back to top

শুক্রবার, ৩১শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১৬ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ছাত্ররাজনীতির নামে কী হচ্ছে-প্রসঙ- চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্র লীগ

kbctgbd
১৭ মে ২০২৪ ১১:০৯ পূর্বাহ্ণ

মো. কামাল উদ্দিনঃ

 

৯০০০ টাকার খাম ৩ লাখে বিক্রি করলেন ছাত্রলীগ নেতা এই দিয়ে শুরু করছি আজকের লেখা, চট্টগ্রাম কলেজের ছাত্র লীগ সভাপতি মাহমুদুল করিম ও সাধারণ সম্পাদক সুভাস মল্লিক সবুজের বিভিন্ন অপকর্ম নিয়ে ইতিমধ্যে চট্টগ্রাম কলেজের সাধারণ শিক্ষার্থীরা জোরালো আন্দোলন করে আসছে। সভাপতি সাধারণ সম্পাদকের সাকল সাংগঠনিক কর্মকান্ড  কলেজ ক্যাম্পাসে নিষিদ্ধ করে দিয়েছে, তাদের অন্যায় অত্যাচারের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি ছাত্র লীগের একটি বড় অংশ ধারাবাহিক ভাবে নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলনের কর্মসুচী পালন করে আসছে। কলেজ ও পুলিশ প্রশাসন সাধারণ শিক্ষার্থীদের দাবীর স্বপক্ষে অবস্থান নিয়েছে, কলেজে যেন রক্তক্ষয়ী কোন ধরনের সংঘাত না হয় তার জন্য যথেষ্ট সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বলে কলেজ সূত্রে জানাযায়। যেই কলেজের মেধাবী শিক্ষার্থী ইতিহাস রয়েছে সেই কলেজে এখন ছাত্র লীগের পদপদবি নিয়ে প্রকাশ্য বিভিন্ন অপকর্মে জড়িত হয়ে কলেজের ইতিহাস ঐতিহ্যকে প্রশ্নবোধক করে পেলেছ। এই কলেজ দীর্ঘ বছর শিবিরের ঘাটি হিসবে চিহ্নিত ছিলো, এই কলেজের অন্তরালের জামাত শিবিরের অস্ত্রধারি ক্যাডাররা চট্টগ্রামে বড় বড় অপরাধ সংঘটিত করতো। তার থেকে দীর্ঘ বছর বছর পর হেলাল আকবর চৌধুরী বাবর এর নেতৃত্বে এই চট্টগ্রাম কলেজকে শিবিরমুক্ত করা হয়, শিবিরের ঘাটি চিরতরে বিদায় নিতে বাধ্য হয়। কলেজে একটি সাবাভিক শিকার পরিবেশ ফিরে আসে, যেই কলেজ দীর্ঘ বছর শিবিরের অধীনে থাকাকালীন বঙ্গবন্ধুর নাম নিতে পারেনি কোন শিকার্থী, স্বাধীনতার স্বপক্ষে অবস্থান নেওয়ারমতো কোন সুযোগ ছিলো না। শিবিরের কাছে স্বাধীনতার স্বপক্ষের শিক্ষার্থীরা জিম্মি ছিলো, সেই কলেজেকে স্বাধীনতার স্বপক্ষে সাধারণ শিক্ষার্থীরা যখন স্বাধীনভাবে সুন্দর পরিবেশে শিক্ষা গ্রহণ করে আসছিল তখনই এই ছাত্র লীগ চট্টগ্রাম কলেজের সভাপতি মাহমুদুল করিম ও সাধারণ সম্পাদক সুভাস মল্লিক সবুজ আদর্শগত চিন্তা চেতনার মনোভাবের বাইরে এসে দিন দিন বেপরোয়া হয়ে বিভিন্ন অপকর্মের সাথে জড়িত হয়ে পড়েছে। ছাত্র লীগের পদপদবি ব্যবহার করে সাধারণ শিক্ষার্থীদেরকে জিম্মি করে রেখেছে। তারা তাদের শিক্ষা জীবনকে পরিহার করে এমন কোনো ধরণের অপরাধ নেই তারা করেনি। মেধাবী ছাত্র লীগ নেতা থেকে রাতারাতি অপরাধ জগতের গডফাদার পরিনত হয়েছে। তারা ছাত্র লীগের নাম ব্যবহার করে বিভিন্ন ভাবে অবৈধ আয়করে লক্ষ লক্ষ টাকার মালিক হয়েছে। তাদের পরিচয় এখন ছাত্র নেতা থেকে চাঁদাবাজ নেতার রুপান্তর হয়েছে। তাদেরকে আমি ব্যক্তিগতভাবে চিনতাম এবং জানতাম, তারা একসময় মেধাবী ভালো ছাত্র ছিল, তাদের এই অধ পতন দেখে আমি নিজেই লজ্জা পাচ্ছি, তাদের অপকর্মের কথা লিখতে বসে নিজেই লজ্জিত বোধ করছি। তাদের বিষয়ে আজকের আমি বিভিন্ন সামাজিক ও গণমাধ্যমে প্রচারিত ও প্রকাশিত সংবাদ সমূহ হুবহুব তুলে ধরার পাশাপাশি ছাত্র রাজনীতি নিয়ে কিছু পর্যালোচনা করছি।

