মোঃ শামীম মিয়া ষ্টাফ রিপোর্টারঃ
মানিকগঞ্জে মাত্র ১২০ টাকা খরচ করে পুলিশে চাকরি পেয়েছেন ৩৫ জন তরুণ-তরুণী। কোনো রকম ঘুষ-তদবির ছাড়াই মেধা ও যোগ্যতার মূল্যায়নের ভিত্তিতে এ চাকরি পাওয়ায় খুশি হয়েছেন তারা। স্বপ্ন পূরণ হওয়ায় আনন্দে কেঁদেও ফেলেন অনেকেই।
বৃহস্পতিবার (৪ঠা এপ্রিল) বিকেলে মানিকগঞ্জ জেলা পুলিশ লাইন্সে পুলিশে ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল নিয়োগ পরীক্ষার চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করা হয়। নিয়োগ বোর্ডের সভাপতি মানিকগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ গোলাম আজাদ খান এ ফলাফল ঘোষণা করেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন নিয়োগ বোর্ডের অন্য দুই সদস্য অতিরিক্ত পুলিশ সুপার টাংগাইল সদর সার্কেল মোঃ সোহেল রানা, মানিকগঞ্জ জেলা পুলিশের ডিএসবি শাখার ইয়াসিনা ফেরদৌস সহ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) সুজন সরকার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড অপস) জনাব ইমতিয়াজ মাহবুব, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, ডিএসবি জনাব নুরজাহান লাবনী।
পুলিশ সুপারের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৮, ৯ ও ১১ মার্চ জেলা পুলিশ লাইন্স মাঠে পুলিশ কনস্টেবল পদে ১০৭৬ জন চাকরি প্রার্থীর শারীরিক মাপ ও কাগজপত্র যাচাই-বাছাই সম্পন্ন হয়। মাঠ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন ৫৬০ জন। ৪ঠা এপ্রিল লিখিত পরীক্ষায় ৯৭ জন উত্তীর্ণ হন। এদের মধ্য থেকে ৩৫ জন প্রার্থী চূড়ান্তভাবে মনোনীত হন। মনোনীতদের মধ্যে ৩০ জন পুরুষ ও ৫ জন নারী রয়েছেন।
চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণদের একজন অনন্ত রাজবংশী। তাৎক্ষনিক প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, পুলিশে চাকরির প্রতি আমার ধারণা ছিল ভিন্ন। কিন্তু ১২০ টাকা ব্যাংক ড্রাফট করে আমি চাকরির জন্য উত্তীর্ণ হয়েছি। শুধুমাত্র যোগ্যতার ভিত্তিতেই আমাদের উত্তীর্ণ করা হয়েছে। আর এ জন্য মাননীয় পুলিশ সুপার মহোদয় কে ধন্যবাদ জানাই।
প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন অনেকেই। উত্তীর্ণরা বলেন, ‘স্বপ্ন ছিল পুলিশ সদস্য হবো। যখন আবেদন করলাম, তখন অনেকেই বলেছেন তদবির আর ঘুষ ছাড়া চাকরি হবে না। কিন্তু তদবির আর ঘুষ ছাড়াই আমাদের স্বপ্ন পূরণ হয়েছে আজ। শুধু মাত্র ব্যাংক ড্রাফট বাবদ ১২০ টাকা খরচ হয়েছে আমাদের।
মানিকগঞ্জ পুলিশ সুপার(এসপি) মোহাম্মদ গোলাম আজাদ খান বলেন, নিয়োগের বিষয়টি পুলিশ হেডকোয়াটার্স থেকেই সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। আমাদের এখানে শুধু ভাইবা নেওয়া হয়। যে কারণে কোনো ধরনের অনিয়মের সুযোগ নেই। যারা চাকরি পেয়েছেন তারা বেশিরভাগই হতদরিদ্র পরিবারের সন্তান। উত্তীর্ণরা তাদের নিজ নিজ যোগ্যতার ভিত্তিতেই চাকরির জন্য মনোনীত হয়েছেন। আমরা শুরু থেকেই প্রার্থীদের জানিয়েছি তারা যেন কোনো ধরনের দালাল ও মধ্যস্বত্তভোগীদের খপ্পরে না পড়ে। কারণ বাংলাদেশ পুলিশে নিয়োগের ক্ষেত্রে এখন কোনো অনিয়মের সুযোগ নেই।


