
সুদর্শন আচার্য্য,মদন নেত্রকোনা , প্রতিনিধি:
মদনের বয়রাহলা নদীর মুখে সুইসগেট থাকলেও নেই গনেশ হাওরের ফসল রক্ষার বেরি বাঁধ।প্রতিবছর প্রাণী উন্নয়নবোর্ড বাঁধ সংস্কার করলেও সুইসগেটে বাঁধ নির্মাণে নেই কোন উদ্যোগ।
নেত্রকোনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের দাবি হোল্ডার ছাড়া বাঁধ নির্মাণ করা যায় না। অথচ ২০২৩-২৪ চলতি অর্থবছরে হোল্ডার ও উপপ্রকল্প ছাড়াও জেলায় ২.৫৩কোটি টাকার ১৩ টি প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। আগাম বন্যার কবল থেকে ফসল রক্ষার জন্য প্রতিবছর বয়রালা নদীর উজানের বাঁধ নির্মাণ করেন এলাকার কৃষকরা।
নেত্রকোনা পানি উন্নয়ন বোর্ড ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায় পানি উন্নয়ন বোর্ড যাইকার অর্থায়নে ২০১৯সালে সুইসগেট নির্মাণের জন্য দরপত্র আহবান করেন। প্রকল্পের ব্যায় ধরা হয় ২ কোটি ৭৭ লক্ষ টাকা। এই প্রকল্পটি ২০২০ সালে আতাউর রহমান খান লিমিটেড নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সুইসগেটের নির্মাণের কার্যাদেশ পেয়ে কাজ শুরু করে যা শেষ হয় ২০২১ সালে।
এছাড়াও আগাম বন্যার কবল থেকে গণেশ হাওরের ফসল রক্ষার জন্য আটপাড়া উপজেলার চরপাড়া গ্রামের পাশে নাসির খালীখাল,,, মদন পৌর সদরের বাড়িভাদেরা ও বয়রাহলা সহ ৩ টি সুইচ গইট রয়েছে এসব সুইসগেটের নেই কোন কার্যক্রম।
উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য মতে গণেশ হাওর টি মদন ও আটপাড়া উপজেলার মধ্যে অবস্থিত। চারপাশে দুই উপজেলার গ্রাম বেষ্টিত এ হাওরটি গণেশ হাওরের ৯৭০ হেক্টর ব্যুরো ফসলি জমি রয়েছে। এর মধ্যে মদনের অংশে ৬৭০ হেক্টর এবং আটপাড়া অংশে ২০০ হেক্টর। একটি বেড়িবাঁধ নির্মাণে বেঁচে যাবে কৃষকের ৯৭০ হেক্টর বুরো ফসলি জমি।
শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল কুদ্দুস সৃতি পরিষদের সভাপতি এম,এ হায়দার লালন বলেন আমিএই এলাকার সন্তান। আগাম বন্যায় ফসল তলিয়ে গেলে কৃষকদের কিয়ে আর্তনাদ, কষ্ট, তা আমি দেখেছি। সুইচগেট গুলা নির্মাণ করা, আর না কর, একই জিনিস। যদি এটি কোন কাজেই না লাগে তাহলে এটি নির্মাণ করে লাভ কি।বর্ষার মৌসুমে আগাম বন্যার কারণে এলাকার কৃষকের অনেক ফসলি জমি পানিতে তলিয়ে যায়। এই এলাকায় একটি বেড়িবাঁধ নির্মাণ হলে দুটি উপজেলার প্রায় অনেক ফসলি জমি রক্ষা পাবে।
ইউপি চেয়ারম্যান শাফায়েত উল্লাহ রয়েল বলেন। অপরিকল্পিতভাবে এই সুইচগেইটি নির্মিত হয়েছে। এটি আমাদের কোন প্রয়োজনে আসেনা। যদি একটি বেড়িবাঁধ নির্মাণ হত তাহলে ঠিকই ছিল। আমি পানি উন্নয়ন বোর্ড অধিদপ্তরের সাথে যোগাযোগ করে একটি বেরিবাঁধ নির্মাণের জন্য চেষ্টা করব।
নেত্রকোনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সারোয়ার জাহান বলেন হোল্ডার ছাড়া বাঁধ নির্মাণ করা যায় না। আর বাঁধ টা কোথায় সেটা আমি জানি না। খোঁজ নিয়ে দেখব, আমি আসার আগে হয়তো সুইচগেইট নির্মাণ করা হয়েছে।