অভিযোগ যেন পিছু ছাড়ছেই না চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে। বারবার আসামির কাঠগড়ায় ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক। এবার তাদের বিরুদ্ধে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ভয় ও হুমকি দিয়ে ৩ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

জানা যায়, এবার কলেজে ভর্তি হয়েছে মোট ৩ হাজার ২০০ শিক্ষার্থী। যাদের কাছ থেকে খাম বিক্রি বাবদ আদায় করা হয়েছে ৩ লাখ ২০ হাজার টাকা। যার প্রকৃত মূল্য ৯ হাজার ৬০০ টাকা।

তবে সভাপতি ও সম্পাদকের এমন চাঁদাবাজির ঘটনায় জড়িত হতে চান না বাকি ছাত্রলীগের পদধারী কেউই। তাই এই ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়েছে তারা। কিন্তু প্রতিবাদ জানিয়ে উল্টো হামলার শিকার হতে হয়েছে তাদের। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি দুই ছাত্রলীগের কর্মী। শুধু এ দুজনই নয়, চাঁদাবাজির প্রতিবাদ জানানোর ঘটনায় ঘটেছে সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া।বৃহস্পতিবার (৯ মে) পর্যন্ত অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। তবে সাধারণ শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে চাঁদা নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সুভাস মল্লিক সবুজ। তিনি অভিযোগ করে বলেন, তাদের পদ থেকে সরাতেই এমন মিথ্যা কথা ছড়ানো হচ্ছে। জানা যায়, বৃহস্পতিবার দুপুরে চট্টগ্রাম কলেজ প্রাঙ্গণে সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে সভাপতি-সম্পাদকের সঙ্গে আরেকটি গ্রুপের। এই ঘটনায় ১০ জন আহত হন। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ভর্তি হন দুজন। তাদের অবস্থা গুরুতর। আহতরা হলেন, ইংরেজি ১ম বর্ষের জাবের বিন জাফর, ডিগ্রি প্রথম বর্ষের ইমতিয়াজ হোসেন সাবের, ডিগ্রি তৃতীয় বর্ষের ছাত্র ও ছাত্রলীগের সহসম্পাদক রিয়াজ উদ্দীন, উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের ২য় বর্ষের ছাত্র আবদুল মাজেদ ফয়সাল, চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রলীগের উপবিজ্ঞান প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক ও ডিগ্রি ১ম বর্ষের ছাত্র মাহিবি তাজোয়ার, চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রলীগের উপপাঠাগার বিষয়ক সম্পাদক ও ডিগ্রি ৩য় বর্ষের ছাত্র এরফান আলম ও আমিন ফয়সাল বিদ্যুৎ।

