দেশের শিক্ষার্থীদের জন্য একের পর এক সুখবর আসছে। আগামী তিন মাসের মধ্যেই স্কুল শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছে যাবে নতুন স্কুল ড্রেস, আর চলতি বছরের মধ্যেই দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের জন্য চালু করা হবে মিড-ডে মিল কর্মসূচি।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) মিরপুর ন্যাশনাল বাংলা স্কুল অ্যান্ড কলেজে ‘প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট (বালক-বালিকা) ২০২৬’-এর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন এ তথ্য জানান।
শিক্ষা সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, শিক্ষার্থীদের মধ্যে সমতা, শৃঙ্খলা ও বিদ্যালয়ের প্রতি আগ্রহ বাড়াতে স্কুল ড্রেস বিতরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে পুষ্টিহীনতা দূর করে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিতি নিশ্চিত করতে মিড-ডে মিল কর্মসূচি সম্প্রসারণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, স্কুলে খাবারের ব্যবস্থা চালু হলে অনেক পরিবারের আর্থিক চাপ কমবে এবং শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়ার হারও হ্রাস পাবে। বিশেষ করে নিম্ন আয়ের পরিবারের সন্তানদের জন্য এটি হতে পারে বড় সহায়তা।
শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের প্রত্যাশা, ঘোষণাগুলো দ্রুত বাস্তবায়িত হলে শিক্ষা খাতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। স্কুল ড্রেস ও মিড-ডে মিল—দুই উদ্যোগই শিক্ষার্থীদের মুখে হাসি ফোটাবে বলে মনে করছেন
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, তিন মাসের মধ্যে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য স্কুল ড্রেসের ব্যবস্থা করা হবে। এছাড়া আগামী এক বছরের মধ্যে দেশের প্রতিটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের জন্য মিড-ডে মিল কর্মসূচি চালু করা হবে।
তিনি আরও বলেন, একটি স্কুলও খাবারবিহীন থাকবে না। একটি স্কুলও টেবিল ছাড়া থাকবে না। কোনও শিক্ষার্থী স্কুলড্রেস ছাড়া থাকবে না। তাদের জন্য আমরা সব ধরনের আরামদায়ক শিক্ষার ব্যবস্থা করছি। সামনের দিকে তারা এগিয়ে যাবে। আমরা দেখতে চাই না, শিশুরা ব্যাগভর্তি বই নিয়ে প্রতি ষ্ঠানে যাচ্ছে। তারা হাসতে হাসতে খেলতে খেলতে প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে আগামী দিনের বাংলাদেশকে গড়ে তুলবে। প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া কমাতে এবং বিদ্যালয়ে উপস্থিতি বাড়াতে সরকার শিশুদের জন্য স্কুল ড্রেস ও মিড ডে মিল কর্মসূচি বাস্তবায়নের এই উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী।
এহছানুল হক মিলন বলেন, ‘শিক্ষাকে আনন্দময় করতে খেলাধূলাকে কারিকুলামে যুক্ত করা হবে, শিক্ষার্থীরা যাতে হাসতে হাসতে শিখতে পারে সেজন্য সকল পদক্ষেপ নিবে সরকার।
বিগত সরকারের সময় শিক্ষার্থীদের ড্রপ আউটের পরিমাণ বেড়ে গিয়েছিলো, বর্তমান সরকার সবার আগে শিশুদের শিক্ষাকে গুরুত্ব দিচ্ছে।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তার কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন বলেন, আগামীর বাংলাদেশ বিনির্মাণ হবে শিশুদের হাত ধরেই। এমন একটি শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে, যা হবে আনন্দময়, সৃজনশীল ও মূল্যবোধভিত্তিক।
তিনি আরও বলেন, ক্রীড়া ও সংস্কৃতিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে শিক্ষার্থীদের সুনাগরিক, দক্ষ ও যোগ্য হিসেবে গড়ে তোলা হবে। একই সঙ্গে আত্মনির্ভর বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যেও শিশুদের প্রস্তুত করতে হবে।



