সুমন চন্দ্র দে, মহেশখালী (কক্সবাজার) প্রতিনিধিঃ
কক্সবাজার জেলার দ্বীপ উপজেলা মহেশখালীর প্রায় চার লাখ মানুষের বসাবাস। জেলা শহর কক্সবাজার আসা যাওয়ার অন্যতম মাধ্যম হল এই মহেশখালীর গোরকঘাটা জেটিঘাট। কক্সবাজার সদরের সঙ্গে যোগাযোগ করতে গিয়ে সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে স্হানীয় বাসিন্দাদের। নানা অনিয়ম, অসংখ্য দুর্ভোগ ও যাত্রীদের হয়রানি স্বীকার হতে হচ্ছে প্রতিনিয়ত। এ যেন স্থানীয়দের জীবনের অভিশপ্ত পথচলা।
সোমবার (২৫ মার্চ) সকাল ৮.২৫ টায় জেটিঘাটে এসে দেখতে পাওয়া যায় লোকজনের লম্বা লাইন। ঘাটে নৌকা ও স্পীড বোট বাঁধা, তবে চালকরা নেই। দায়িত্বরত লাইসম্যান বলেন – নৌকার মাঝি ও স্পীড-বোট চালকদের ফোন করতে করতে মোবাইলের টাকাও শেষ। এর পর লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা যাত্রীদের প্রশ্নের জবাবে একটা কঠিন হুঙ্কার।
কিছুক্ষণ পর কয়েকজন চালক এসে নৌকা ছাড়তে শুরু করেন। আর যাত্রীদের জটলা দেখে ৯ জন করে নিয়ে ছাড়তে শুরু করে স্পিডবোট। এভাবে প্রায় আধাঘণ্টা অপেক্ষার পর কক্সবাজার থেকে যাওয়া একটি স্পিডবোট মহেশখালী ঘাটে ভিড়লে তা নিয়ে জেটি ত্যাগ করেন কয়েকজন রোগী সহ কিছু চাকুরীজীবী।
শুধু চাকুরীজীবি বা রোগী নয়, এভাবে নিত্যদিন কর্মঘণ্টা নষ্ট করে নৌকার অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে থাকতে হয় মহেশখালীর অসংখ্য মানুষকে। এদের মাঝে শিশু, বৃদ্ধ, নারী, রোগী, শিক্ষার্থী, চাকরিজীবীসহ নানা পেশার লোকজন থাকেন। এভাবে প্রতিদিন ভোগান্তি পেরিয়ে কক্সবাজারে নিজের কর্মস্থলে আসা-যাওয়া করেন সরকারি-বেসরকারি চাকুরীজীবি ও স্থানীয় সাধারণ জনগণ।
এসব অভিযোগের পরও কোনও ব্যবস্থা নিচ্ছে না স্হানীয় কোন কর্তৃপক্ষ। কিন্তু প্রতি বছর এ জেটি থেকে ৩০ থেকে ৪০ লাখ টাকা রাজস্ব আদায় হলেও জেটি সম্প্রসারণে কর্তৃপক্ষের কোন মাথাব্যাথা নেই বলে অভিযোগ করেন জেটিঘাট পারাপার হওয়া ভুক্তভোগী বা যাত্রীরা। সাম্প্রতিক সময়ে গত ১১ ই মার্চ মহেশখালী আদিনাথ মন্দিরে মেলা হওয়া পারাপারের হিমশিম হতে হয়েছে সাধারণ যাত্রীদের।পরবর্তী এতে বড় ধরনের দূর্ঘটনার হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
১৯৮৮ সালে প্রায় এক কোটি ২০ লাখ টাকা ব্যয়ে কক্সবাজার-মহেশখালী নৌপথে ৫০০ মিটার দৈর্ঘ্যের মহেশখালী জেটি নির্মাণ করা হয়।একই সঙ্গে জেটির পাশে আধা কিলোমিটার সড়ক নির্মাণ করা হয়। কিন্তু পলি জমে নদীর নাব্যতা হ্রাস পাওয়ায় সংকুচিত হয়ে যায় ঘাট সংলগ্ন নৌপথ। চলাচলে সৃষ্টি হয় প্রতিবন্ধকতা।
সূত্র আরও জানায়, সকালে ঠিক সময়ে নৌকা না ছাড়ায় ঘাটে যাত্রীদের ভিড় লেগে থাকে। কেউ ঘাটের অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রতিবাদ করলে ঘাটের দায়িত্বরতদের রোষানলে পড়তে হয়। এরইমধ্যে তাদের হাতে অনেকেই নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। স্পিডবোট চালকদের মনগড়া নিয়মের বাইরে কথা বলারও সুযোগ নেই। তারা যাত্রীদের ভিড়কে পুঁজি করে অতিরিক্ত ভাড়াও আদায় করেন।
মহেশখালীর স্থানীয়দের একটাই হতাশা – মহেশখালীতে জন্মগ্রহণ করে দোষ করেছি। এই গোরকঘাটা জেটিঘাট স্থানীয়দের জীবনের অভিশপ্ত পথচলা।