সভাপতি-সম্পাদক গ্রুপের আহত ছাত্রলীগ নেতারা হলেন, ইংরেজি ডিপার্টমেন্টের সাধারণ সম্পাদক জনি, ইসতিয়াক হোসেন ও মো. মিজান। সংঘর্ষের কারণ সম্পর্কে চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক অর্নব দেব বলেন, চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ক্যাম্পাসে দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিকভাবে সাধারণ শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অর্থ আত্মসাত করে আসছে। বর্তমানে অনার্সে ভর্তি চলছে। প্রত্যেকটি শিক্ষার্থী থেকে একটি খাম বিক্রি বাবদ ১০০ টাকা করে নিচ্ছে। এছাড়া রেজিস্ট্রেশন কার্ড, এডমিট কার্ড নিতে হলে প্রত্যেকটি থেকে ১০০ টাকা করে নিচ্ছেন সভাপতি-সম্পাদক। অথচ শিক্ষামন্ত্রীর নির্দেশনা রয়েছে, শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে যেন কোনো চাঁদাবাজি না করা হয়। এই সব নিয়ে কয়েকদিন ধরেই আমরা প্রতিবাদ করে আসছি। আজকেও (বৃহস্পতিবার) একজন সাধারণ শিক্ষার্থী থেকে অন্যায়ভাবে জোরপূর্বক ১০০ টাকা নেওয়ার চেষ্টা করে। পরে আমরা প্রতিবাদ করায় তারা আমাদের সঙ্গে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। অর্নব দেব আরও বলেন, শুধু আজ নয়, বিভিন্ন ডিপার্টমেন্টে এমন চাঁদাবাজি তারা দীর্ঘদিন ধরেই করছেন। এমন ঘটনার প্রতিবাদে চকবাজার থানা ও কোর্টে আমরা মামলাও করেছি। আজ যখন সাধারণ শিক্ষার্থীর গায়ে হাত তোলা হয় তখনই আমরা প্রতিবাদ করি।

বর্তমান সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ক্যাম্পাসে চাঁদাবাজির পাশাপাশি নিয়োগ বাণিজ্য, টেম্পোস্টেশন ও টং দোকান থেকেও প্রতি মাসে বিপুল পরিমাণে চাঁদাবাজি করত বলে অভিযোগ চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রলীগের সহসভাপতি মনিরুল ইসলাম মনিরের। তিনি বলেন, এসব চাঁদাবাজি করে কলেজ সভাপতি মাহাদুল করিম সাড়ে ৩ কোটি টাকায় একটি বিশাল বাড়ি বানিয়েছেন। তাদের দুই জন এতটাই বেপরোয়া যে, তাদের কাছে সবাই অসহায়। তারা একটি কলেজে কীভাবে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে সামান্য ৩ টাকা দামের খাম ১০০ টাকা আদায় করছে! তবে আমরা এর প্রতিবাদ জানাই। এই কারণে আমাদের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে। আমরা চাই এই ধরনের মানুষ যেন ক্যাম্পাসে আর না আসে। আমরা সাধারণ শিক্ষার্থীদের পক্ষে। আমরা চাঁদাবাজি চাই না।

ভর্তিচ্ছুক শিক্ষার্থীদের কাছে জোর করে খাম বিক্রি করে গেল ৭ দিনে ৩ লাখ ২০ হাজার টাকা আদায় করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন কলেজ ছাত্রলীগের যুগ্ম সম্পাদক আবদুল্লাহ আল সাইমন। তিনি বলেন, কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি-সম্পাদক সিন্ডিকেট করে ভর্তি কার্যক্রমের ফাইল বিক্রি করছে। একটি খামের জন্য ১০০ টাকা চাওয়ার ঘটনায় প্রতিবাদ জানালে ডিগ্রি প্রথম বর্ষের ছাত্র ইমতিয়াজ হোসেন সাবেরের ওপর গেল কয়েকদিন আগে হামলা করে সভাপতি-সম্পাদকের অনুসারীরা। এ সময় তার চোখের ওপরের অংশ জখম হয়। আমরা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাই। সে সুস্থ হয়ে আজ ক্যাম্পাসে আসে। আজও তার ওপর হামলা করা হয়। আজ তার কানই ফাটিয়ে দেওয়া হয়। পরে এ নিয়ে আমাদের দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া হয়। তিনি অভিযোগ করে বলেন, এই খাম বিক্রি বিষয়টি সভাপতি ও সম্পাদকের পক্ষে নিয়ন্ত্রণ করেন হাবিব উল্ল্যাহ রিয়াদ ও মমিনুল ইসলাম নামে দুই ছাত্রলীগ নেতা। প্রত্যেকটি ছাত্রকে তারা ভয়ভীতি ও হামলা-মারধরের হুমকি দিয়েই এই টাকা আদায় করছে। আমিসহ আমাদের কিছু ছাত্রলীগ সহকর্মী এই চাঁদাবাজির প্রতিবাদ জানাই এবং তাদের সঙ্গ ছেড়ে দিই।

