সংবিধান সংশোধন-সম্পর্কিত জাতীয় সংসদের বিশেষ কমিটির সঙ্গে নির্ধারিত মতবিনিময় সভায় অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য। নিজেদের এই সিদ্ধান্তের কারণ ও অবস্থান তুলে ধরতে রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সংবাদ সম্মেলন ডেকেছে জোটটি।
জুলাই জাতীয় সনদে স্বাক্ষরকারী রাজনৈতিক দল ও জোটগুলোর সঙ্গে সংবিধান সংশোধন নিয়ে মতবিনিময়ের উদ্যোগ নিয়েছে জাতীয় সংসদের বিশেষ কমিটি।
রোববার কমিটির দ্বিতীয় বৈঠকে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। তবে জামায়াতে ইসলামী, এনসিপিসহ কয়েকটি বিরোধী দল এতে অংশ নিচ্ছে না।
১১ দলীয় ঐক্যের নেতাদের ভাষ্য, গণভোটের মাধ্যমে জনগণ সংবিধান সংস্কারের পক্ষে মত দিয়েছে। তাদের দাবি, গণভোটের রায়ের পর সেই রায় বাস্তবায়নের পরিবর্তে সংবিধান সংশোধনের জন্য আলাদা বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে, যা তাদের দৃষ্টিতে জনগণের দেওয়া মতামতের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
জোটটির অবস্থান হলো, গণভোটের রায় অনুযায়ী সংবিধান সংস্কারের প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে হবে। এ কারণে তারা সংবিধান সংশোধন-সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির কার্যক্রমে অংশ নিয়ে নিজেদের মতামত দিতে রাজি নয়। এর আগেও বিশেষ কমিটিতে অংশ না নেওয়ার অবস্থান জানিয়েছিল বিরোধী জোট।
১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ও জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, জনগণের মতামতের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এমন কোনো কার্যক্রমে তারা সহযোগিতা করতে চান না। তাঁর প্রশ্ন, ‘জনবিরোধী কার্যক্রমে আমরা সহায়তা করব কেন?’
জোটের নেতারা জানান, সংবিধান সংশোধন-সম্পর্কিত বিশেষ কমিটি গঠনের বিরোধিতা করে তাদের সংসদ সদস্যরা এরই মধ্যে জাতীয় সংসদে প্রতিবাদ জানিয়েছেন এবং অধিবেশন থেকে ওয়াকআউট করেছেন। ফলে একই বিষয়ে সংসদে অবস্থান স্পষ্ট করার পর বিশেষ কমিটির বৈঠকে গিয়ে মতবিনিময়ে অংশ নেওয়ার কোনো সুযোগ তারা দেখছেন না। এর আগে ১৩ জুলাই বিশেষ কমিটি গঠনের প্রতিবাদে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন বিরোধী দল সংসদ থেকে ওয়াকআউট করেছিল।
এদিকে সরকারপক্ষের বক্তব্য, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করতেও সংবিধানে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনতে হবে। সেই প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা করার জন্যই বিশেষ কমিটি কাজ করছে। কমিটি বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সংবিধান বিশেষজ্ঞ, আইনজীবীসহ সংশ্লিষ্ট অংশীজনের মতামত নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে।
রোববারের সংবাদ সম্মেলনে ১১ দলীয় ঐক্যের নেতারা গণভোটের রায়, সংবিধান সংস্কার ও সংশোধনের পার্থক্য এবং বিশেষ কমিটির মতবিনিময়ে অংশ না নেওয়ার কারণ বিস্তারিতভাবে তুলে ধরবেন বলে জোটের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট:
সংবিধান ‘সংস্কার’ নাকি ‘সংশোধন’ এ বিষয়টি নিয়ে সরকার ও বিরোধী পক্ষের মধ্যে মতপার্থক্য কয়েক মাস ধরেই প্রকাশ্যে রয়েছে। বিরোধী জোট গণভোটের রায় অনুযায়ী সংস্কার পরিষদ গঠনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে; অন্যদিকে সরকারপক্ষ সংসদীয় প্রক্রিয়ায় সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে জুলাই সনদের সাংবিধানিক বিষয়গুলো বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে।
আরু|



