লিখে যেতে চাই নিরন্তর

মোহাম্মদ কেফায়েত উল্লাহ:

লেখালেখি শুরু করেছিলাম ১৯৯৪ সালে। সেটা গণমাধ্যমেই। সাহিত্য বিষয়ক প্রবন্ধই প্রথম লিখেছিলাম। চট্টগ্রামের পত্রিকা দৈনিক আজাদী সে প্রবন্ধটি ছেপেছিল তাদের সাহিত্য পাতায়। প্রবন্ধটি ছাপানোর খবর আমাকে জানিয়েছিল হলের এক বড় ভাই। তখন আমি হলের পাশের একটি দোকান থেকে সকালের নাস্তা সেরে অন্য বন্ধুদের সাথে হলে ফিরছিলাম। হলের প্রবেশ গেটে আসতে আসতে ইতোমধ্যে আমাকে বিষয়টি সিনিয়র জুনিয়রদের অনেকেই জানিয়েছে এবং সে সাথে তারা শুভেচ্ছা জানাতে ভুল করেনি। বিষয়টি আমি বেশ উপভোগ করছিলাম। নিজের মধ্যে প্রচণ্ড একটা ভালোলাগা কাজ করছিল। ইতোমধ্যে হলের গেটে পৌঁছে গেলাম। অনেকেই সেখানে জটলা পাকাচ্ছিল। তারা আমাকে পত্রিকায় ছাপানো প্রবন্ধটি দেখার সুযোগ করে দিল। আমি নিজ চোখে নিজেরই লেখা প্রবন্ধ ছাপানো দেখে কী যে ভালো লাগার আবেশে মনটা ভরে গেলো সেটা বোঝানোর ভাষা সে সময়তো আমার জানা ছিলনা, এমনকি আজও আমি সেটা আয়ত্ত করতে পারিনি।

 

বলে রাখা ভালো, আমি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলাম। সে সময় (যে দিনের ঘটনা বর্ণনা করছি) আমি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আলাওল হলের ১০৫ নম্বর কক্ষের আবাসিক ছাত্র ছিলাম। হলের গেটে প্রতিদিন ভোরবেলা সূর্য ওঠার কিছুক্ষণের মধ্যেই চট্টগ্রামের আঞ্চলিক পত্রিকা দৈনিক পূর্বকোণ, দৈনিক আজাদী, দৈনিক নয়াবাংলা, দৈনিক ঈশান ও দৈনিক কর্ণফুলী প্রভৃতি পত্রিকা ছাত্রদের পড়ার জন্য দিয়ে যেত পত্রিকার হকার। সে সময় আমরা জাতীয় পত্রিকা পড়তাম বিকেল বেলা। সকাল বেলা ঢাকার পত্রিকা পড়ার সুযোগ ছিলনা। ঢাকার পত্রিকা তখন বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সকাল এগারোটার পরে এসে পৌঁছাতো। পত্রিকার এজেন্ট সেগুলো হলে হলে পৌঁছাতে দুপুর ১ টা/২ টা বেজে যেতো। আমরা অধিকাংশ শিক্ষার্থীরা দুপুরের খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে পড়তাম কিংবা প্রয়োজনীয় পড়াশোনা করতাম। বিকেল বেলা আছর নামাজ পড়ে ঘুরতে বের হতাম। আমাদের ঘোরার জন্য আদর্শ জায়গা ছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের খেলার মাঠ। অধিকাংশ সময় সুর্যাস্তের আগেই আমরা হলে ফিরতাম। কখনো সখনো একটু পরে ফিরতাম। সন্ধ্যায় হলে ফিরেই আমি সাধারণত হলের পাঠাগারে পত্রিকা পড়ার কক্ষে যেতাম। এক থেকে দেড় ঘণ্টা পত্রিকা পড়ার পর রাতের খাবার খেয়ে তবেই নিজ কক্ষে যেতাম।

 