তবে সকল অভিযোগ অস্বীকার করেছেন চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সুভাষ মল্লিক সবুজ। তিনি বলেন, গেল এক মাস ধরে আমাকে ও সভাপতিকে কলেজে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না। কলেজে সভাপতি মাহমুদুল করিমের পোস্টার, ব্যানার ছিল। কিন্তু সেই পোস্টার, ব্যানার খুলে ফেলা হয়েছে। কলেজের পাশাপাশি শিক্ষক নিয়োগ বাণিজ্য, টেম্পু স্টেশন ও টং দোকানসহ কোনো জায়গা থেকেই আমরা চাঁদাবাজি করি না। এটা একটা মিথ্যা অভিযোগ। এমন মিথ্যা অভিযোগ তুলে আমাদের হেয় করতে চাচ্ছে তারা। আজ বিনা-উষ্কানিতেই তারা আমাদের ওপর হামলা চালায়।

এদিকে এই ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত জানতে কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি মাহমুদুল করিমকে কয়েকবার ফোন করলেও ফোনটি রিসিভ হয়নি। তবে বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানিয়েছেন চকবাজার থাকার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) তৌহিদ কবির। তিনি বলেন, পূর্বের কিছু ঘটনার জের ধরেই চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি মাহমুদুল করিম ও সাধারণ সম্পাদক সুভাষ মল্লিক সবুজের অনুসারীদের সঙ্গে ছাত্রলীগের আরেকটি গ্রুপের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষই অভিযোগ করেননি। এই তথ্য গুলো আমার নয়, আমি তাদের বিষয়প অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করবো, চলুন ছাত্র রাজনীতির কিছু কথা শুনে আসি –কিছু কিছু তথাকথিত ছাত্রলীগের কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রায় সময় গণমাধ্যমে কোনো না কোনো নেতিবাচক খবর প্রকাশিত হচ্ছে। সিট বাণিজ্য, চাঁদাবাজি, ধর্ষণ, ছিনতাই এবং মারামারি যেন এ সংগঠনের পরিচয়ধারীদের কারও কারও নিত্যদিনের কাজ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ছাত্রলীগের এ অধঃপতন আমাদের দেশের ছাত্ররাজনীতি সম্পর্কেই মানুষের মনে বিরূপতা তৈরি করছে। অথচ এক সময় বাংলাদেশের ছাত্ররাজনীতির ভূমিকা ছিল গৌরবোজ্জ্বল। এটুকু বললেও অবশ্য কমই বলা হয়, ’৫২ থেকে ’৯০ পর্যন্ত ছাত্র আন্দোলন ছিল এ দেশের জাতীয় রাজনীতির অন্যতম প্রধান শক্তি। সব আন্দোলনেই ছাত্রসমাজ বুকের রক্ত দিয়ে গণতন্ত্রের ধারা বহন করে অগ্রসর হয়েছে। স্বাধীনতা, মুক্তিযুদ্ধের সাফল্য ছাত্রসমাজের ভূমিকা বাদ দিয়ে ভাবার কোনো সুযোগ নেই। এক সময় অসাম্প্রদায়িকতা আর উদারনীতি ছিল মূলধারার ছাত্ররাজনীতির প্রধান উপজীব্য। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে গণতন্ত্র, স্বাধীনতা, মুক্তিযুদ্ধ আর ছাত্র আন্দোলন একটা সময় ছিল সমার্থক।

