বর্তমান সময়ে ডিপ্রেশন বা বিষণ্নতা নীরব মহামারির মতো ছড়িয়ে পড়ছে। পারিবারিক অশান্তি, অর্থনৈতিক চাপ, ক্যারিয়ারের অনিশ্চয়তা কিংবা প্রিয়জন হারানোর বেদনায় অনেকেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়ছেন। অনেকেই মনে করেন, ডিপ্রেশনে ভোগা মানেই ঈমানের দুর্বলতা।
তবে ইসলামি চিন্তাবিদ ও বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন ধারণার কোনো ভিত্তি নেই। ইসলাম মানসিক কষ্টকে জীবনেরই একটি স্বাভাবিক পরীক্ষা হিসেবে স্বীকার করে।
পবিত্র কোরআন ও হাদিস অনুযায়ী, মুমিন ব্যক্তিও বিষণ্নতায় আক্রান্ত হতে পারেন। যেমন—পুত্রশোকে হযরত ইয়াকুব (আ.) গভীর দুঃখ ও বিষাদে আচ্ছন্ন হয়েছিলেন। আবার প্রিয় স্ত্রী খাদিজা (রা.) ও চাচা আবু তালিবের মৃত্যুর পর মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবনের সেই কঠিন সময়টি ইসলামের ইতিহাসে ‘আমুল হুযন’ বা ‘দুঃখের বছর’ নামে পরিচিত।
মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, ডিপ্রেশন একটি বাস্তব স্বাস্থ্য সমস্যা। এটি শুধু সাধারণ মন খারাপ নয়; বরং দীর্ঘদিনের হতাশা, অতিরিক্ত ক্লান্তি, ঘুমের সমস্যা এবং আত্মবিশ্বাস কমে যাওয়ার মতো গুরুতর লক্ষণ।
ইসলামি চিন্তাবিদরা বলেন, ইবাদত-বন্দেগি মানসিক প্রশান্তি এনে দেয়, তবে গুরুতর ডিপ্রেশনের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। ইসলাম অসুস্থতার চিকিৎসাকে উৎসাহিত করে এবং মানসিক রোগকেও অন্যান্য শারীরিক রোগের মতোই গুরুত্ব দেয়। তাই আক্রান্ত ব্যক্তিকে ‘ঈমান কম’ বলে দোষারোপ না করে, তার পাশে দাঁড়ানো এবং সহানুভূতি দেখানোই ইসলামের শিক্ষা।
কুরআন ও হাদিসের আলোকে মুক্তির উপায়
- সবর ও শোকর: যেকোনো পরিস্থিতিতে ধৈর্য (সবর) ধরা এবং বর্তমান নিয়ামতের জন্য আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করা মানসিক চাপ অনেকাংশেই কমিয়ে দেয়।
- নামাজ ও জিকির: পবিত্র কুরআনে বলা হয়েছে, “জেনে রাখো, আল্লাহর স্মরণেই কেবল অন্তর প্রশান্তি লাভ করে।” (সূরা আর-রা’দ, আয়াত: ২৮)।
- রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর শেখানো দোয়া: দুশ্চিন্তা ও বিষণ্ণতা দূর করতে মহানবী (সা.) নিয়মিত এই দোয়াটি পড়তেন: “আল্লাহুম্মা ইন্নি আ’উযুবিকা মিনাল হাম্মি ওয়াল হাযনি…” (হে আল্লাহ, আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাই দুশ্চিন্তা ও দুঃখ থেকে…)।
মনে রাখা জরুরি, ইসলামে আত্মহত্যা বা নিজের ক্ষতি করা কঠোরভাবে হারাম। তাই তীব্র মানসিক অবসাদের মুহূর্তে প্রিয়জনদের সাহায্য নেওয়া, আল্লাহর ওপর ভরসা রাখা এবং প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের (সাইকিয়াট্রিস্ট) কাউন্সিলিং নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। কারণ, কোনো কষ্টই চিরস্থায়ী নয়; আশা ও ধৈর্যই মানুষের সবচেয়ে বড় শক্তি।
ইতি || আরু



