মোটরসাইকেল ও গাড়ির মালিক-চালকদের জন্য বড় সুযোগ দিয়েছে সরকার। জরিমানা ছাড়াই মোটরযানের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও ড্রাইভিং লাইসেন্স হালনাগাদের সময়সীমা বাড়িয়ে করা হয়েছে ২৯ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত।
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ বিআরটিএ জানিয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শুধু মূল কর ও প্রযোজ্য ফি পরিশোধ করেই মোটরযানের ফিটনেস, ট্যাক্স-টোকেন, রুট পারমিটসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং ড্রাইভিং লাইসেন্স হালনাগাদ করা যাবে। কর্তৃপক্ষ এটিকে শেষবারের মতো সময় বাড়ানোর সুযোগ হিসেবে জানিয়েছে।
তবে মালিকদের জন্য এই সুখবরের পাশাপাশি চালকদের জন্য রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা।
সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮-এর ২১ ধারা অনুযায়ী, গাড়ি বা মোটরসাইকেল বিক্রি করার পর মালিকানা পরিবর্তনের আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা বাধ্যতামূলক।
আইন অনুযায়ী, বিক্রেতাকে ৩০ দিনের মধ্যে কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানাতে হবে। আর ক্রেতাকে ৬০ দিনের মধ্যে নিজের নামে নিবন্ধনের জন্য আবেদন করতে হবে।
বিআরটিএ বলছে, অনেক ক্ষেত্রে গাড়ি বিক্রির পর নতুন মালিক নিজের নামে মালিকানা পরিবর্তন না করেই সেটি ব্যবহার করছেন। এতে আগের মালিকের নামেই কর, সারচার্জসহ বিভিন্ন আর্থিক দায় থেকে যেতে পারে। বিশেষ ক্ষেত্রে অগ্রিম আয়কর ও পরিবেশ সারচার্জের দায়ও পুরনো মালিকের ওপর পড়তে পারে।
মালিকানা পরিবর্তনের জন্য প্রয়োজনীয় ফরম, ফি জমার রশিদ এবং মোটরযানের সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র জমা দিতে হয়। বিআরটিএর সার্ভিস পোর্টালের মাধ্যমেও এ প্রক্রিয়ার আবেদন করার সুবিধা রয়েছে।
এদিকে চালকদের জন্য আরও কঠোর হচ্ছে ট্রাফিক আইন প্রয়োগ। প্রতিটি ড্রাইভিং লাইসেন্সের বিপরীতে ১২টি দোষসূচক পয়েন্ট বরাদ্দ রয়েছে। ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন করলে জরিমানা বা অন্যান্য শাস্তির পাশাপাশি লাইসেন্স থেকে নির্ধারিত পয়েন্ট কাটা হতে পারে। বর্তমানে রোড সেফটি পেনাল্টি সিস্টেমের মাধ্যমেও এই পয়েন্ট কর্তনের ব্যবস্থা কার্যকর রয়েছে।
তাই সুযোগ যখন আছে, তখন ২৯ অক্টোবরের আগেই গাড়ি বা মোটরসাইকেলের মেয়াদোত্তীর্ণ কাগজপত্র, ড্রাইভিং লাইসেন্স এবং মালিকানা সংক্রান্ত তথ্য হালনাগাদ করে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে বিআরটিএ।
অর্থাৎ, মালিকদের জন্য জরিমানা ছাড়া কাগজপত্র ঠিক করার সুযোগ আর চালকদের জন্য আইন মেনে চলার কঠোর বার্তা।
আরু|