ষাটের দশকের গোড়ার দিকে ছাত্র রাজনীতির প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে আরেকটি কথা প্রচলিত ছিল। তা হলো, যেহেতু রাজনৈতিক দলগুলো দুর্বল, রাজনৈতিক প্রক্রিয়া দুর্বল বা গড়ে উঠতে পারেনি, সেহেতু জাতীয় রাজনীতিতে রাজনৈতিক দলগুলোর যথাযথ ভূমিকা পালনের ক্ষেত্রে একটি আপাতশূন্যতা রয়ে গেছে। জাতীয় রাজনীতির এ দুর্বল প্রক্রিয়ায় ছাত্ররাজনীতিকে এর সম্পূরক ভূমিকা পালন করতে হচ্ছে। অন্য কথায়, জাতীয় রাজনীতির দুর্বল বাস্তবতাই ছাত্ররাজনীতিকে অপরিহার্য করে তুলেছে। এ বাস্তবতার আলোকেই ছাত্ররাজনীতি জাতীয় রাজনীতির সমান্তরালে থেকে এর সহায়ক শক্তির ভূমিকা পালন করেছে। জাতীয় রাজনীতির ক্ষেত্রে কিছু কিছু ভূমিকা রাজনৈতিক দলগুলো তাদের সীমাবদ্ধতা ও দুর্বলতার জন্য পালন করতে অনেক সময় ব্যর্থ হয়েছে। তাদের ব্যর্থতার জায়গাটিই পূরণ করেছে ছাত্ররাজনীতি। অবশ্য এ ভূমিকাটি কখনোই আরোপিত বা চাপিয়ে দেওয়া হয়নি। বাস্তবতার প্রয়োজনেই হয়েছে। তবে জাতীয় রাজনীতি বা রাজনৈতিক দলের বিকল্প হিসাবে ছাত্ররাজনীতির কথা কেউ কখনো ভাবেননি, ভাবা সম্ভবও ছিল না। জাতীয় রাজনীতিকে অনেক সময়ই প্রভাবিত করেছে ছাত্র রাজনীতি, তবে কখনোই জাতীয় রাজনৈতিক দলের ভূমিকা পালন করেনি। করার প্রশ্নও ওঠেনি। এ জায়গাটিতেই ছিল অতীতে ছাত্ররাজনীতি আর জাতীয় রাজনীতির মধ্যকার সীমারেখা। সেকালে ছাত্র আন্দোলনের প্রধান উপাদান ছিল শিক্ষাঙ্গনের সমসা, ছাত্রছাত্রীদের সাধারণ সমস্যা অর্থাৎ শিক্ষার সমস্যা নিয়ে আন্দোলন এবং দেশের অসাম্প্রদায়িক ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনে ভূমিকা রাখা। আর এখনকার ছাত্র আন্দোলনের ক্ষেত্রে দু-একটি ব্যতিক্রমী সংগঠন ছাড়া অধিকাংশ ক্ষেত্রে ছাত্র আন্দোলন মানেই হচ্ছে দলীয় রাজনীতি ও প্রভাব, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাস। দেশের শিক্ষাঙ্গন সম্পর্কে যারা ভাবেন, যারা খোঁজখবর রাখেন, তারা কি কেউ মনে করতে পারবেন শেষ কবে কোন বছরে এ ছাত্র সংগঠনগুলো শিক্ষার সমস্যা, ছাত্রদের সমস্যা বা শিক্ষাঙ্গনের সমস্যা নিয়ে আন্দোলন করেছে? সমস্যাগুলোর সমাধানের চেষ্টা করেছে। বোধহয় কেউই মনে করতে পারবেন না। কারণ, নিকট-অতীতে ছাত্র সংগঠনগুলো শিক্ষা বা শিক্ষার্থীদের সমস্যা নিয়ে মাথা ঘামিয়েছে এমন কোনো ব্যাপার মনে করা কঠিন।

