ভারতে অবস্থানরত বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরানোর বিষয়ে ঢাকার করা প্রত্যর্পণ অনুরোধ ‘পর্যালোচনা করছে’ ভারত।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) নয়াদিল্লিতে সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এ কথা জানান।
শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ নিয়ে ভারতের অবস্থান জানতে চাইলে জয়সওয়াল বলেন, এ বিষয়ে ভারতের অবস্থান আগেও স্পষ্ট করা হয়েছে। দেশটির নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুযায়ী বিষয়টি পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
ভারতের এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এলো, যখন এর আগের দিনই ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। একই সঙ্গে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের বিষয়টিও বাংলাদেশের পক্ষ থেকে গুরুত্ব দিয়ে তোলা হয়।
বৈঠকের পর বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান জানান, দণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়টি বৈঠকে উত্থাপন করা হয়েছে। প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া দ্রুত করার জন্য ভারতকে অনুরোধ জানানো হয়েছে বলেও জানান তিনি। ঢাকার পক্ষ থেকে এ বিষয়ে ভারতের কাছ থেকে ইতিবাচক পদক্ষেপের প্রত্যাশার কথাও জানানো হয়।
হাদি হত্যা নিয়েও ভারতের বক্তব্য
সংবাদ সম্মেলনে শেখ হাসিনার পাশাপাশি ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ওসমান হাদি হত্যা মামলার নথি ভারতকে পাঠানো হয়েছে কি না এমন প্রশ্নও করা হয়।
জবাবে জয়সওয়াল বলেন, হাদির বিষয়টি একটি আইনি বিষয় এবং এ নিয়ে তদন্ত চলমান রয়েছে। ফলে মামলাটি নিয়ে এখনই বিস্তারিত কোনো অবস্থান জানায়নি নয়াদিল্লি।
তারেক রহমানকে ভারত সফরের আমন্ত্রণ
সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ব্রিকস সম্মেলনে আমন্ত্রণ এবং এর আগে দ্বিপক্ষীয় সফরের আমন্ত্রণ নিয়েও প্রশ্ন করা হয়।
জয়সওয়াল জানান, বাংলাদেশে নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর গত ফেব্রুয়ারিতেই তারেক রহমানকে ভারত সফরের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। পরে ব্রিকস সম্মেলনে অংশ নেওয়ার জন্যও তাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। এ বিষয়ে নতুন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে তা জানানো হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
ভারতের পক্ষ থেকে একই সঙ্গে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার বিষয়েও বার্তা দেওয়া হয়েছে। তবে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ ইস্যু, ওসমান হাদি হত্যা মামলাসহ কয়েকটি স্পর্শকাতর বিষয় এখনো দুই দেশের সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য হয়ে রয়েছে
ফলে শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে ভারতের ‘পর্যালোচনা’ শেষ পর্যন্ত কোন সিদ্ধান্তে গড়ায়, সেটিই এখন ঢাকার পাশাপাশি নয়াদিল্লির কূটনৈতিক অঙ্গনেও বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আরু|খব



