খন্দকার মহিবুল হক, জেলা প্রতিনিধিঃ
“সুশাসন ও জবাবদিহিতার হাতিয়ার হিসেবে তথ্য অধিকার আইনের প্রয়োগ জনগণের জন্য সুফল বয়ে আনবে ”জেলা প্রশাসক, কুমিল্লা।জনগণের জানার অধিকার নিশ্চিত করতে সরকার 'তথ্য অধিকার আইন ২০০৯' প্রণয়ন করেছে। আইন প্রণয়নের পর থেকেই তথ্য অধিকার আইন এর ব্যাপক প্রচার, প্রসার ও প্রায়োগিক দিক বৃদ্ধির নানান উদ্যোগ চলমান রয়েছে। তারই ধারাবাহিকতায় কুমিল্লা জেলা প্রশাসনের সার্বিক সহযোগিতায় এবং সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) এর উদ্যোগে গতকাল ২৪ এপ্রিল ২০২৪, বুধবার তথ্যমেলাসহ বিভিন্ন কর্মসূচি আয়োজন করা হয়।

প্রথমভাগে মেলার শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন খন্দকার মু: মুশফিকুর রহমান, জেলা প্রশাসক, কুমিল্লা । সনাক কুমিল্লার সভাপতি রোকেয়া বেগম শেফালীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খন্দকার মু: মুশফিকুর রহমান, জেলা প্রশাসক, কুমিল্লা। প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে বলেন তথ্য অধিকার আইন-২০০৯ নিঃসন্দেহে একটি উত্তম আইন। এহেন আইন প্রণয়ন বাংলাদেশের জন্য একটি যুগান্তকারী ঘটনা। জনগণেরক্ষমতায়নে মাইলফলক। আইনটির অনন্য বৈশিষ্ট্য হল দেশের প্রচলিত অন্য সব আইনে কর্তৃপক্ষ জনগণের ওপর ক্ষমতা প্রয়োগ করে থাকে কিন্তু এ আইনে জনগণ কর্তৃপক্ষের ওপর ক্ষমতা আরোপ করে। এটি একটি শক্তিশালী নাগরিকবান্ধব আইন। প্রকৃতই জনগণের আইন। সর্বজনীন আইন। শ্রেণীগত ভেদাভেদ নির্বিশেষে সর্বস্তরের প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী দূর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ
বিনির্মাণের জন্য তথ্যের সহজলভ্যতা প্রত্যেকটি পর্যায়েই নিশ্চিত অঙ্গীকার করেন। তিনি কুমিল্লা জেলার সকল সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান সমূহকে তথ্যের অবাধ প্রবাহ নিশ্চিতকরার আহ্বান জানান।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ডা. নাছিমা আক্তার,সিভিল সার্জন, কুমিল্লা বলেন তথ্য প্রদানের ক্ষেত্রে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় এটি একটি অসাধারণ পদক্ষেপ যা আইনটিকে শক্তিশালী করেছে। বিশ্বব্যাপী টেকসই উন্নয়নের সব পদক্ষেপে অবাধ তথ্যপ্রবাহ ও তথ্যে অভিগম্যতার গুরুত্ব বিশেষভাবে প্রতিভাত হচ্ছে। বাংলাদেশও এর ব্যতিক্রম নয়। জাতিসংঘ ঘোষিত সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্য (এমডিজি) অর্জনে বাংলাদেশ প্রশংসনীয় সাফল্য অর্জন করেছে। এটি বলা অত্যুক্তি হবে না যে, দারিদ্র্য বিলোপ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও নারী উন্নয়নে, জেন্ডার সমতা অর্জনে, খাদ্য নিরাপত্তা,শিশুমৃত্যু, মাতৃমৃত্যুর হার কমানো ইত্যাদি সব ক্ষেত্রে তথ্যের অবাধ প্রবাহ, জনগণের তথ্যে প্রবেশাধিকার তথা তথ্য অধিকার
আইন-২০০৯ সহায়ক ভূমিকা পালন করেছে। অনুষ্ঠানের সমাপনী পর্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরো বক্তব্য রাখেন ফাহমিদা মুস্তফা, অতিরিক্তি জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি), ডা. মো: নাজমুল আলম, ডেপুটি সিভিল সার্জন, কুমিল্লা, কামরান হোসেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, জেলা পুলিশ, কুমিল্লা, সনাক কুমিল্লা সদস্য ও টিআইবি'র পষদ সদস্য বদরুল হুদা জেনু, তথ্য মেলা উদযাপন কমিটির আহবায়ক এ্যাড. শামীমা আক্তার জাহান, টিআইবি ক্লাস্টার কো-অর্ডিনেটর, চট্টগ্রাম ক্লাস্টার মোঃ জসীম উদ্দীন, ইয়েস সদস্য, সরকারি-বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধি বৃন্দ, বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিক বৃন্দ।
উল্লেখ্য যে, উক্ত তথ্য মেলায় আনুমানিক ১৫০০ অধিক জনগণ বিভিন্ন তথ্যের জন্য ফরম পূরণ করে সরকারি-বেসরকারি সংস্থা সমূহের কাছ থেকে তথ্য চেয়ে আবেদন করেন।
সভা শেষে প্রীতি বিতর্কে অংশগ্রহনকারী শিক্ষার্থীদের মাঝে পুরস্কার ও তথ্য মেলায় অংশগ্রহনকারী মধ্য থেকে ১ম, ২য় ও ৩য় স্থানঅধিকারী প্রতিষ্ঠানকে পুরস্কৃত করা হয়। এছাড়াও অংশগ্রহণকারী সকল প্রতিষ্ঠানসমূহের মাঝে সনদ পত্র বিতরণ করা হয়। সনাক কুমিল্লার ইয়েস সদস্যদের পরিবেশনায় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে মাধ্যমে সভার সমাপ্তি ঘোষনা করা হয়।