’৬৪-তে যে ছাত্রসমাজ সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছিল, সেই ছাত্রসমাজ ’৯০ আর ’৯২তে কেন সাম্প্রদায়িক সহিংসতার বিরুদ্ধে দাঁড়াতে পারল না? এটা কি আমরা ভেবে দেখেছি? সন্ত্রাস সারা দেশের এক নম্বর সমস্যা। সন্ত্রাস এখন শিক্ষাঙ্গনেরও একটি প্রধান সমস্যা। ছাত্র আন্দোলনের ঠিকা নিয়ে রেখেছেন জাঁদরেল সব ছাত্রনেতা, মহাশক্তিশালী সব ছাত্র সংগঠন। দেশবাসী কি দেখেছে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে এদের কখনো কোনো ভূমিকা রাখতে? রাখবেন কীভাবে? সন্ত্রাস লালন করে তো আর সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে ভূমিকা রাখা যায় না। অবশ্য ক্যাডার পরিবেষ্টিত হয়ে কোনো কোনো ছাত্রনেতাকে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে কথা বলতে দেখা যায়। অনেক সময় রাজনৈতিক দলের নেতা নেত্রীদেরও দেখা যায় সন্ত্রাসী ছাত্র ক্যাডারদের ডানে-বাঁয়ে রেখে জনসভায় বক্তব্য

দিচ্ছেন সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে। সন্ত্রাস, তা সে শিক্ষাঙ্গনেই হোক, আর সমাজজীবনেই হোক, বন্ধ করতে হলে রাজনৈতিক দলগুলোকে একমত ও আন্তরিক হতে হবে। যে সরষের মধ্যে এখন ভূত আছে, সেই সরষে দিয়ে ভূত তাড়ানো অসম্ভব কাজ। ছাত্ররাজনীতি বন্ধের দাবি উঠলে তার ঢালাও বিরোধিতা করা হয় কোনো কোনো মহল থেকে। খোঁজখবর নিলে দেখা যাবে, এ বিরোধিতা তারাই করেন, ছাত্ররাজনীতির সঙ্গে যাদের কায়েমি স্বার্থ জড়িত।

বিরোধিতার ভাষা ও বক্তব্য ভিন্ন ভিন্ন হলেও উদ্দেশ্য এক- ছাত্ররাজনীতি এখন যেভাবে আছে ঠিক সেভাবেই টিকিয়ে রাখা। বামপন্থিরা বলেন, ছাত্ররাজনীতি ছাত্রদের মৌলিক অধিকার। শুধু ছাত্ররাজনীতি নয়, রাজনীতি রাষ্ট্রের সব নাগরিকের মৌলিক অধিকার। তাহলে রাজনীতিকে আবার ছাত্ররাজনীতি, শ্রমিক রাজনীতি, কৃষক রাজনীতি, নারী রাজনীতি, পুরুষ রাজনীতিতে বিভক্ত করতে হবে এমন কোনো কথা আছে কি? বাস্তবে এটা সম্ভবও নয়। ছাত্ররাজনীতি রাজনীতির কোনো বিশেষ উপাদান বা কম্পার্টমেন্ট হতে পারে না, কোনোদিন হয়নি। ইদানীংকালে সম্ভবত ছাত্ররাজনীতি নামে ছাত্র আন্দোলন বা ছাত্র সংগঠনকে এক করে ফেলা হয়েছে। আর এখানেই রয়েছে সমস্যার মূল।