যাহোক, আবার ফিরে যাই আমার স্মৃতিময় সেই দিনে। হলের গেটে প্রতিদিনের মতো সকাল বেলার পত্রিকা পড়া শেষ করে নিজের রুমে ফিরে গেলাম। রুমে আসার কিছুক্ষণের মধ্যেই আমার বন্ধুদের এবং সিনিয়র জুনিয়র ঘনিষ্ঠদের অনেকেই এক এক করে আসতে লাগলো আমার রুমে। সবাই আমাকে শুভেচ্ছা জানাচ্ছিল। সবাই মিলে ধরে বসলো কিছু খাওয়ানোর জন্য। এক পক্ষ উল্টে বসলো আমাকে খাওয়াবে বলে। শেষ পর্যন্ত একটা হালকা পাতলা খাওয়া দাওয়া হয়ে গেল। সেই দিনটি ছিল শুক্রবার। অন্যদিনের মতো দুপুর বেলা খেয়েদেয়ে যথারীতি ঘুমিয়ে নিলাম। বিকেল বেলা গেলাম আমার প্রিয় এক শিক্ষকের বাসায়। আমার লেখা পত্রিকায় ছাপা হয়েছে দেখে স্যার খুব আনন্দ প্রকাশ করলেন এবং ভবিষ্যতে লেখালেখি চালিয়ে যাওয়ার জন্য উৎসাহিত করলেন। স্যার নিজের লেখালেখির অনেক গল্প শুনালেন। ইতোমধ্যে ভাবী (স্যারের ওয়াইফ) নাস্তা নিয়ে আসলেন। ভাবী জানালেন, তিন খুব খুশি হয়েছেন। খুশিতে তিনি আমার জন্য বিশেষ বিশেষ নাস্তা বানিয়েছেন। আজ আমাকে সেগুলো সব খেতে হবে। স্যার ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ে আমার সরাসরি শ্রেণী শিক্ষক আবার আমার আত্মীয়ও। মূলত পত্রিকায় লেখালেখির পুরো বিষয়টি তাঁর কাছ থেকেই দেখেছি এবং শিখেছি। মূল উৎসাহটাও পেয়েছি তাঁরই কাছ থেকে। যদিও তাঁর কাছে কখনো মুখ ফুটে বলতে পারিনি আমিও পত্রিকায় লিখতে চাই। তাঁর লেখা অনেক আর্টিকেল/ প্রবন্ধ আমি প্রায়শই চট্টগ্রামের বিভিন্ন পত্রিকা অফিসে পৌঁছে দিতাম। তাঁর লেখার গঠন-শৈলি দেখে দেখেই নিজেই লেখা শুরু করলাম এবং উনার মতো করেই পত্রিকা অফিসের বক্সে রেখে এলাম। ততদিনে আমি বেশ কয়েকটি প্রবন্ধ লিখে ফেলেছি। কিন্তু পত্রিকা অফিসের বক্সে রেখে এসেছি মাত্র একটা লিখা। ওই লিখা ছাপা হওয়ার সাথে সাথে আমার আত্মবিশ্বাস বেড়ে গেল অনেক খানি। তারপর আরও কয়েকটি প্রবন্ধ পাঠালাম চট্টগ্রামের পত্রিকা অফিসগুলোয়। সেগুলোও যথারীতি প্রকাশিত হলো। ফলে আত্মবিশ্বাস বেড়ে গেল অনেক অনেক গুণ বেশি। এবার ঢাকা থেকে প্রকাশিত জাতীয় দুটো পত্রিকায় লিখা পাঠালাম। সেগুলোও যথারীতি প্রকাশিত হলো। এ পর্যায়ে নিজেকে মোটামুটি নিয়মিত লিখিয়ে হিসেবে ভাবতে শুরু করলাম। ইতোমধ্যে গণমাধ্যমের কর্মী হিসেবেও কাজ শুরু করলাম। লেখালেখির এ ধারাবাহিকতা অব্যাহত রেখেছিলাম নিরানব্বই সাল পর্যন্ত।নিজেকে জড়িয়ে ফেলি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস পত্রিকাসহ স্থানীয় ও জাতীয় কয়েকটি প্রিণ্ট মাধ্যমের সাথে।

মাস্টার্সের বছর লেখালেখির অবস্থা ছিল তুঙ্গে। মাস্টার্সে দুশো নম্বরের থিসিস করেছিলাম। লেখালেখির অভ্যেস আর থিসিস- দুটো মিলে হয়ে পড়েছিল সোনায় সোহাগা অবস্থা।

 

