আসন্ন ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপকে সামনে রেখে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে প্রথমবারের মতো ব্যবহার করা হচ্ছে অত্যাধুনিক রোবট কুকুর, যা ইতোমধ্যে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে।
বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্রীড়া আয়োজনকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের ডালাস-ফোর্ট ওয়ার্থ (ডিএফডব্লিউ) অঞ্চলে জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তা প্রস্তুতি। এই বিশাল কর্মযজ্ঞে ৩০টিরও বেশি সংস্থা একসঙ্গে কাজ করছে। এতে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি যুক্ত রয়েছে ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই) এবং যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ।
নিরাপত্তা ব্যবস্থার সবচেয়ে আকর্ষণীয় সংযোজন হলো ‘স্পট’ নামের একটি রোবট কুকুর। ডালাসে নবনির্মিত আন্তর্জাতিক সম্প্রচার কেন্দ্রে ইতোমধ্যেই টহল দিচ্ছে এই স্বয়ংক্রিয় যন্ত্রটি। যদিও এটি বাস্তব কুকুরের মতো শব্দ করতে পারে না, তবে এতে থাকা অত্যাধুনিক ক্যামেরা ও সেন্সরের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক নজরদারি চালানো সম্ভব।
বিশ্বকাপ চলাকালে এই ব্রডকাস্ট সেন্টার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, কারণ এখান থেকেই বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ম্যাচ সম্প্রচার করা হয়। ফলে বিপুল প্রযুক্তিগত অবকাঠামো ও জনবলকে নিরাপদ রাখতে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে আয়োজকরা।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, এর আগে ইংল্যান্ডের ক্রিকেট ম্যাচ, যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন পেশাদার ক্রীড়া ইভেন্ট এবং মোটর রেসিং প্রতিযোগিতায়ও এমন প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। এবারের বিশ্বকাপের আরেক আয়োজক দেশ মেক্সিকোও নিরাপত্তায় রোবট কুকুর ব্যবহারের পরিকল্পনা নিয়েছে।
জানা গেছে, এসব রোবট কুকুর নির্দিষ্ট রুটে টহল দেওয়ার পাশাপাশি দুর্গম ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাতেও সহজে পৌঁছাতে পারে। এছাড়া তারা রিয়েল-টাইম ভিডিও ও তথ্য সরবরাহ করতে সক্ষম, যা নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনাকে আরও কার্যকর করে তোলে।
ফিফা জানিয়েছে, ২০২৬ বিশ্বকাপে প্রযুক্তিনির্ভর নিরাপত্তা জোরদারের বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। উন্নত রোবোটিক প্রযুক্তির ব্যবহার বিশ্বকাপ আয়োজনকে আরও নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।



