কারস অ্যান্ড স্পেয়ার পার্টস কোম্পানি এলএলসি থেকে চালানটি আমদানি করে। চালান খালাসের দায়িত্বে ছিল একটি সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট।
কাস্টমস নথিতে বিভিন্ন ব্যবহৃত গাড়ির যন্ত্রাংশ থাকার কথা উল্লেখ করা হলেও কনটেইনার খুলে পরীক্ষার পর পাওয়া যায় সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র।
কায়িক পরীক্ষায় সিকেডি বা খণ্ডিত অবস্থায় পাওয়া যায় দুই আসনের একটি বিএমডব্লিউ এস-ড্রাইভ ২৩আই স্পোর্টস বা রেসিং কার। ২০০৯ মডেলের এই গাড়িটির ইঞ্জিন ক্ষমতা প্রায় ২ হাজার ৫০০ সিসি।
এ ছাড়া পাওয়া গেছে ২০১৬ মডেলের প্রায় ৩ হাজার সিসি ক্ষমতাসম্পন্ন বিএমডব্লিউ ৭৪০আই গাড়ির সামনের অর্ধাংশ। একই চালানে ছিল ইসুজু ব্র্যান্ডের পাঁচটি হাফ-কাট ট্রাক। এসব ট্রাকের ভেতরেও বিভিন্ন ব্যবহৃত গাড়ির যন্ত্রাংশ পাওয়া যায়।
কাস্টমস কর্তৃপক্ষ বলছে, ঘোষিত পণ্যের সঙ্গে প্রকৃত পণ্যের এই পার্থক্য কাস্টমস আইন ২০২৩ ও বিদ্যমান আমদানি নীতি লঙ্ঘনের আওতায় পড়তে পারে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট আমদানিকারক ও সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
পাশাপাশি বিএমডব্লিউ গাড়িটির বাকি অংশ কোথায় রয়েছে, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। উদ্ধার হওয়া গাড়ি ও অংশগুলোর ইঞ্জিন ও চ্যাসিস-সংক্রান্ত তথ্য যাচাইসহ প্রকৃত শুল্কমূল্য নির্ধারণের কাজও চলছে।
অর্থাৎ, ব্যবহৃত গাড়ির যন্ত্রাংশের ঘোষণা দিয়ে আনা একটি কনটেইনার খুলতেই বেরিয়ে এসেছে আস্ত একটি বিএমডব্লিউ স্পোর্টস কার, বিলাসবহুল গাড়ির অংশ এবং পাঁচটি হাফ-কাট ট্রাক, যা নিয়ে এখন তদন্ত করছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।
আরু|



