বাঁধন, সরকারি সা’দত কলেজ ইউনিট এর ২৬তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালন 

মোঃ মুসফিকুর রহমান , সরকারি সা’দত কলেজ প্রতিনিধি।

 

১৯৯৭ সালের ২৪ অক্টোবর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদুল্লাহ্ হল থেকে মোঃ শাহীদুল ইসলাম রিপন ও তার কিছু বন্ধু মিলে রক্তের গ্রুপ নির্ণয় কর্মসূচীর মাধ্যমে শুরু হয় এই সংগঠনটির পথচলা । “একের রক্ত অন্যের জীবন, রক্তই হোক আত্মার বাঁধন” এই স্লোগানকে বুকে ধারন করে বাঁধনের অগ্রযাত্রা শুরু হয়। এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গন্ডি পেরিয়ে বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় এবং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে বাঁধন (স্বেচ্ছায় রক্তাদাতাদের সংগঠন) এর যাত্রা শুরু হয়। তারই ধারাবাহিকতায় ২০০১ সালের ১৪ এপ্রিল সরকারি সা’দত কলেজে “বাঁধন” সংগঠনের যাত্রা শুরু হয়। বাঁধন’র প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী মূলত ২৪ অক্টোবর হলেও কেন্দ্রীয় পরিষদের সিদ্ধান্তক্রমে তা ০২ নভেম্বর পালন করা হয়। তারই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার (০২ নভেম্বর, ২০২৩ইং) “বাঁধন” সরকারি সা’দত কলেজ শাখা ইউনিট ২৬তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালন করে।

 

উক্ত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অত্র কলেজর অধ্যক্ষ প্রফেসর সুব্রত নন্দী, উপাধ্যক্ষ প্রফেসর সুলতান আহম্মেদ, শিক্ষক পরিষদ সম্পাদক জনাব মোঃ মোশারফ হোসেন, বাঁধন‘র শিক্ষক উপদেষ্টা জনাব মাহফুজর রহমান দোলন (সহকারী অধ্যাপক, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ, সরকারি সা’দত কলেজ), বাঁধন’র সভাপতি শেখ সাইফুল্লাহ, সাধারণ সম্পাদক আবু নাঈম সহ কার্যকরি পরিষদ-২০২৩ এর সকল সদস্য, বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কলেজ শাখা ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দ।

 

অধ্যক্ষ মহোদয় বলেন, রক্তদান একটি বিশাল মানবতা মূলক কাজ। তাই এই কাজে কখনো বিরক্ত না হতে আহবান জানান এবং যারা রক্ত দেয় তাদের স্বীকৃতি প্রদান করতে চান। এমনকি যারা বাঁধনের সাথে যুক্ত তাদের বিভাগ ভিত্তিক আলাদা করে কলেজ থেকে সার্টিফিকেট প্রদান করার কথাও জানান।

 

বাঁধন’র সভাপতি শেখ সাইফুল্লাহ বলেন, বাঁধন মূলত মুমূর্ষু রোগীদের বিনামূল্যে রক্তদান করে থাকে। কিন্তু এর লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হচ্ছে মানুষকে রক্তের গ্রুপ জানিয়ে দেয়া এবং রক্তদানে অনুপ্রাণিত করা। গত জানুয়ারী-ডিসেম্বর ২০২২ এর তথ্য মতে, মোট রক্তদান ৬৫১ব্যাগ, বিনামূল্যে রক্তের গ্রুপ নির্ণয় করা হয় ৬,৫৭৭টি, উক্ত বছরে নতুন রক্তদাতা বৃদ্ধি পেয়েছে ২০১জন এবং উক্ত বছর ০৫টি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এছাড়া দুস্থদের ঈদ সামগ্রি বিতরন, বন্যার্তদের ত্রান, বৃক্ষরোপন কর্মসূচী, শীতার্তদের মাঝে বস্ত্র প্রদান সহ সমাজের সকল সামাজিক কাজ গুলোতে স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ করে থাকে। বাঁধন স্বপ্ন দেখে সেদিনের যেদিন বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষ তাঁর নিজের রক্তের গ্রুপ জানবে এবং স্বেচ্ছায় রক্তদানে এগিয়ে আসবে। সে স্বপ্নকে বাস্তবে রুপ দেয়ার জন্য বাঁধনের কর্মীরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

 

এরপর আনন্দ র‌্যালি ও কেক কর্তনের মাধমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষনা করা হয়।

Share on facebook
Share on twitter
Share on whatsapp
Share on print

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

পাঠক প্রিয়