
স্পোর্টস ডেক্স :
১৬৬ রানের লক্ষ্যটা যেন হেসেখেলেই পেরিয়ে গেল বাংলাদেশ। সৌম্য সরকার এবং লিটন দাস ভালো শুরু এনে দেয়ার পর সেটাকে কাজে লাগিয়েছেন নাজমুল হোসেন শান্ত এবং তাওহীদ হৃদয়। আর তাতে সহজেই লক্ষ্য তাড়া করে সিরিজে সমতা ফিরিয়েছে বাংলাদেশ।
দলের জয়ে বড় অবদান রেখেছেন অধীনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত।
দলের জয়ে বড় অবদান রেখেছেন অধীনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত।
বুধবার (৬ মার্চ) সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে শ্রীলঙ্কাকে ৮ উইকেটে হারিয়েছে বাংলাদেশ। লঙ্কানদের দেয়া ১৬৬ রানের লক্ষ্য ১১ বল হাতে রেখেই পেরিয়ে গেছে নাজমুল হোসেন শান্তর দল।
লঙ্কানদের দেয়া ১৬৬ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে দুর্দান্ত শুরু পায় বাংলাদেশ। দুই ওপেনার সৌম্য সরকার এবং লিটন দাসের ব্যাটে পাওয়ারপ্লেতে কোনো উইকেট না হারিয়ে ৬৩ রান করে টাইগাররা।
পাওয়ার প্লে শেষ হওয়ার পরের ওভারেই মাথিশা পাথিরানার শিকার হয়ে ফেরেন সৌম্য। ২২ বলে ২৬ রান করেছেন তিনি। সৌম্যর বিদায়ের পর বেশিক্ষণ টেকেননি লিটন। ২৪ বলে ৩৬ রান করে তিনিও আউট হন পাথিরানার বলেই।পাথিরানার পরপর দুই ওভারে দুই উইকেট হারিয়ে খানিকটা চাপে পড়েছিল বাংলাদেশ। তবে সেটিকে জেঁকে বসতে দেননি শান্ত-হৃদয়। দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে ৮৭ রানের জুটি গড়ে দলকে জয়ের বন্দরে নিয়ে যান তারা।
৪ চার ও ২ ছক্কায় ৩৮ বলে ৫৩ রান করে শেষ পর্যন্ত অপরাজিত ছিলেন শান্ত। হৃদয়ের ব্যাট থেকে আসে ৩২ রান।
এর আগে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে দ্বিতীয় ওভারে প্রথম উইকেট হারায় শ্রীলঙ্কা। শরিফুল ইসলামের দূর্দান্ত বোলিংয়ের বিপক্ষে প্রথম ওভারে কোনো রানই করতে পারেননি আভিশকা ফার্নান্দো। চাপ পড়ে পরের ওভারে। আর সেই চাপ সামলাতে না পেরেই তাসকিনের বলে ক্যাচ তুলে দিয়েছেন এই ব্যাটার। ৭ বলে ০ রান করে আউট হন আভিশকা। নিজের বলে নিজেই ক্যাচ নিয়েছেন তাসকিন।
চাপ কাটিয়ে দ্বিতীয় উইকেটে ম্যাচে ফেরে শ্রীলঙ্কা। কুশল মেন্ডিস এবং কামিন্ডু মেন্ডিসের ৬৫ রানের জুটিতে বড় সংগ্রহের পথে এগোচ্ছিল চারিথ আসালঙ্কার দল। এমন সময়ে বাংলাদেশকে ব্রেক থ্রু এনে দেন সৌম্য সরকার। পার্ট টাইম এই বোলারের গুড লেন্থের বল বুঝতে না পেরে উইকেটরক্ষকের হাতে ক্যাচ দিয়ে বসেন কুশল। ২২ বলে ৩৬ রান করেছেন তিনি।
সৌম্য কুশলকে ফেরানোর পরের ওভারেই কামিন্ডু মেন্ডিস ফেরেন রান আউট হয়ে। ২৭ বলে ৩৭ রানের ইনিংস খেলে সাজঘরে ফেরেন এই ব্যাটার।
কুশল-কামিন্ডুকে হারানোর পর চাপে পড়ে যায় শ্রীলঙ্কা। আর সেই চাপ কাজে লাগিয়ে সফরকারীদের আরও চেপে ধরে বাংলাদেশ। লঙ্কান ইনিংসের ১৩ তম ওভারে সাদিরাকে ক্যাচ বানিয়েছেন মুস্তাফিজ। ১১ বলে মাত্র ৭ রান করেছেন তিনি।
আগের ম্যাচের মতোই এদিন ভালো শুরু পেয়েছিলেন লঙ্কান অধিনায়ক চারিথ আসালঙ্কা। তবে তাকে ইনিংস বড় করার সুযোগ দেয়নি বাংলাদেশ। বিধ্বংসী হয়ে ওঠা ঈই ব্যাটারকে বোল্ড করেন শেখ মেহেদী। ১৪ বলে ২৮ রান করেছেন তিনি।
১১২ রানে ৫ উইকেট হারানোর অনেকটা ব্যাকফুটে চলে যায় শ্রীলঙ্কা। দুই অভিজ্ঞ ব্যাটার দাসুন শানাকা এবং ম্যাথিউস শেষ পর্যন্ত আর কোনো উইকেট পড়তে না দিলেও দ্রুত রান তুলতে পারেননি। ১৬৫ রানে থামে শ্রীলঙ্কার ইনিংস। ২১ বলে ৩২ রান করে অপরাজিত ছিলেন ম্যাথিউস। ১৮ বলে শানাকারব্যাট থেকে আসে ২০ রান।