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে বেশ কয়েকজন ভালো লিখিয়ে হিসেবে পরিচিতি পেয়েছিল সে সময়। তাদের অনেকের সাথেই আমার সখ্যতা ছিল। সাহিত্য চর্চা ও লেখালেখি সংক্রান্ত বিভিন্ন সংগঠনের সাথে আমি জড়িত ছিলাম। তন্মধ্যে সবচেয়ে বড় সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের পরিচালকের দায়িত্ব পালন করেছিলাম দু’বছর। দায়িত্ব পালনকালীন সময়ে দু’বছর দুটো বড় বড় সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক উৎসব আয়োজন করেছিলাম। প্রতিটি উৎসব ছিল তিন দিনের। কবি আল মাহমুদ, সৈয়দ আবদুল মান্নান, আলাউদ্দিন আল আজাদ, রফিক আহমেদ, প্রফেসর মনিরুজ্জামান,কবি শাহাবুদ্দিন, আব্দুস শাকুর, বিচারপতি আবদুল কুদ্দুসসহ অনেক খ্যাতিমান লেখক, কবি-সাহিত্যিক, শিক্ষাবিদ ও গুণীজন উৎসবে অংশগ্রহণ করেন। স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ের অনেক নাট্য ও শিল্পীগোষ্ঠী তাদের সেরাটুকু উৎসবের মঞ্চে অবলীলায় সমর্পণ করেছিলেন। সে যাইহোক, শিক্ষার্থীদের মধ্যে আমরা যারা লেখালেখি করতাম হাতের লিখাই ছিল আমাদের একমাত্র অবলম্বন। লিখা অবশ্যই পরিচ্ছন্ন হতে হবে- এটার সাথে কোন আপোষ ছিলনা। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মধ্যেও অনেকেই হাতে লিখতেন। টাইপ করতে যাওয়াটা অনেক ঝামেলার বিষয় ছিল এবং সময় সাপেক্ষ ও ব্যয়বহুল ছিল সে সময়। সুন্দর হস্তলিখনী লেখক মাত্রেরই সাধারণ বৈশিষ্ট্য ছিল সেকালে।

 

ছাত্রাবস্থায় আমি লেখালেখি ছেড়ে দিইনি কখনো। বাড়িঘরে গেলেও লেখালেখি করেই যেতাম। ডাকযোগে পত্রিকায় পাঠিয়ে দিতাম। বই পড়তাম প্রচুর। আমার ঘনিষ্ঠ এক আত্মীয়ের লাইব্রেরি ছিল আমাদের বাজারে। ছাত্র বন্ধু লাইব্রেরি। সে সময় আমাদের উপজেলায় এটা সবচেয়ে বড় লাইব্রেরি ছিল। আমাদের বাড়ি উপজেলা সদরের সন্নিকটে হওয়ায় দিনের বড় একটা অংশ বই পড়ে কেটে যেত এ লাইব্রেরিতেই। হুমায়ুন আহমেদ, ইমদাদুল হক মিলন, বুদ্ধদেব, সমরেশ, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়সহ অনেক দেশী-বিদেশী বাংলা সাহিত্যের কত নাটক, উপন্যাস ও গল্পের বই আমি পড়েছি তার ইয়ত্তা নেই। এমনকি একদিনেই একাধিক বই পড়ে ফেলতাম। একটি বই পড়া শুরু করলে সেটা শেষ না করে আমি খেতে পারতামনা, ঘুমাতেও পারতামনা। বলে রাখা ভালো, সে সময় নোবেল কিংবা গল্পের বই পড়া ছেলে মেয়েদের একটা স্বাভাবিক অভ্যেস ছিল। এসব বইয়ের বিকিকিনি হতো প্রচুর। ছেলে মেয়েরা তাদের নিত্যকার খরচের বড় অংশ ব্যয় করতো এসব বই কেনার পেছনে। তারা পরস্পরকে উপহার হিসেবে দিতো এসব বই। বই তাদের মধ্যকার সম্পর্কে উষ্ণতা এনে দিতো। এনে দিতো প্রেম শেষ পর্যন্ত পরিণয়। এই বই’ই ছিল বিনোদনের শ্রেষ্ঠ মাধ্যম সেই দিনগুলোতে।

 

