চবিতে দিনব্যাপী ‘বিহারি পিঠা’ বিক্রয় কার্যক্রম সম্পন্ন করল ‘সৌজন্য

‘সৌজন্য’র উদ্যোগে গতকাল সোমবার (১৩নভেম্বর) চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে দিনব্যাপী বিহারি পিঠা বিক্রয় কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।

সম্পূর্ণ স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে, বিহারি নারীদের আপন হাতে তৈরি পিঠা পরিবেশনের মাধ্যমে চট্টগ্রামে অবস্থিত পিছিয়ে পড়া সুবিধাবঞ্চিত বিহারি জনগোষ্ঠীর বর্তমান পরিস্থিতি, সমস্যার কথা ছাত্র-ছাত্রীদের জানানো এবং বিহারি সম্প্রদায়ের জন্য একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠনের আবেদনের উদ্দেশ্যে ‘সৌজন্য’র এই কার্যক্রম।

‘সৌজন্য’ পিছিয়ে পড়া বিহারি নারীদের স্বাবলম্বী করতে, বিহারী সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী পিঠা চট্টগ্রামের মানুষের কাছে জনপ্রিয় করার স্বপ্ন দেখে। ‘সৌজন্য’র মূল উদ্দ্যেশ্য কখনোই পিঠা বিক্রি নয়, তাদের উদ্দ্যেশ্য নারী ক্ষমতায়নের সঙ্গী হওয়া। বিহারী সম্প্রদায়ের গল্প পৌছিয়ে দেওয়ার উদ্দ্যেশ্যে প্রথমবারের মতো ‘সৌজন্য’ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে বিহারি নারীদের আপন হাতে, সম্পূর্ণ স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে বানানো ঐতিহ্যবাহী ‘বিহারি পিঠা’ বিক্রি কার্যক্রম বাস্তবায়িত করে। সারাদিনের অদম্য আগ্রহের উচ্ছাস নিয়ে সফলভাবে সম্পূর্ণ হয় তাদের কার্যক্রম, বিক্রি হয় বিহারী নারীদের হাতে তৈরি প্রতিটি পিঠা। প্রতিটি ক্রেতা উপভোগ করে বিহারি স্বাদ এবং তারই সাথে চট্টগ্রামের বিহারিপল্লির নারীদের গল্প শুনে অবাক হয় অনেকে। বুঝতে পারে এখনো ঘরে ঘরে পৌছাইনি সমান অধিকার, এখনো জড়তা ভাঙেনি অর্ধাঙ্গিনী, বোনেদের। পিঠা খাওয়া শেষে বিহারিপল্লির নারীদের জন্য ক্রেতারা রেখে যান অসংখ্য বার্তা, যেখানে শুভকামনা থেকে শুরু করে তাদের পাশে দাঁড়ানোর প্রতিশ্রুতি জানান অনেকেই।

সৌজন্য’র সদস্যদের মতে, সৌজন্য শুধুমাত্র একটি উদ্যোগ নয়, একটি প্রতিশ্রুতি। স্বপ্ন দেখা প্রতিটি নারীর আশার আলো হয়ে তাদের জীবনকে রাঙানোর। শুরুটা বিহারি সম্প্রদায়ের নারীদের নিয়ে, এরপরের পথটা আরো বিশাল। সৌজন্যে’র মাধ্যমে পরিবর্তনের গল্পের শুরুটা হলো চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে যা ছড়িয়ে দেওয়া বাকি গোটা চট্টগ্রামে হয়তোবা পুরো বাংলাদেশে।

সৌজন্য’র সহ প্রতিষ্ঠাতা সুইটি দেওয়ান বলেন,সবকিছু সমন্বয়ে নিয়ে এসে, আমরা সৌজন্য যে প্রথম উদ্যোগে সফল হলাম, তার জন্য অনেক অনেক খুশি এবং নিশ্চিন্ত! সবথেকে খুশি এটা ভেবে যে, সাধারণ মানুষ বিহারি জনগোষ্ঠী তথা বিহারি নারীদেরকে সাদরে গ্রহণ করছেন, তাদের ক্ষমতায়নের রাস্তাটা প্রশস্ত করতে আমাদের পাশে দাঁড়াচ্ছেন।”

আরেক সহ-প্রতিষ্ঠাতা আহনাফ সাফিন বলেন, সৌজন্য একটি স্বপ্নের বাস্তবায়ন। আজ বিহারি সম্প্রদায়ের পিঠা উপস্থাপন করার মাধ্যমে আমরা একটি মাইলফলক স্পর্শ করেছি। আমরা খুবই উচ্ছ্বসিত এতো অভূতপূর্ব সাড়া পেয়ে। আশা রাখছি সামনের দিনগুলোতেও এই ধারা আমরা অব্যাহত রাখতে পারবো’

Share on facebook
Share on twitter
Share on whatsapp
Share on print

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

পাঠক প্রিয়