ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার সঙ্গে দলটির কেন্দ্রীয় ২১ নেতার সরাসরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) রাতে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় বলে দলটির একাধিক নেতা জানিয়েছেন।
দলীয় সূত্র ও স্থানীয় প্রতিবেদনে জানা যায়, রাত ৯টার দিকে বৈঠক শুরু হয়। এর আগে কেন্দ্রীয় নেতারা আলাদা আলাদা গাড়িতে প্রায় একই সময়ে দিল্লির একটি ক্রিম রঙের তিনতলা ভবনে পৌঁছান। বৈঠকে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটি ও সম্পাদকমণ্ডলীর কয়েকজন নেতা বিভিন্ন দেশ থেকে ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হন। কেন্দ্রীয় কমিটিতে বর্তমানে নেই, তবে ভবিষ্যতে নেতৃত্বে আসতে পারেন এমন কয়েকজনও সরাসরি বৈঠকে অংশ নেন।
আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের একাধিক সদস্য বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকার সময়েই দিল্লিতে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হলো।
দলীয় সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শেখ হাসিনার সম্ভাব্য ডিসেম্বরের দেশে ফেরার পরিকল্পনা এবং এরপর আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হওয়ার বিষয়টি সামনে রেখে দলের সাংগঠনিক পুনর্গঠন নিয়ে বৈঠকে আলোচনা গুরুত্ব পেতে পারে। শেখ হাসিনা এর আগে নিজে এবং দলের অন্য জ্যেষ্ঠ নেতাদের দেশে ফিরে আদালতে হাজির হওয়ার ইচ্ছার কথা জানিয়েছিলেন।
বৈঠকের আলোচনায় শেখ হাসিনার মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের আওয়ামী লীগের সক্রিয় রাজনীতিতে যুক্ত হওয়ার বিষয়টিও থাকতে পারে বলে দলীয় সূত্রের বরাতে জানা গেছে। পুতুল সম্প্রতি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালকের পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। তাকে দলের জ্যেষ্ঠ নেতৃত্বে আনার বিষয়টি নিয়েও আলোচনা হতে পারে বলে সূত্রগুলো জানিয়েছে।
এ ছাড়া পুতুলের পাশাপাশি চট্টগ্রাম ও বরিশাল বিভাগের আরও দুজন নেতাকে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীতে অন্তর্ভুক্ত করার সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে বৈঠক সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এর আগে ১৫ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়েছিল, ১৮ সেপ্টেম্বর দিল্লিতে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে শেখ হাসিনার বৈঠকের পরিকল্পনা রয়েছে। সে সময় দিল্লি ও কলকাতায় অবস্থানরত ২১ কেন্দ্রীয় নেতার অংশ নেওয়ার কথা বলা হয়েছিল।
তবে বৈঠকের একদিন আগে, ১৭ সেপ্টেম্বর কয়েকটি প্রতিবেদনে বৈঠকটি বাতিল বা ভার্চ্যুয়াল করার কথা জানানো হয়েছিল। পরে ১৯ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত প্রতিবেদনে দলীয় একাধিক নেতার বরাতে সরাসরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার তথ্য প্রকাশিত হয়। ফলে শেষ পর্যন্ত বৈঠকটি কীভাবে আয়োজন করা হয়েছিল, সে বিষয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনের মধ্যে সময়ভেদে পার্থক্য দেখা যায়।
আরু|