যতদিন বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ছিলাম ততদিন লেখালেখি করতে পেরেছিলাম নির্বিঘ্নে। মাস্টার্সের রেজাল্ট বের হওয়ার পর কেন জানি মন চাইছিলনা আর ক্যাম্পাসে থাকি। মনের চাপাচাপিতে বাধ্য হয়ে এক বন্ধুর সাথে জোট বেঁধে চট্টগ্রাম শহরে এসে পড়লাম। মনের মধ্যে চাপ অনুভব করতে লাগলাম এখন আর বাড়িতে টাকা চাওয়া যাবেনা। সে চাপ থেকেই প্রতিদিন সকাল বিকেল নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি খুঁজতে শুরু করে দিলাম। আপাতত চট্টগ্রাম শহরের মধ্যে ছোটখাটো কোন চাকরি পেলেই খুশি আমি। সেই ভাবনা থেকেই প্রতিদিন সকাল বেলা চট্টগ্রামের পত্রিকা দৈনিক পূর্বকোণ ও আজাদি নিয়ম করে পড়তে লাগলাম। পত্রিকায় যে যাই পড়ুক না কেন আমার দৃষ্টি থাকতো স্থানীয় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির দিকেই। তখন চট্টগ্রাম ছাড়া অন্যদিকে যাওয়ার মতো চিন্তা ভাবনা ছিলনা। মূলত চট্টগ্রামের বাহিরে রাজধানী ঢাকা শহর কিংবা অন্য জায়গাতো চেনা জানাই ছিলনা। যাহোক পত্রিকা পড়ে পড়ে কয়েক জায়গায় চাকরির আবেদন করে ফেললাম। প্রাইভেট শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও প্রাইভেট কোম্পানিতেই আবেদন করেছিলাম। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কয়েকটিতেই লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা দিলাম কিন্তু কোনটিতেই চাকরি হলোনা। নিজের মধ্যে বিরক্তি আসতে শুরু করলো। আবার খোঁজ নিলাম ওসব প্রতিষ্ঠান কাদের নিয়োগ দিয়েছে। খোঁজ নিয়ে দেখতে পেলাম ওসব প্রতিষ্ঠান যাদের নিয়োগ দিয়েছে, যতটুকু জানি ওরা ছাত্রজীবনে অন্তত মানসম্মত ছিলনা। খোঁজ খবর নিয়ে জানতে পারলাম ওসব প্রতিষ্ঠানের কোন কোন পরিচালক চাকরি প্রার্থীদের অমুক তমুকের আত্মীয়। নিজেকে ধিক্কার দেয়া শুরু করলাম খামোকা একশো টাকা ব্যাংক ড্রাফট গচ্ছা দেওয়ার জন্য। সে সময় একশো টাকার ব্যাংক ড্রাফট করতে গিয়ে কি রকম ঝামেলা পোহাতে হতো তা ভুক্তভোগী ছাড়া কেউ জানেনা। তার উপর আবার ব্যাংক ফিক্সড করে দিতো মালিক পক্ষ। ফিক্সড ব্যাংক থেকে ড্রাফট করতে অনেক সময় দূরের কোন ব্যংকে যেতে হতো। প্রায় প্রতিটি দিনই কেটে যেতো কোন না কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য। হয়তো ব্যাংক ড্রাফট করতে গেছি নাহয় এপ্লিকেশন জমা দিতে গিয়েছি। এভাবেই প্রায় দু’মাস চলে যায় আপাতত বেকারত্ব ঘোচানোর আপ্রাণ প্রচেষ্টায়। কিন্তু দিনশেষে দেখা যায় হিসেবের খাতায় শূন্য। হতাশা ভর করতে শুরু করেছে। এরই মধ্যে ইন্টারভিউ দিলাম দেশের একটি বড়সড় প্রাইভেট কোম্পানির মার্কেটিং বিভাগে। ইন্টারভিউ’র দু’দিনের মাথায় একটা নিয়োগ পত্র হাতে পেলাম। বিরক্ত মনটা ভালো হয়ে গেল আপাতত বেকারত্ব ঘুচবে বলে। যথারীতি যোগদান করলাম। কোম্পানি দু’দিন ওরিয়েন্টেশন ক্লাস করালো। আমাকে পাঠিয়ে দিলো সিলেট। খুশি মনে চলে গেলাম। এক সপ্তাহ পর ফিরে এলাম। একদিন চট্টগ্রাম ছিলাম। এবার পাঠালো ময়মনসিংহ ও টাঙ্গাইল। গেলাম যথারীতি। এভাবে চলতে লাগলো দেশের এ শহর থেকে ওই শহর। ছুটে চললাম আমি। ভালই লাগে। ভাবখানা এমন, বেশ আছি,ভালোই আছি। কোম্পানির টাকায় ঘুরছি, দেশটা দেখছি, মাস শেষে বেতন পাচ্ছি। পুরো দিন ঘুরি, রাতে হোটেলে এসে ঘুমাই। টিভিতে কিছুক্ষণ সিনেমা দেখি। দিনগুলো মোর কেটেই যাচ্ছে। ভুলে গেলাম, এই আমি এক সময় লেখালেখি করতাম। মেধাবী ছাত্র ছিলাম একথাটি ঘূর্ণাক্ষরেও মনে পড়তোনা। একসময় মার্কেটিংয়ের চাকরি ছেড়ে দেশের বৃহত্তম এন জিও ব্র‍্যাকে যোগদান করলাম। সেখানেও আমার একই অবস্থা। আমি যথারীতি চাকরি করি, খাই আর ঘুমাই। মনে পড়েনা, এক সময় আমি লেখালেখি করতাম। মনে পড়েনা, এক সময় এই আমি বই পড়া শেষ না করে খেতামনা, ঘুমাতে পারতামনা।

