দেড় মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা তীব্র গ্যাস সংকটের পর অবশেষে জাতীয় গ্রিডে এলএনজি সরবরাহ বাড়ানো হয়েছে। এতে শিল্পকারখানা, বিদ্যুৎ উৎপাদনসহ বিভিন্ন খাতে গ্যাস সংকট কিছুটা কমবে বলে আশা করছে পেট্রোবাংলা।
সোমবার রাত ১০টা থেকে জাতীয় গ্রিডে এলএনজি সরবরাহ বাড়িয়ে দৈনিক ৯৮ কোটি ঘনফুটে উন্নীত করা হয়েছে। দেশীয় গ্যাসক্ষেত্রের উৎপাদনের সঙ্গে মিলিয়ে বর্তমানে জাতীয় গ্রিডে মোট দৈনিক গ্যাস সরবরাহ দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৬০ কোটি ঘনফুট।
পেট্রোবাংলা সূত্র জানায়, দেশে প্রতিদিন গ্যাসের প্রকৃত চাহিদা প্রায় ৩৮০ কোটি ঘনফুট। তবে সাধারণত ২৬৫ থেকে ২৭০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করেই পরিস্থিতি সামাল দেওয়া হয়। নিয়মিত এলএনজি কার্গো না থাকায় গতকাল সরবরাহ নেমে যায় ২৩৭ কোটি ঘনফুটে। এর মধ্যে এলএনজি থেকে পাওয়া যায় মাত্র ৭৫ কোটি ঘনফুট।
তবে নতুন কার্গো আসতে শুরু করায় পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। বর্তমানে দেশীয় গ্যাসক্ষেত্র থেকে প্রতিদিন প্রায় ১৬২ কোটি ঘনফুট গ্যাস উত্তোলনের পাশাপাশি এলএনজি সরবরাহ করা হচ্ছে ৯৮ কোটি ঘনফুট।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, চলতি সেপ্টেম্বর মাসে ১০টি এলএনজি কার্গো আনার পরিকল্পনা থাকলেও বৈশ্বিক বাজারে দাম বৃদ্ধি ও দরপত্র জটিলতার কারণে ৯টি কার্গো নিশ্চিত করা গেছে। এর মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় গানভর থেকে দুটি, স্বল্পমেয়াদি চুক্তিতে আরামকো থেকে দুটি এবং স্পট মার্কেট থেকে পাঁচটি কার্গো সংগ্রহ করা হয়েছে।
ইতোমধ্যে আরামকো, ব্রিটিশ পেট্রোলিয়াম ও কোরীয় প্রতিষ্ঠান পস্কোর কার্গো থেকে এলএনজি খালাস করা হয়েছে। এছাড়া গানভর, আরামকো ও টোটাল এনার্জির আরও কয়েকটি কার্গো ১৬ থেকে ২৮ সেপ্টেম্বরের মধ্যে বন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
অক্টোবর মাসের জন্য ইতোমধ্যে ছয়টি এলএনজি কার্গো নিশ্চিত করা হয়েছে। পাশাপাশি আরও পাঁচটি কার্গো কেনার জন্য নতুন করে দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে।
দেশে অভ্যন্তরীণ গ্যাস উৎপাদন কমে যাওয়ায় ঘাটতি পূরণে ২০১৮ সাল থেকে এলএনজি আমদানি করা হচ্ছে। কক্সবাজারের মহেশখালীতে এক্সিলারেট এনার্জি ও সামিট গ্রুপের দুটি ভাসমান টার্মিনালের মাধ্যমে আমদানি করা এলএনজি জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হয়।
গত ২১ জুলাই দুর্ঘটনার পর এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনালটি বন্ধ হয়ে যায়। প্রায় ২৫ দিনের সংকটের পর ১৫ আগস্ট টার্মিনালটি পুনরায় চালু হলেও নতুন কার্গোর ঘাটতির কারণে এতদিন সরবরাহ বাড়ানো সম্ভব হয়নি।
গত বছরের জুলাই ও আগস্টে দেশে ২১টি এলএনজি কার্গো এলেও চলতি বছর একই সময়ে এসেছে মাত্র ১৫টি। সরাসরি ক্রয় পদ্ধতি ও দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির গ্যাস সময়মতো না পাওয়ায় ঘাটতি মেটাতে সরকারকে উচ্চমূল্যে স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি কিনতে হচ্ছে।
নতুন কার্গো নিয়মিত আসতে শুরু করায় আগামী দিনগুলোতে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
আরু|



