
ষ্টাফ রিপোর্টার,মানিকগঞ্জঃ
মানিকগঞ্জ জেলা শিবালয় উপজেলা মহাদেবপুর গ্রামে ঋষি বাড়ি অষ্ট প্রহর ও কালী পূজার হিসাবের কথা বলে গভীর রাতে নরেশ চন্দ্র দাস (৮৭) ও তার পরিবারের উপর হামলা করার অভিযোগ উঠেছে প্রতিবেশী নিরঞ্জন চন্দ্র দাস ও তার সহযোগীদের উপর। এ ঘটনায় শিবালয় থানায় একটি অভিযোগ দায়ের হয়েছে।ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য নরেশ চন্দ্র দাসের দেওয়া ভাষ্যমতে ,প্রতিবেশী নিরঞ্জন চন্দ্র দাসের সাথে তার দীর্ঘদিন ধরে জমি নিয়ে বিরোধে চলছিল। সেই বিরোধীদের জের ধরে ৮ই জানুয়ারি সোমবার আনুমানিক রাত ১২:৩০ মিনিটে নিরঞ্জন চন্দ্র দাস ও তার সহযোগী সুশীল মুনি দাস, কৃষ্ণ দাস, ভোজন দাস, দিলীপ চন্দ্র দাস, পর্বত দাস মিলন দাস, মনো দাস ,রাধো দাস, নরেশ চন্দ্র দাস, বৃষ্ণুদাস, রিপন দাস, মদন দাস, নারায়ণ চন্দ্র দাস, সুশান্ত মনি দাস ও সাগর দাস সহ আরো ২০/২৫ জন কালী পূজার হিসেবের কথা বলে তাকে ও তার ২ ছেলে ভাগ্য চন্দ্র দাস ও শুকুমার দাসকে ডাকতে থাকে। তিনি অসুস্থ থাকায় দুই ছেলে শুকুমার চন্দ্র দাস ও ভাগ্য চন্দ্র দাস এগিয়ে গেলে তারা সবাই মিলে দুই ছেলেকে বেধরক মারতে থাকে। ছোট ছেলে শুকুমার কোন রকম প্রাণে বেঁচে পালিয়ে গেলেও বড় ছেলে ভাগ্য চন্দ্র দাসকে ওরা সবাই মাটিতে ফেলে এলোপাথাড়িভাবে মারতে থাকে। মারামারির এক পর্যায়ে তারা ঘরে থাকা নগদ অর্থ ও স্বর্ণ অলংকার ছিনিয়ে নিয়ে যায় এমনটি অভিযোগ করে বলেন নরেশ চন্দ্র দাস। তিনি আরো বলেন,ঐ সময় আমার বড় ছেলে ভাগ্য চন্দ্র দাস বেধরক মার খেয়ে জ্ঞান হারিয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়লে তখন আমি ও আমার স্ত্রী, সহ সবাই চিৎকার দেই। তখন আশেপাশের লোকজন এসে আমার ছেলে ভাগ্য চন্দ্র দাস কে চিকিৎসার জন্য উথুলী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন ।অবস্থার অবন্নতি হলে পরে তাকে আমরা মানিকগঞ্জ কর্নেল মালেক মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করি। বেধরক মার খাওয়ার কারণে ভাগ্য চন্দ্র দাসের সারা শরীরে জখম হয়ে গেছে এবং একটি চোঁখ ফুলে গেছে বলে এমনটাই জানান তার বাবা নরেশ চন্দ্র দাস। তিনি আরো বলেন ,আমার ছেলে ভাগ্য এখনো এক চোখ দিয়ে পরিস্কার ভাবে দেখতে পারছে না। ডাক্তার বলেছেন, তাকে উন্নত চিকিৎসা দিতে হবে। এতে অনেক টাকার।প্রয়োজন। কিন্তু এত টাকা আমরা কোথায় পাব। আমরা গরীব মানুষ ,দিন আনি দিন খাই।থানায় অভিযোগ করেও ভয়ে বাড়ীতে যেতে সাহস পাচ্ছি না । কারন ওরা আমাকে ও আমার পরিবারের সকলকেই প্রতিনিয়ত নানানভাবে হুমকি -ধামকি দিয়ে যাচ্ছে। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই। ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে দিলিপ চন্দ্র দাসের ছেলে ভোজন দাস বলেন, অষ্ট প্রহর ও কালি পূজার হিসেবের জন্য আমরা সমাজের সবাই মিলে নরেশ চন্দ্র দাস ও তার ২ ছেলে শুকুমার ও ভাগ্য চন্দ্র দাস কে ডাকি । কিন্তু নরেশ অসুস্থ থাকায় দুই ছেলে ভাগ্য চন্দ্র দাস ও শুকুমার চন্দ্র দাস আমাদের সাথে চলে আসে। রাত তখন আনুমানিক ১২ঃ৩০ ছিল। হিসেবের এক পর্যায় নরেশের বড় ছেলে ভাগ্য চন্দ্র দাস আমার বাবার সাথে খারাপ আচরণ করলে সমাজের সবাই মিলে তাকে শাসন করার লক্ষে মারধোর করি। এ বিষয়ে শিবালয় থানার মামলার তদন্ত অফিসার এসআই বজলুর রশীদের নিকটে জানতে চাইলে তিনি বলেন, অভিযোগ পেয়েছি। ঘটনার তদন্ত চলছে। তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে।