 

কর্মজীবনে প্রবেশ করলাম। জীবনের জন্য যুদ্ধ শুরু করলাম। বিয়েশাদি করলাম। সংসার হলো। সন্তান হলো। জীবন থেকে অনেকগুলো বছর কেটে গেলো। অন্যায় আর অনিয়মের অন্ধকারেই হাবুডুবু খাচ্ছি। সততা,স্বচ্ছতা আর পরিচ্ছন্নতার অদ্যাবধি কোন কুলকিনারা হলোনা। অনিশ্চিত এক আগামীর পথে হাটছিতো হাটছিই। আলোর সন্ধান চাই আমি। দুর্ভাগ্য, পাইনা সেই আলোর সন্ধান।

 

লিখতে পারিনা। কলম, তারে আমি ধরে রাখতে পারিনা। সামান্য কলম, সেও আমার কথা শোনেনা। কত্তকিছু মনে আসে, কিন্তু লিখতে পারিনা। রাজনীতি, অর্থনীতি, সমাজনীতি, বাজারনীতি আরও কত্ত কী। সমসাময়িক নয়তো প্রাসঙ্গিক, কত্তকিছু মনের কোণে উকি মেরে যায়। কিন্তু, কোন কিছুই লিখতে পারিনা।

 

ব্র‍্যাকে চাকরি করাকালে আমি তিনবার হুণ্ডা এক্সিডেণ্ট করি। সর্বশেষ এক্সিডেণ্ট করি ২০১৪ সালে। এক এক্সিডেণ্টেই ঘরে বসে থাকি প্রায় এক বছর। ব্র‍্যাকে না ফেরার সিদ্ধান্ত নিই। শুভাকাঙ্ক্ষীদের পরামর্শে স্থানীয় একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যোগ দেই। বছর দুয়েক সে প্রতিষ্ঠানে কাটিয়ে যোগ দিই স্থানীয় আরেকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে। স্থানীয় একটি মহিলা কলেজে প্রধান হিসেবে যোগ দিই। বছর কয়েক না যেতেই আসে মহামারি করোনা ‘ কোভিড-১৯’। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যায় অনির্দিষ্টকালের জন্য। সময় কাটেনা। আবার ভাবি, লেখালেখি শুরু করবো কিনা। ভাবতে ভাবতে আবার শুরু করলাম লেখালেখি-আবার শুরু করলাম হারিয়ে যাওয়া পুরনো চর্চা। বহাল আছি আজও সেই পুরনো চর্চায়। ইচ্ছে আছে লিখে যাবো অনাগত দিনগুলোতে, ইনশাআল্লাহ। লিখে যেতে চাই নিরন্তর। কায়মনোবাক্যে আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের কাছে প্রার্থনা করি,যেন দান করেন সেই শক্তি ও সামর্থ্য। আমীন।

Share on facebook
Share on twitter
Share on whatsapp
Share on print

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

পাঠক প্রিয়