অস্ট্রেলিয়ার তাসমানিয়ার দুর্গম বনাঞ্চলে হাঁটতে গিয়ে নিখোঁজ হওয়া বেলজিয়ান পর্যটক সেলিন ক্রেমারের দেহাবশেষ প্রায় তিন বছর পর উদ্ধার হয়েছে। দীর্ঘ তদন্ত শেষে তাঁর মৃত্যুকে দুর্ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করেছে তাসমানিয়ার করোনার আদালত।
৩১ বছর বয়সী সেলিন ক্রেমার ২০২৩ সালের ১৭ জুন তাসমানিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের প্রত্যন্ত ‘ফিলোসফার ফলস’ এলাকায় হাঁটতে বের হন। নির্ধারিত সময়ের পরও তিনি ফিরে না আসায় প্রায় ১০ দিন পর তাঁর নিখোঁজ হওয়ার খবর দেওয়া হয়। পরে একটি ট্রেইলহেডে তাঁর গাড়ি পাওয়া গেলেও দীর্ঘ তল্লাশিতেও তাঁর কোনো সন্ধান মেলেনি।
২০২৫ সালের ডিসেম্বরে নতুন করে অনুসন্ধান চালানোর সময় একটি ট্রেইল থেকে প্রায় ৩০০ মিটার দূরে সেলিনের মোবাইল ফোন পাওয়া যায়। ফোনের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, নিখোঁজ হওয়ার দিন দুপুর ২টা ২১ মিনিট থেকে ২টা ৪২ মিনিটের মধ্যে তিনি কয়েকটি ছবি ও ভিডিও ধারণ করেছিলেন। এরপর তিনি কয়েকবার গুগল ম্যাপ ব্যবহার করেন। সর্বশেষ ম্যাপ ইনপুটের সময় ছিল বিকেল ৪টা ১৮ মিনিট।
এরপর ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে সেলিনের পরিবার ও বন্ধুদের উদ্যোগে পরিচালিত ব্যক্তিগত অনুসন্ধানে একটি নদীর কাছে তাঁর দেহাবশেষ পাওয়া যায়। পরে সেখানে আরও হাড়, দাঁত, পোশাক ও গাড়ির চাবি উদ্ধার করা হয়। ফেব্রুয়ারিতে পুলিশ নিশ্চিত করে, উদ্ধার হওয়া দেহাবশেষ সেলিন ক্রেমারেরই।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) প্রকাশিত প্রতিবেদনে তাসমানিয়ার করোনার ম্যাডেলিন উইলসন জানান, ২০২৩ সালের ১৭ থেকে ২১ জুনের মধ্যে সেলিনের মৃত্যু হয় এবং ঘটনাটি দুর্ঘটনাজনিত।
তদন্তে জানা যায়, ফিলোসফার ফলস ঘোরার পর সেলিন সরাসরি গাড়ির পার্কিং এলাকায় ফিরে না গিয়ে ম্যাগনেট ড্যামের দিকে যাওয়া একটি অপরিষ্কার পথে ঢুকে পড়েছিলেন। পরে তিনি মূল পথ থেকে বিচ্যুত হয়ে পথ হারিয়ে ফেলেন। ওই সময় তাসমানিয়ায় শীতকাল চলছিল এবং দ্রুত অন্ধকার নেমে আসছিল। তাপমাত্রা ছিল প্রায় হিমাঙ্কের কাছাকাছি। তাঁর পরনে পর্যাপ্ত উষ্ণ পোশাক ছিল না এবং বৃষ্টি বা পানিরোধী পোশাকও ছিল না।
দেহাবশেষে একাধিক হাড় ভাঙার চিহ্ন পাওয়া গেছে। তবে এসব আঘাত পড়ে যাওয়ার কারণে হয়েছিল, নাকি মৃত্যুর পর নদীর স্রোতে পাথর ও ধ্বংসাবশেষের সঙ্গে ধাক্কা লেগে হয়েছিল তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। হাইপোথার্মিয়া, আঘাত কিংবা পানিতে ডুবে যাওয়াকে সম্ভাব্য মৃত্যুর কারণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।
তদন্তে অন্য কারও সম্পৃক্ততার কোনো প্রমাণ না পাওয়ায় সেলিনের মৃত্যুকে দুর্ঘটনা হিসেবেই রায় দিয়েছেন করোনার।
দীর্ঘ তিন বছর পর বোনের দেহাবশেষ উদ্ধারের ঘটনায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন সেলিনের বোন অ্যামেলি। তিনি বলেন, দীর্ঘ অপেক্ষার পর অবশেষে সেলিনকে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে। তাঁর স্মৃতি ও ভালোবাসা পরিবারের হৃদয়ে চিরকাল বেঁচে থাকবে।
এদিকে, ‘ফিলোসফার ফলস’ ট্রেইকের প্রবেশমুখে সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড স্থাপনের পরামর্শ দিয়েছেন করোনার ম্যাডেলিন উইলসন। তাঁর মতে, পথটি বিনোদনের জন্য নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ করা হয় না এবং জরাজীর্ণ ও অসমতল হওয়ায় এটি বিপজ্জনক হতে পারে_এমন সতর্কবার্তা সেখানে থাকা প্রয়োজন।
আরু|