এককভাবে বা ব্যক্তিগতভাবে যে কোনো ছাত্রই রাজনীতি করতে পারেন, তবে তা জাতীয় রাজনীতির অংশ হিসাবেই করতে হবে, মূল রাজনীতির নামে আরেকটা দিগন্ত শাখা খোলার প্রয়োজন নেই। তবে ছাত্রদের সংগঠন থাকতে পারে। ছাত্র সংসদ থাকতে পারে। শিক্ষা সমস্যা, শিক্ষাঙ্গনের সমস্যা নিয়ে আন্দোলনও হতে পারে, তবে তা ছাত্ররাজনীতি নামে অভিহিত হবে কেন? বা তাকে জাতীয় রাজনীতির অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসাবে দেখা হবে কেন? আসলে রাজনৈতিক নেতারা নিজেদের স্বার্থেই ছাত্র সংগঠন এবং ছাত্র আন্দোলনকে জাতীয় রাজনীতির হাতিয়ার হিসাবে, নিজেদের দলীয় রাজনীতিতে ব্যবহারের অস্ত্র হিসাবে দেখতে চান। আগে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে ছাত্র সংগঠনগুলোর যোগসূত্র যতটুকু ছিল তা ছিল আদর্শিক। সাধারণ গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ধারার মধ্যেই তার বহিঃপ্রকাশ ঘটত। কিন্তু এখন ছাত্র আন্দোলনের নামে সংগঠনগুলো রাজনৈতিক দলের হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে। ছাত্ররাজনীতি নিয়ে আপত্তিটা এখানেই। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, যতদিন ছাত্র আন্দোলন দলীয় রাজনীতির হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহৃত হয়নি, ততদিন পর্যন্ত ছাত্র আন্দোলনের যে যথার্থ ভূমিকা ছিল, পরবর্তীকালে যখন দলীয় রাজনীতির লাঠিয়াল হিসাবে ব্যবহৃত হতে লাগল, তখন ছাত্র আন্দোলন যথার্থ ভূমিকাটি হারিয়ে দলীয় রাজনীতি আর সন্ত্রাসের আখড়ায় পরিণত হলো। সেই কারণেই ছাত্র আন্দোলন আর সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, ক্যাডার রাজনীতি সমার্থক হয়ে গেছে।

ছাত্র আন্দোলনের এ পরিণতি অর্থাৎ তথাকথিত ছাত্ররাজনীতিতে পরিণত হওয়ারও একটি ইতিহাস রয়েছে। ১৯৭৩ সালে ডাকসু নির্বাচনে ব্যালট বাক্স হাইজ্যাক করা হয়েছিল। ছাত্রলীগ এবং ছাত্র ইউনিয়ন মিলিতভাবে এ অপকর্মটি করেছিল। ক্ষমতাসীন দলের সমর্থক ছাত্র সংগঠন এবং তাদের বন্ধু ছাত্র সংগঠনের যৌথ প্যানেলের ভরাডুবি হয়েছে একটি মাত্র ছাত্র সংগঠনের কাছে। এতে ক্ষমতাসীন দল ও তাদের সমর্থক ছাত্র সংগঠনের ইমেজ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, এর প্রভাব তখনকার ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের ক্ষমতার ওপরও পড়তে পারে-এ আশঙ্কাই ছিল ব্যালট বাক্স হাইজ্যাকের বাহ্যিক যুক্তি। এ ঘটনা ছাত্র আন্দোলনের মধ্যে একটি নেতিবাচক পরিণতি সৃষ্টির পটভূমি তৈরি করে।

