চট্টগ্রামে ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক (ইউসিবি) থেকে ২৫ কোটি টাকা আত্মসাৎ ও হুণ্ডির মাধ্যমে বিদেশে পাচারের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় ব্যাংকটির সাবেক চেয়ারম্যান এম এ সবুরের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।
বুধবার (১২ আগস্ট) চট্টগ্রাম মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. হাসানুল ইসলামের আদালত এ আদেশ দেন।
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মোকাররম হোসাইন জানান, মামলায় আদালতে হাজির হয়ে সময় চেয়ে আবেদন করেছিলেন এম এ সবুর। শুনানি শেষে আদালত তার আবেদন নাকচ করে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।
এর আগে গত ১৭ মে হাইকোর্ট এম এ সবুরকে আট সপ্তাহের মধ্যে চট্টগ্রামের জ্যেষ্ঠ মহানগর বিশেষ জজ আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেন। ওই আদেশ অনুযায়ী ৯ জুলাই তিনি আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। পরে মামলার অভিযোগপত্র দাখিলের বিষয়টি গোপন করে আগাম জামিন নেওয়ার অভিযোগ আদালতে তুলে ধরে দুদক।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের প্রধান কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. মশিউর রহমান গত ৫ জানুয়ারি ৩৬ জনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। এরপর আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেওয়া হয়।
দুদকের অভিযোগপত্র অনুযায়ী, সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদের পারিবারিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান আরামিট গ্রুপের প্রটোকল কর্মকর্তা ফরমান উল্লাহ চৌধুরীকে ‘ভিশন ট্রেডিং’ নামে একটি নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠানের মালিক সাজিয়ে ইউসিবি থেকে ২৫ কোটি টাকা ঋণ অনুমোদন করা হয়। পরে ওই অর্থ ব্যাংকের কর্মচারীদের মাধ্যমে উত্তোলন করে হুণ্ডির মাধ্যমে বিদেশে পাচার করার অভিযোগ করা হয়েছে। অভিযোগপত্রে বলা হয়, ২০১৯ সালের ১৩ অক্টোবর থেকে ২০২০ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারির মধ্যে এ ঘটনা ঘটে।
মামলায় সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ, তার স্ত্রী, ইউসিবির সাবেক চেয়ারম্যান এম এ সবুর, সাবেক পরিচালক, ব্যাংকের কর্মকর্তা এবং আরামিট গ্রুপের কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ মোট ৩৬ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলায় মোট ৯২ জন সাক্ষী রয়েছেন। ২৩ জুন পর্যন্ত ২৭ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছিল।
দুদকের অভিযোগ, ব্যাংক থেকে ঋণের নামে অর্থ বের করে তা বিদেশে পাচার করা হয়েছে। এখন এম এ সবুরের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির মধ্য দিয়ে মামলাটির বিচারিক কার্যক্রমে নতুন মোড় তৈরি হয়েছে।
আরু|খব



