নিজস্ব প্রতিনিধিঃ
গাজীপুরের কালিয়াকৈরে মৌচাক ফাঁড়ি পুলিশের ইনচার্জ ওসি মহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে ঝুট ব্যবসা নিয়ন্ত্রণের কথা বলে ৬লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় পৌর শ্রমিক দলের সভাপতি এমন অভিযোগ তোলেন। তবে পুলিশের নিয়ন্ত্রণ থেকে ঝুট ব্যবসা মুক্তির দাবীও জানান ওই নেতা।
ভুক্তভোগী পরিবার ও অডিও রেকর্ড সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে কালিয়াকৈর উপজেলার সফিপুর নিশ্চিন্তপুর এলাকার লিভার্স টেক্সটাইল মিলস লিমিটেড কারখানার ঝুট ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করতেন স্থানীয় আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরা। কিন্তু বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনে আওয়ামী সরকার পতনের পর ওই কারখানার ঝুট ব্যবসার হাত বদল ঘটে। এর ধারাবাহিকতায় বিএনপি’র কোটেশন অনুযায়ী ওই কারখানার ঝুটের ব্যবসা পান কালিয়াকৈর পৌর শ্রমিকদলের সভাপতি এ কে আজাদের মেয়ের জামাই দেলোয়ার হোসেন। কিন্তু অন্যান্য কারখানার চেয়ে ঝুটের দাম অনেক বেশি ধরেন ওই কারখানা কর্তৃপক্ষ।
এ সুযোগে কালিয়াকৈর থানাধীন মৌচাক ফাঁড়ি পুলিশের ইনচার্জ ওসি মহিদুল ইসলাম ঝুটের দাম কমানোর কথা বলে ওই ব্যবসায়ী দেলোয়ারের কাছে মোটা অংকের অর্থ দাবী করেন। পরে ওই ব্যবসায়ীর শ^শুর শ্রমিকদলের নেতা আজাদ ফাঁড়িতে গিয়ে ওসি মহিদুলকে প্রথমে ৫ লাখ টাকা দেন। এরপর স্থানীয় লোকজনকে ম্যানেজ করার কথা বলে ওই ব্যবসায়ী দেলোয়ারের কাছ থেকে আরো ১ লাখ টাকা হাতিয়ে নেন ওসি মহিদুল। কিন্তু ওই ওসিকে মোট ৬ লাখ টাকা দিলেও কারখানা কর্তৃপক্ষ ঝুটের দাম কমায়নি।
পরে ঘুষের টাকা ফেরত চাইলে গড়িমসিসহ ওই শ্রমিকদলের নেতা ও তার মেয়ের জামাইকে মামলাসহ নানাভাবে হয়রানির ভয়ভীতি দেখান ওই ওসি। এসব বিষয়ে ওই ব্যবসায়ী ও ওসির মুঠোফোনের অডিও রেকর্ডে রয়েছে। সেখানে ওসির কথোপকথন শুনা যায়, কারখানা কর্তৃপক্ষ ঝুটের রেড কোড আমাকে দিলেও আমি কাউকে দেয়নি। ওই ব্যবসায়ীকে একটা সমাধানের জন্য ফাঁড়িতে যেতে বলেন ওই ওসি। আর টাকা-পয়সার বিষয়ে সাংবাদিকদের না বলে আজাদ ভাই আমাকে বললেই হতো। আপনি আমার কাছে আসতে পারতেন ভাই ওই রেকর্ডে ওসির এমন কথোপকথন শুনা যায়।
কালিয়াকৈর পৌর শ্রমিকদলের সভাপতি এ কে আজাদ বলেন, কোটেশন অনুযায়ী ওই কারখানার ঝুট ব্যবসা আমার মেয়ের জামাই দেলোয়ার পায়। কিন্তু অন্যান্য কারখানার চেয়ে ওই কারখানায় ঝুটের রেট বেশি ধরেছে মালিকপক্ষ। ওই কারখানার সঙ্গে ফাঁড়ির ওসির সু-সম্পর্ক থাকার সুযোগে দাম কমানোর কথা বলে মোটা অংকের টাকা দাবী করেন তিনি। পরে আমি ও আমার জামাই ওসিকে ৬ লাখ টাকা দিয়েছি। কিন্তু ঝুটের দাম কমায়নি। ওই টাকা ফেরত চাইতে গেলে মামলাসহ নানা ভাবে হয়রানির হুমকি দেন ওই ওসি। এসব বিষয়ে অডিও রেকর্ড আছে। এ বিষয়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। তবে ওই ব্যবসায়ী দেলোয়ার হোসেন বলেন, দাম কমানোর বিষয়ে মালিকপক্ষকে জানালে তারা জানিয়েছেন মালের রেটকোড ওসি মহিদুলকে দেওয়া আছে। তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন ওই কারখানা কর্তৃপক্ষ।
অভিযুক্ত মৌচাক ফাঁড়ি পুলিশের ইনচার্জ (ওসি) মহিদুল ইসলাম মুঠোফোনে তার বিরুদ্ধে অভিযোগটি অস্বীকার করে জানান, ওদের নিজেদের ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আমাকে ভিকটিম বানানোর চেষ্টা করছেন। অডিও রেকর্ডের বিষয়ে তিনি বলেন, যদি আমার কাছে টাকা পান তাহলে আসেন টাকা দিয়ে দিবো। কিন্তু আমার কাছে উনারা আসেনি। ঝুট ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ পুলিশের কাজ নয়।