১৯৭৪ সালে মুহসীন হলে ৭ ছাত্রলীগ কর্মীকে হত্যা করা হয়। বাইরের কেউ এটি করেনি। অভ্যন্তরীণ বিরোধের জেরেই ঘটেছিল ওই হত্যাকাণ্ড। প্রধান অভিযুক্ত শফিউল আলম প্রধানকে গ্রেফতার ও কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হলেও পরবর্তীকালে সামরিক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান তাকে রেহাই করে দিয়ে জেল থেকে মুক্ত করেন। এ ছাড়া রাজনৈতিক দলবিধির আওতায় ছাত্র সংগঠনগুলোকে বাধ্যতামূলকভাবে রাজনৈতিক দলের অঙ্গ সংগঠন হিসাবে রেজিস্ট্রেশন করার বিধান করলেন জিয়াউর রহমান। এভাবে ছাত্র আন্দোলনকে রাজনৈতিক দলের হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহারের পথ সুগম করা হলো। এ পটভূমিতে ছাত্রদল নামে ছাত্র সংগঠন তৈরি করলেন জিয়াউর রহমান। মেধাবী ছাত্রদের হাতে অস্ত্র তুলে দিয়ে অস্ত্রবাজ-সন্ত্রাসী হিসাবে তাদের কুখ্যাত করা হয়েছিল। এভাবে অসংখ্য মেধাবী শিক্ষার্থীকে রাষ্ট্রীয়ভাবে বিপথগামী করে অস্ত্রবাজ-সন্ত্রাসীতে রূপান্তরিত করা হয়েছে জিয়াউর রহমানের শাসনামলে। তাই এটি বললে বাড়িয়ে বলা হয় না যে, রাষ্ট্রের উদ্যোগে বাংলাদেশের ছাত্র আন্দোলনে স্থায়ীভাবে সন্ত্রাস সৃষ্টির প্রক্রিয়া এবং ক্যাম্পাসকে সন্ত্রাস সৃষ্টির কারখানায় পরিণত করার ব্যবস্থা করেছেন জিয়াউর রহমান। বলা যায়, ছাত্র আন্দোলনের চরম ক্ষতি এবং ক্যাম্পাসে সন্ত্রাসের প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার ক্ষেত্রে জিয়াউর রহমানের মতো বলিষ্ঠ ভূমিকা আর কেউ রাখতে পারেননি। সবই করা হয়েছে জিয়াউর রহমানের ব্যক্তিগত রাজনীতি এব

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল খবরবাংলা২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন info@khaborbangla24.com ঠিকানায়।

হাম ও ডেঙ্গুতে বাড়ছে আক্রান্ত

দেশে সংক্রামক রোগ হাম ও ডেঙ্গুর প্রকোপ এখনও উদ্বেগজনক।...

যেখানেই হামলা, সেখানেই প্রতিরোধ

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা...

লিজেন্ডস লিগে সাকিবের নতুন দায়িত্ব

দীর্ঘদিন জাতীয় দলের বাইরে থাকলেও ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে ব্যস্ত সময়...

সন্ত্রাসবিরোধী মামলায় ছাত্রলীগ নেতা গ্রেপ্তার

ফেনীর ফুলগাজী উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি সামছুল হক রাসেদকে...

সবজির দাম আকাশছোঁয়া, মরিচের কেজি ৪০০!

টানা বৃষ্টি, কিছু এলাকায় বন্যা এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্নের...

হাম ও ডেঙ্গুতে বাড়ছে আক্রান্ত

দেশে সংক্রামক রোগ হাম ও ডেঙ্গুর প্রকোপ এখনও উদ্বেগজনক।...

যেখানেই হামলা, সেখানেই প্রতিরোধ

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা...

লিজেন্ডস লিগে সাকিবের নতুন দায়িত্ব

দীর্ঘদিন জাতীয় দলের বাইরে থাকলেও ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে ব্যস্ত সময়...

সন্ত্রাসবিরোধী মামলায় ছাত্রলীগ নেতা গ্রেপ্তার

ফেনীর ফুলগাজী উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি সামছুল হক রাসেদকে...

সবজির দাম আকাশছোঁয়া, মরিচের কেজি ৪০০!

টানা বৃষ্টি, কিছু এলাকায় বন্যা এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্নের...

সর্বশেষ

হাম ও ডেঙ্গুতে বাড়ছে আক্রান্ত

দেশে সংক্রামক রোগ হাম ও ডেঙ্গুর প্রকোপ এখনও উদ্বেগজনক।...

যেখানেই হামলা, সেখানেই প্রতিরোধ

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা...

লিজেন্ডস লিগে সাকিবের নতুন দায়িত্ব

দীর্ঘদিন জাতীয় দলের বাইরে থাকলেও ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে ব্যস্ত সময়...

সন্ত্রাসবিরোধী মামলায় ছাত্রলীগ নেতা গ্রেপ্তার

ফেনীর ফুলগাজী উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি সামছুল হক রাসেদকে...