বিমানবন্দরে বিশৃঙ্খলা, সরকারি কাজে বাধা ও নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগে গ্রেপ্তার সাবেক সংসদ সদস্য মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান আদালতে নেওয়ার সময় হেলমেট পরতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। এ সময় তিনি বলেন, ‘পুলিশের গুলি খাবো, তবু হেলমেট পরবো না।’
শনিবার (৩ অক্টোবর) ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম (সিএমএম) আদালত প্রাঙ্গণে এ ঘটনা ঘটে।
এর আগে শুক্রবার রাজধানীর ক্যান্টনমেন্টের ডিওএইচএস এলাকার বাসা থেকে আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। বিমানবন্দরে বিশৃঙ্খলা ও কর্মকর্তাকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় শনিবার তাকে প্রিজনভ্যানে করে আদালতে হাজির করা হয়।
আদালত প্রাঙ্গণে প্রিজনভ্যান থেকে নামানোর সময় নিরাপত্তার কারণে তার মাথায় হেলমেট ও হাতে হাতকড়া পরানোর উদ্যোগ নেয় পুলিশ। এতে হেলমেট পরতে আপত্তি জানান আখতারুজ্জামান।
তিনি বলেন, ‘আমি হেলমেট পরবো না। আমাকে অবৈধভাবে হেলমেট পরানো হচ্ছে। আমি আওয়ামী লীগের না। এখানে আমি গুলি খাবো পুলিশের। কিন্তু হেলমেট পরবো না।’
তবে হাতকড়া পরানো নিয়ে আপত্তি করেননি তিনি। বরং বলেন, ‘হাতকড়া পরান। ১০০ বার হাতকড়া পরান। অসুবিধা নেই।’
পরে তার হাতে হাতকড়া পরানো হয়। এ সময় দুই হাত উঁচিয়ে আখতারুজ্জামান বলেন, ‘আমার সৃষ্ট দেশে আমাকে হ্যান্ডকাফ পরানো হচ্ছে। এই যে জোর করে হেলমেট পরাচ্ছে।’
পাশ থেকে এক পুলিশ সদস্য তাকে জানান, তার নিরাপত্তার জন্যই হেলমেট পরানো হচ্ছে। তবে আপত্তি সত্ত্বেও শেষ পর্যন্ত আখতারুজ্জামানকে হেলমেট পরিয়ে প্রিজনভ্যান থেকে নামানো হয়। পরে তিনি হেলমেটটি ছুড়ে ফেলেন।
যেখান থেকে মামলার সূত্রপাত
মামলার এজাহার অনুযায়ী, ১ অক্টোবর সৌদি আরবের মদিনা থেকে আসা বাংলাদেশ বিমানের বিজি-৩৩৮ ফ্লাইটের যাত্রীদের লাগেজ পেতে বিলম্ব হয়। এ সময় ৮ নম্বর লাগেজ বেল্ট এলাকায় ট্রলি সংকট দেখা দিলে যাত্রীদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগীব সামাদ ঘটনাস্থলে গেলে তাকে গালিগালাজ, ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বের করে দেওয়া এবং মারধরের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে।
এজাহারে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, বিমানবন্দরের সংরক্ষিত এলাকায় ভিডিও ধারণে নিষেধ করায় নিরাপত্তা সুপারভাইজার ওয়ারেন্ট অফিসার মোহাম্মদ কামাল উদ্দিনকে লাঞ্ছিত করা হয়। এ ছাড়া জমজমের পানির বোতল ক্ষতিগ্রস্ত করা এবং বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের এক প্রতিনিধির সঙ্গে মারমুখী আচরণের অভিযোগও রয়েছে।
এসব অভিযোগে বিমানবন্দরের নিরাপত্তা কর্মকর্তা মো. শাহরিয়ার আলম সজিব বাদী হয়ে বিমানবন্দর থানায় মামলা করেন। মামলায় দণ্ডবিধির ১৮৬, ১৮৯, ২৯৪, ৩২৩, ৩৫২, ৩৫৩, ৫০৪ ও ৫০৬ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য ও অন্যান্য আলামত যাচাই করে তদন্ত করা হচ্ছে।
আরু|



