দেশে হামের প্রাদুর্ভাব ক্রমেই ভয়ংকর রূপ নিচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও হামের উপসর্গে আরও ৮টি শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর ফলে গত ১৫ মার্চ থেকে ৩০ মে পর্যন্ত মোট মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৮৩ জনে।
শনিবার (৩০ মে) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে এ তথ্য জানানো হয়।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১ হাজার ৮৬ জনের শরীরে হামের উপসর্গ শনাক্ত হয়েছে। একই সময়ে সন্দেহজনক রোগী ছিল ১ হাজার ৩৩ জন।
১৫ মার্চ থেকে আজ পর্যন্ত সামগ্রিক চিত্র:
- মোট সন্দেহজনক রোগী: ৬৯ হাজার ৬১২ জন
- নিশ্চিত হাম রোগী: ৮ হাজার ৯৯৬ জন
- হাসপাতালে ভর্তি: ৫৫ হাজার ৭০৫ জন
- সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র: ৫২ হাজার ৫০ জন
- মোট মৃত্যু: ৫৮৩ জন
বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশে ঘন ঘন রাজনৈতিক অস্থিরতা ও ধর্মঘটের কারণে স্বাভাবিক টিকাদান কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। এছাড়া হাম-রুবেলার গণটিকাদান কর্মসূচি সাধারণত প্রতি চার বছর অন্তর আয়োজন হলেও সর্বশেষ ২০২০ সালে বাস্তবায়িত হওয়ার পর এবার আর হয়নি।
হাম পরিস্থিতি এই পর্যায়ে কেন এলো তা খতিয়ে দেখতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)-কে একটি ‘স্বাধীন তদন্ত’ পরিচালনার জন্য অনানুষ্ঠানিক অনুরোধ করেছে সরকার। হাম পরিস্থিতির অবনতির জন্য ইউনিসেফ অন্তর্বর্তী সরকারের দিকে আঙুল তুললেও সরকারি কর্মকর্তারা বলছেন, সেই সময় প্রয়োজনীয় টিকা সংগ্রহ করা হয়েছিল এবং টিকা দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো সমস্যা হয়নি।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রতিদিন হাজারেরও বেশি নতুন রোগী পাওয়া যাচ্ছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি রোগী ও মৃত্যু ঢাকা বিভাগে, আর ঢাকার বাইরে পরিস্থিতি সবচেয়ে বেশি খারাপ রাজশাহী বিভাগে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা অভিভাবকদের প্রতি অবিলম্বে শিশুদের হাম-রুবেলার টিকা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন এবং উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত নিকটবর্তী হাসপাতালে যোগাযোগ করতে বলেছেন।


