বিশ্বের অনেক পাহাড়ই তাদের উচ্চতা, বরফে ঢাকা চূড়া কিংবা প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য বিখ্যাত। তবে অস্ট্রেলিয়ার নর্দার্ন টেরিটরিতে অবস্থিত উলুরু, যা একসময় আয়ার্স রক নামে পরিচিত ছিল, সম্পূর্ণ ভিন্ন এক কারণে বিশ্বজুড়ে পরিচিত। বিশাল এই বেলেপাথরের পাহাড়টি দিনের বিভিন্ন সময়ে সূর্যের আলোর পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে ভিন্ন ভিন্ন রঙের আভা ধারণ করে, যা পর্যটকদের কাছে এক অনন্য বিস্ময়।
প্রায় ৫৫ কোটি বছর আগে গঠিত এই বিশাল শিলাখণ্ডের উচ্চতা প্রায় ৩৪৮ মিটার এবং পরিধি প্রায় ৯ দশমিক ৪ কিলোমিটার।
পাহাড়টি মূলত বেলেপাথরের তৈরি। এর মধ্যে থাকা লোহার খনিজ দীর্ঘদিন ধরে জারণের ফলে লালচে রঙ ধারণ করেছে। সূর্যের আলো ভিন্ন ভিন্ন কোণে পড়ার কারণে পাহাড়টির রঙও বদলে যায়। সূর্যোদয়ের সময় এটি হালকা গোলাপি, সকালে উজ্জ্বল কমলা, দুপুরে গাঢ় লাল এবং সূর্যাস্তের সময় বেগুনি ও গাঢ় লালচে আভা দেখা যায়।
উলুরু শুধু একটি প্রাকৃতিক বিস্ময় নয়, এটি স্থানীয় আদিবাসী আনাঙ্গু জনগোষ্ঠীর কাছে অত্যন্ত পবিত্র একটি স্থান। হাজার হাজার বছর ধরে তারা এই পাহাড়কে তাদের সংস্কৃতি, ইতিহাস ও আধ্যাত্মিক বিশ্বাসের অংশ হিসেবে বিবেচনা করে আসছেন। এখানকার গুহা, শিলাচিত্র ও বিভিন্ন স্থান তাদের প্রাচীন ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন। এ কারণে স্থানীয় সংস্কৃতির প্রতি সম্মান জানিয়ে ২০১৯ সাল থেকে উলুরুতে পর্যটকদের পাহাড়ে ওঠা নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
উলুরু অবস্থিত ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী উলুরু-কাতা জুতা জাতীয় উদ্যানের মধ্যে। এখানে পর্যটকরা পাহাড়ের চারপাশে হাঁটা, সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত উপভোগ, সাংস্কৃতিক কেন্দ্র পরিদর্শন এবং কাছাকাছি অবস্থিত কাতা জুতা পাহাড়শ্রেণি ঘুরে দেখতে পারেন।
ভ্রমণের জন্য মে থেকে সেপ্টেম্বর মাস সবচেয়ে উপযুক্ত সময়। এ সময় আবহাওয়া তুলনামূলক শীতল ও আরামদায়ক থাকে। আকাশপথে আয়ার্স রক বিমানবন্দরে নেমে অথবা অ্যালিস স্প্রিংস থেকে প্রায় সাড়ে চার ঘণ্টার সড়কপথ পাড়ি দিয়ে সহজেই উলুরুতে পৌঁছানো যায়।
প্রকৃতির রঙের অপূর্ব খেলা, অনন্য ভূতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্য এবং হাজার বছরের আদিবাসী সংস্কৃতির ঐতিহ্য—সব মিলিয়ে উলুরু বিশ্বের অন্যতম দর্শনীয় ও বিস্ময়কর ভ্রমণ গন্তব্য হিসেবে পরিচিত।
আরু/


