মুক্ত গদ্য পরচর্চা: হৃদয় পুড়াতে যথেষ্ট

মো. ওমর ফারুক: সৃষ্টির সূচনা লগ্ন থেকে মানুষ সঙ্গ প্রিয়তা পছন্দ করে আসছে। তাইতো মহাপন্ডিত এরিস্টটল বলেন, “যে সমাজে বাস করে না সে হয় পশু না হয় দেবতা।” আমরা সমাজবদ্ধ মানুষেরা পারস্পরিক সম্পর্কের বেড়া জালে আবদ্ধ। চন্দ্র সূর্যের আলোয় আমরা একটি হৃদয়ের অনুভূতি জানতে এবং জানাতে খোশ গল্পে অনেকখানি সময় খরচ করে থাকি । কিন্তু বেদনার নীল রঙ আমার হৃদয়কে ছুঁয়ে যায়, যখন আকাশে বাতাসে ধ্বনিত হয় পরনিন্দা। পরচর্চা ব্যতিত আলোচনার মুগ্ধতা মগজের কোষে কোষে গেঁথে থাকে দীর্ঘ সময় ধরে।

 

প্রচলিত বাক্য, “বোবার কোন শত্রু নেই”। অর্থাৎ যে জন যত কম কথা বলেন তার শত্রুর সংখ্যা তত কম। আমার মাথায় আরেকটি প্রশ্নের উদয় হলো, বোবা ব্যক্তির মিত্রের সংখ্যা কি অত্যধিক ? আমার মন বলে, যে জন মানুষের সাথে যত কম মিশে তার মিত্রের সংখ্যাও তত কম। মানুষ হিসাবে জন্ম নিয়েছি বলেইতো আমাদেরকে মানবীক সকল গুণ অর্জন করতে হবে। মানুষের সাথে অহমিকা মুক্ত মনে আলাপ করে ভাগ করে নিতে হবে সুখ এবং দুঃখ। তা যদি আবার গীবতে পূর্ণতা পায় তাহলে হৃদয় পুড়াতে সেই আলাপ যথেষ্ট মনে করি।

 

আমাদের মধুর সম্পর্কগুলো দীর্ঘ হয় না কেন ? সেই সম্পর্কের স্বাদ তিতে হয়ে যায় পরচর্চা নামক উপাদানে। আমাদের কথার মালা থেকে যদি ঝেড়ে পেলা যায় পরনিন্দা, তাহলে মিষ্টিময় হবে সম্পর্কগুলো দিন হতে দিন। আমরা প্রত্যেকে অবগত আছি, মানুষ হিসাবে আমরা একে অপরের প্রতি নির্ভরশীল। মিষ্টিময় সম্পর্কের মানুষগুলো সুখে কিংবা দুঃখে পাশে থাকবে, এই ভাবনাটা স্বাভাবিক। তাই পারস্পরিক সম্পর্কের উন্নয়নে পরচর্চা থেকে বিরত থাকতে সকলের প্রতি আহ্বান।

Share on facebook
Share on twitter
Share on whatsapp
Share on print

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

পাঠক প্রিয়