রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে ২০১৩ সালের ৫ মে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশকে কেন্দ্র করে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৪১ আসামির বিরুদ্ধে পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ৩ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
রোববার (১৬ আগস্ট) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ দিন ধার্য করেন।
প্যানেলের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
এর আগে সকালে মামলায় গ্রেপ্তার থাকা নয় আসামিকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। পাশাপাশি গ্রেপ্তার থাকা আরও দুই আসামিসহ মোট ১১ জনকে আগামী ৩ সেপ্টেম্বর ট্রাইব্যুনালে হাজির করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের হয়ে ছিলেন প্রসিকিউটর জহিরুল আমিন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ ও সহিদুল ইসলাম সরদার।
শুনানিতে প্রসিকিউটর জহিরুল আমিন জানান, এ মামলায় শেখ হাসিনাসহ ৩০ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছিল। তবে আসামিদের স্থায়ী ও অস্থায়ী ঠিকানায় গিয়ে তাদের পাওয়া যায়নি। এর মধ্যে ২০ জনের বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন ট্রাইব্যুনালে এসেছে। বাকিদের প্রতিবেদন এখনো পাওয়া যায়নি।
তিনি আরও জানান, প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট ইস্যু না হওয়ায় অন্য মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হাসানুল হক ইনু এবং আরেক মামলায় গ্রেপ্তার আব্দুর রাজ্জাককে রোববার ট্রাইব্যুনালে হাজির করা সম্ভব হয়নি। এ কারণে রাষ্ট্রপক্ষ পরবর্তী শুনানির জন্য সময় চায়।
পরে ট্রাইব্যুনাল ওই দুই আসামির বিরুদ্ধে প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট জারি এবং নন-এক্সিকিউশন রিপোর্ট (এনইআর) দাখিলের জন্য ৩ সেপ্টেম্বর দিন নির্ধারণ করেন।
মামলার পটভূমি
২০১৩ সালের ৫ মে রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশ ঘিরে দিনভর উত্তেজনা ও সংঘর্ষের পর রাতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অভিযান চালায়। ওই ঘটনায় হতাহতের ঘটনা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে নানা তথ্য ও দাবি সামনে এসেছে।
পরবর্তীতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা এ ঘটনা নিয়ে তদন্ত শুরু করে। রাষ্ট্রপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তদন্তে ৬১ জন নিহতের একটি তালিকা পাওয়া যায় এবং এর মধ্যে ৫৮ জনের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে।
গত ২৭ জুলাই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ শেখ হাসিনাসহ ৪১ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেন। একইসঙ্গে পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানার বিষয়েও ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
মামলায় যাদের আসামি করা হয়েছে
মামলায় শেখ হাসিনা ছাড়াও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহিউদ্দিন খান আলমগীর, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, সাবেক খাদ্যমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক, মাহবুবউল আলম হানিফ, হাসান মাহমুদ, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী, মৃণাল কান্তি দাস, জাহাঙ্গীর কবির নানক, দীপু মনি, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, ওমর ফারুক চৌধুরী ও সালাউদ্দিন মাহমুদ রয়েছেন।
এ ছাড়া মামলার আসামিদের তালিকায় রয়েছেন গণজাগরণ মঞ্চের সাবেক মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকার, শাহরিয়ার কবির, সাংবাদিক মোজাম্মেল হক বাবু ও ফারজানা রুপা এবং সাবেক ও বর্তমান বিভিন্ন পর্যায়ের পুলিশ, র্যাব ও সামরিক কর্মকর্তারা।
রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগ অনুযায়ী, শাপলা চত্বরের ঘটনা ছাড়াও পরদিন নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডকেও মামলার অভিযোগে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
এখন আগামী ৩ সেপ্টেম্বরের শুনানিকে সামনে রেখে মামলার পরবর্তী কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।
আরু|



